কম্বোডিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে তিন বছরের শিশু বার্ড ফ্লু আক্রান্ত, ২০২৫ সালে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬

কম্বোডিয়া, ১৭ অক্টোবর: বার্ড ফ্লুতে (এইচ৫এন১) আক্রান্ত হয়ে কম্বোডিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের কম্পং স্পেউ প্রদেশের তিন বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এর ফলে চলতি বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬।

কম্বোডিয়ার জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরীক্ষায় ১৫ অক্টোবর ওই শিশুর দেহে এইচ৫এন১ ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে বলে বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শিশুটির মধ্যে জ্বর, ডায়ারিয়া, কাশি এবং পেট ব্যথার লক্ষণ দেখা গেছে। বর্তমানে সে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। শিশুটির বাড়ি বেসেথ জেলার চেক গ্রামে। তদন্তে জানা গেছে, শিশুটি অসুস্থ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার এবং প্রতিবেশীর বাড়িতে মুরগি ও হাঁস অসুস্থ হয়ে মারা যায়। এটি থেকেই সংক্রমণ ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কম্বোডিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংক্রমণের উৎস চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করেছে এবং আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাইরাসটি না ছড়ায়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ‘ট্যামিফ্লু’ নামক অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে সংক্রমণ ঠেকাতে। ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত কম্বোডিয়ায় ১৬ জন এইচ৫এন১ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-র মতে, অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু একটি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের উপপ্রকার, যা সাধারণত পাখিদের মধ্যে ছড়ায়, তবে বিরল ক্ষেত্রে মানুষও আক্রান্ত হতে পারেন।

এইচ৫এন১ ভাইরাসের গুজ/গুয়াংডং লাইনেজ প্রথম ১৯৯৬ সালে ধরা পড়ে এবং তখন থেকেই এটি বিভিন্ন দেশে পাখিদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে আসছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক জনগণকে অসুস্থ পাখির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দেশজুড়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে যাতে ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকানো যায়।