আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর : গতকাল গভীর রাতে সাব্রুম মহকুমার মনুঘাটের ইন্দিরা নগর ১ নম্বর ওয়ার্ডের দাসপাড়া সাক্ষী থাকল এক দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায়। রাত আনুমানিক আড়াইটা নাগাদ ভবতোষ দাসের বাড়িতে ডাকাত দল হানা দেয়। ডাকাত দলের হাতে গুরুতর আহত হয়েছে এক যুবক।
পরিবারের সদস্যরা তখন গভীর ঘুমে। হঠাৎ বাড়ির মালিকের ছেলে প্রাকৃতিক কাজে বাইরে বেরোতেই তাকে লক্ষ্য করে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্বৃত্তরা। কাপড়ে মুখ বেঁধে ইট-পাটকেল দিয়ে মাথায় সজোরে আঘাত করা হয় এবং একাধিক ব্যক্তি মিলে তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। অচেতন অবস্থায় মাটিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। আহত যুবক চিৎকার করলে ঘর থেকে ছুটে আসেন তার বাবা ভবতোষ দাস। কিন্তু চারিদিকে তল্লাশি করেও কাউকে দেখা যায়নি। আহত অবস্থায় যুবক জানায়, একাধিক ব্যক্তি মিলে তাকে চেপে ধরে নির্মমভাবে আঘাত করতে থাকে। প্রথমে তাকে সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে পাঠানো হয় শান্তির বাজার জেলা হাসপাতালে।
অবশেষে শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তাকে উদয়পুর গোমতি জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় নেমে এসেছে চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক।স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে মনুঘাট এলাকার বিভিন্ন গ্রামে বাংলাদেশী ডাকাত দলের আনাগোনা বেড়ে গেছে। শুধু তাই নয়, কিছু স্থানীয় অসাধু সমাজবিরোধীকে সঙ্গে নিয়েই তারা ডাকাতি ও হামলার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংগঠিত করছে। রাতের অন্ধকারে সাধারণ মানুষ ভয়ে ঘুমোতে পারছে না। দুর্গাপূজার প্রাকমুহূর্তে এমন ঘটনা মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি করেছে।
এলাকাবাসীর কথায় উঠে এসেছে তাদের অসহায়ত্বের চিত্র। সাধারণ মানুষ মনে করছে, ডাকাতরা রীতিমতো আইনশৃঙ্খলাকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি দেখিয়ে প্রতিনিয়ত দুঃসাহসী কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

