নয়াদিল্লি, ১৯ আগস্ট : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, রাজস্থানের কোটা-বুন্দি অঞ্চলে গ্রীনফিল্ড বিমানবন্দর নির্মাণ এবং ওডিশার কটক-ভুবনেশ্বর ক্যাপিটাল রিজিয়ন রিং রোড প্রকল্পে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। কোটা গ্রীনফিল্ড বিমানবন্দরের প্রস্তাবিত খরচ ধরা হয়েছে ১,৫০৭ কোটি টাকা, যেখানে ওডিশার ১১০.৮৭৫ কিমি দীর্ঘ ও ৬ লেন বিশিষ্ট রিং রোড নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৮,৩০৭.৭৪ কোটি টাকা।
এই বৈঠকের আগে গত ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ১৮,৫৪১ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে ওডিশা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও পাঞ্জাবে ৪টি নতুন সেমিকন্ডাক্টর প্লান্ট স্থাপনে সম্মতি দেওয়া হয়, যার জন্য ৪,৫৯৪ কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে এবং প্রায় ২,০০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই বৈঠকে লখনউ মেট্রো প্রকল্পের ফেজ-১বি পর্যায়ে ১২টি স্টেশনসহ মেট্রো সম্প্রসারণে ৫,৮০১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। পাশাপাশি, অরুণাচল প্রদেশের শি ইয়োমি জেলায় ৭০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘টাটো II’ হাইড্রো ইলেকট্রিক প্রকল্পের জন্য ৮,১৪৬ কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়।
এর আগে ৮ আগস্টের মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যার মোট বাজেট ছিল ৫২,৬৬৭ কোটি টাকা। উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় গ্যাস গ্রাহকদের ২০২৫-২৬ পর্যন্ত ভর্তুকি চালিয়ে যাওয়ার জন্য ১২,০৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি তেল কোম্পানিগুলিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০,০০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। দেশের প্রযুক্তি শিক্ষায় মানোন্নয়নের লক্ষ্যে MERITE প্রকল্পে ৪,২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে অসম ও ত্রিপুরায় ৪টি নতুন উন্নয়ন প্রকল্পে ৪,২৫০ কোটি টাকা এবং তামিলনাড়ুর মারকানম-পুদুচেরি ৪ লেন হাইওয়ে প্রকল্পে ২,১৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
৩১ জুলাইয়ের মন্ত্রিসভা বৈঠকে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে দুটি ছিল কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে এবং বাকি চারটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রেল নেটওয়ার্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে। তারও আগে ১৬ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ‘প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনা’কে অনুমোদন দেয়। এই প্রকল্প ২০২৫-২৬ সাল থেকে শুরু হয়ে আগামী ছয় বছর চালু থাকবে এবং ১.৭ কোটি কৃষক উপকৃত হবেন। এই প্রকল্পের আওতায় কম উৎপাদনশীল ১০০টি জেলায় কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, ফসল বৈচিত্র্য, টেকসই চাষাবাদ এবং কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
এই বৈঠকগুলির মাধ্যমে স্পষ্ট যে, কেন্দ্র সরকার দেশের পরিকাঠামো, কৃষি, প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ক্ষেত্রে বিস্তৃত পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে।

