আইজল, ১০ অক্টোবর : বৈরাবি–সাইরাং রেলপথ চালুর পর মিজোরামে ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। মিজোরাম পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৩ই সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যে ৪,১০০-র বেশি পারমিট ইস্যু হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, নতুন রেল পরিষেবা মিজোরামে প্রবেশের ভ্রমণপথে বড় পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে কৈলাসিব জেলার বৈরেংটে চেক-গেটে সড়কপথে প্রবেশকারী যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৩০–৪০ শতাংশ কমে গেছে। পাশাপাশি, মিজোরাম ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির মধ্যে চলাচলকারী ম্যাক্সিক্যাব গাড়ির সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে।
রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে. সাপকাংগার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা বৈঠকে জানানো হয়, আইজল সংলগ্ন সাইরাং রেল স্টেশনের চারটি কাউন্টার থেকে ৪,০৬৪টি আইএলপি ইস্যু হয়েছে। এখানে মোট ১৪ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। কৈলাসিব জেলার পুলিশ সুপার ডেভিড এইচ. লালথাংলিয়ানা জানান, তার জেলায় চারটি রেল স্টেশন থেকে মাত্র ৩৮টি পারমিট ইস্যু হয়েছে।
তবে, রাজ্যের অন্যতম ছাত্র সংগঠন মিজো জিরলাই পাউল (এমজেডপি) উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, প্রকৃত যাত্রীসংখ্যার তুলনায় আইএলপি ইস্যুর পরিসংখ্যান যথাযথ নয়। এমজেডপি সভাপতি সি. লালরেমরুয়াতা বলেন, বহু যাত্রী স্টেশন থেকে পারমিট ছাড়াই বেরিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া, আইএলপি কাউন্টারগুলোতে পর্যাপ্ত কর্মী নেই এবং নিষিদ্ধ মদ প্রবেশ রোধে এক্সসাইজ বিভাগের কোনো কর্মকর্তাও উপস্থিত থাকছেন না বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
উল্লেখ্য, বেঙ্গল ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রেগুলেশন, ১৮৭৩-এর আওতায় মিজোরামে প্রবেশের জন্য ইনার লাইন পারমিট বাধ্যতামূলক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৩ই সেপ্টেম্বর রাজ্যের বৈরাবি–সাইরাং রেলপথ উদ্বোধন করেন। একইসঙ্গে, রাজধানী দিল্লির সঙ্গে যুক্ত রাজ্যের প্রথম রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হয় এবং কলকাতা ও গৌহাটির সঙ্গেও নতুন সংযোগ গড়ে ওঠে।

