জিএসটি ২.০ সংস্কারে উৎসবে রেকর্ড বিক্রি, অর্থনীতিতে জোরদার গতি: নির্মলা সীতারামন

নয়াদিল্লি, ১৮ অক্টোবর – জিএসটি ২.০ সংস্কার দেশের অর্থনীতিকে এক নতুন গতি দিয়েছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিনি জানান, উৎসব মরসুমে ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল ও কনজিউমার গুডস-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে রেকর্ড বিক্রি হয়েছে। আজ দিল্লিতে ‘জিএসটি বচত উৎসব’ উপলক্ষে আয়োজিত এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন। এই সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “জিএসটি হার হ্রাসের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে। জিএসটি ২.০ সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বেড়েছে, যার ফলেই চাহিদা ও বিক্রি—উভয় ক্ষেত্রেই বিস্ময়কর বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।”

এই অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, এ বছরের নবরাত্রি উৎসবে রেকর্ড বিক্রির নজির তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার নবরাত্রিতে ইলেকট্রনিক্স বিক্রি ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া, জিএসটির কারণে খাদ্যদ্রব্যের দামও হ্রাস পাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর।” পাশাপাশি বৈষ্ণব জানান, “ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর চাহিদা বাড়ার ফলে উৎপাদন খাতও বড়সড় লাভের মুখ দেখছে।”

বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, “এই নবরাত্রিতে গাড়ি বিক্রিতে বিশাল ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ইলেকট্রনিক্স সেক্টরে সমস্ত আগের রেকর্ড ভেঙে গেছে।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বজুড়ে যখন আর্থিক অস্থিরতা চলছে, তখন ভারতের বৃদ্ধির গতি এতটাই শক্তিশালী যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল পর্যন্ত ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৬.৬ শতাংশ করেছে।”

‘জিএসটি বচত উৎসব’-এর মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য হলো ভোক্তাদের সচেতন করা যে, কর হ্রাসের সুবিধা যেন সঠিকভাবে তাদের কাছে পৌঁছায়। সরকারের দাবি, জিএসটি সংস্কারের ফলে বাজারে ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে এবং উৎসবের বাজারে তারই প্রমাণ মিলেছে।

চলমান উৎসব মরসুমে রেকর্ড বিক্রির এই পরিসংখ্যান ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য। সরকার বলছে, উন্নত কর ব্যবস্থা, উৎপাদন সহায়ক নীতিমালা এবং চাহিদাভিত্তিক বাজারই ভবিষ্যতের ‘বিকশিত ভারতের’ রূপরেখা তৈরি করছে।