নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর: ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনায় বরফ গলতে শুরু করেছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। আগামী সপ্তাহেই ভারতের প্রধান বাণিজ্য আলোচক রাজেশ আগরওয়ালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটন সফরে যেতে পারেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। এরই মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত বলেই ধরা হচ্ছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভারতের রুশ তেল আমদানি নিয়ে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে কিছু সময়ের জন্য বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত হয়ে পড়ে। তবে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে উভয় দেশ। ট্রাম্প এবং মোদীর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনাও শীঘ্রই হতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে, একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, SCO সম্মেলনে রাশিয়া, ভারত এবং চীনের নেতাদের অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাতের পরেই ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে ভারত-বিষয়ক মনোভাব কিছুটা নরম হয়েছে। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল -এ লিখেছেন, “ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার খুব ভালো বন্ধু প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথা বলার অপেক্ষায় রয়েছি। আমাদের দুই দেশের জন্যই সফল ফলাফল আসবে বলে আমি নিশ্চিত।”
প্রধানমন্ত্রী মোদী এক্স প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্পের পোস্টের জবাবে লেখেন, “ভারত ও আমেরিকা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমি নিশ্চিত যে আমাদের বাণিজ্য আলোচনা দুই দেশের অংশীদারিত্বের সীমাহীন সম্ভাবনা উন্মোচনে সহায়ক হবে। আমাদের দলগুলি দ্রুত আলোচনার কাজ শেষ করার জন্য কাজ করছে।”
সম্প্রতি আমেরিকা ভারতের আমদানি পণ্যের উপর শুল্ক ২৫% থেকে বাড়িয়ে ৫০% করেছে, যা মোদী সরকারের রুশ তেল ক্রয় অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তের জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা পিটার নাভারোসহ একাধিক ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি ইউক্রেন যুদ্ধের পেছনে মস্কোর সামরিক তহবিল জোগাতে সহায়ক হচ্ছে।
তবে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের শক্তি নিরাপত্তা ও মূল্য স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখেই রুশ তেল আমদানি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থে এবং বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হয়, বাইরের চাপের ভিত্তিতে নয়।”
তথ্য অনুযায়ী, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মার্কিন ট্রেজারি হোল্ডিংস থেকে সরে এসে সোনায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি ট্রাম্পের আহ্বান, চীনা পণ্যের ওপর ১০০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ব্যবস্থা নিতে, যা ভবিষ্যতে ভারতের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি বেশ অনিশ্চিত, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক রেয়াত নিয়ে। তবে উভয় দেশের নেতৃত্বের সদিচ্ছা থাকায় আলোচনায় অগ্রগতি হতে পারে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

