প্রধানমন্ত্রী মোদীর জাপান ও চীন সফর: দুই দেশের সঙ্গে কৌশলগত ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে উদ্যোগ

নয়াদিল্লি, ২৮ আগস্ট – প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ সন্ধ্যায় জাপানের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন ১৫তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য। এটি তাঁর অষ্টম জাপান সফর হলেও, জাপানের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে এটিই হবে প্রথম শীর্ষ বৈঠক। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্ণ পর্যালোচনা করবেন, যা অন্তর্ভুক্ত করবে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ। পাশাপাশি, তাঁরা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করবেন। এই বৈঠক ভারত ও জাপানের দীর্ঘদিনের ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড গ্লোবাল পার্টনারশিপ’-এর ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারত ও জাপানের মধ্যে সম্পর্ক বহু প্রাচীন এবং মূলত আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। দুই দেশই এশিয়ার প্রধান গণতান্ত্রিক শক্তি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত। ২০০০ সালে ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ’ হিসেবে এই সম্পর্কের সূচনা হলেও, তা ধাপে ধাপে উন্নীত হয়ে ২০১৪ সালে ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড গ্লোবাল পার্টনারশিপ’-এ রূপান্তরিত হয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছর নিয়মিত বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বর্তমানে ভারত ও জাপান একে অপরের প্রতি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং অভিন্ন মূল্যবোধ ভাগ করে নিচ্ছে। গত এক দশকে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা অনেক বিস্তৃত হয়েছে — বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন এবং জনগণের মধ্যে বিনিময় ক্ষেত্রে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও জাপান ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত-জাপান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২২.৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে, ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতে জাপানের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে, যা জাপানকে ভারতের পঞ্চম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশে পরিণত করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া সফরের দ্বিতীয় পর্বে, তিনি ৩১শে আগস্ট থেকে ১লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিতব্য সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী মোদী বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে। ২০১৭ সালে ভারত এসসিও-র পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয় এবং ২০২২-২৩ সালে সংস্থার রাষ্ট্রপ্রধানদের কাউন্সিলের সভাপতিত্ব করে। এবারের শীর্ষ সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদী পূর্ব এশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষত, জাপান ও চীনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ভারতের কূটনৈতিক নীতি ও আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।