ইমফল, ১০ অক্টোবর : আসাম-মেঘালয় সীমান্তে ফের রক্তাক্ত সংঘর্ষ। বৃহস্পতিবার পশ্চিম কার্বি আংলং জেলায় সংঘটিত এক সহিংস ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন।
শুক্রবার মণিপুরে দুই দিনের সফরের সময় ইমফলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাংমা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি আসাম ও মেঘালয়ের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিবাদের প্রতিফলন। আমরা আসামের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপে রয়েছি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য। আমি সকলের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি—সহিংসতা নয়, শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান আসতে পারে।
ঘটনাটি ঘটে লাপাংআপ অঞ্চল সংলগ্ন এলাকায়। অভিযোগ, মেঘালয়ের কিছু কৃষক একটি বিতর্কিত অঞ্চলে ধান কাটতে গেলে আসামের তাপাত গ্রামের বাসিন্দারা তা আটকাতে যান। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা রূপ নেয় সহিংস সংঘর্ষে। এই ঘটনায় কার্বি জনগোষ্ঠীর এক ব্যক্তি নিহত হন, আহত হন বহু।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধান কাটার সময় এই ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা আমরা আগেই বুঝতে পেরেছিলাম। তাই দুই রাজ্যের পুলিশ বাহিনী আগেভাগে মোতায়েন ছিল। দু’পক্ষকেই শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। তবুও, এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
আসাম ও মেঘালয়ের মধ্যে ১২টি বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চল রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সাংমা জানান, এর মধ্যে ৬টি অঞ্চল নিয়ে ইতিমধ্যেই সমঝোতা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে কোনো সরকার এতদূর এগোতে পারেনি। আমরা বাকিগুলোর সমাধানের দিকেও অগ্রসর হচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, চাষাবাদের মরসুমে প্রতিবছরই দুই রাজ্যের কৃষকদের সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা স্থানীয়ভাবে আলোচনা, সম্প্রদায় নেতাদের সম্পৃক্ততা এবং শান্তি কমিটির মাধ্যমে বিষয়গুলো মেটানোর চেষ্টা করি।
মুখ্যমন্ত্রী সাংমা সকলকে সংযম বজায় রাখতে এবং সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ উপায়ে এগোলে সরকারও স্থায়ী সমাধানের পথে ভালোভাবে কাজ করতে পারবে। সহিংসতা কেবল আমাদের পিছিয়ে দেয়।
বর্তমান সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে আসাম ও মেঘালয় প্রশাসনের মধ্যে আবারও সমন্বয় ও আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, বহু বছরের পুরনো এই সীমান্ত বিবাদ অবশেষে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধান পাবে।

