নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ অক্টোবর: রাজ্যের জনজাতি অংশের ৩০ হাজার ৬০২ জন ছাত্রছাত্রী ইতিমধ্যেই পোস্ট মেট্রিক স্কলারশিপ পেয়েছে। তাদের ব্যাংক একাউন্টে ৫৬ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৫ হাজার ৬৬৫ জন জনজাতি ছাত্রছাত্রী পোস্ট মেট্রিক স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। ইতিমধ্যেই ৮৫.৮০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী স্কলারশিপের অর্থ পেয়েছে। আজ আগরতলা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানান জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব ব্রিজেশ পান্ডে।
জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব ব্রিজেশ পান্ডে জানান, জনজাতি অংশের ছাত্রছাত্রীদের পোস্ট মেট্রিক স্কলারশিপ বিতরণে দেরি হচ্ছে বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা সঠিক নয়। এবিষয়ে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে তিনি জানান, যেসব জনজাতি পরিবারের বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার কম সেই পরিবারের ছাত্রছাত্রীরাই পোস্ট মেট্রিক স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য বিবেচিত হয়। ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টাল (NSP)-এর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার ৯০ শতাংশ এবং রাজ্য সরকার ১০ শতাংশ ব্যয় বহন করে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য পোষ্ট মেট্রিক স্কলারশিপ পাওয়ার আবেদন করার সময়সীমা ৬ বার বৃদ্ধি করা হয়েছিল যেন সমস্ত যোগ্য প্রার্থী আবেদন করতে পারে। সারা রাজ্য থেকে ৩৫ হাজার ৬৬৫ জন ছাত্রছাত্রী এনএসপি’র মাধ্যমে স্কলারশিপ পাওয়ার আবেদন করেছিল। প্রথম পর্যায়ে এই বছর জুন মাসে ২১ হাজার ২৭২ জন ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপের অর্থ দেওয়া হয়। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয় ১৩ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আরও ৯ হাজার ৩৩০ জন ছাত্রছাত্রীকে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৪৩ কোটি ৩ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। সচিব জানান, এখন পর্যন্ত সারা দেশে ত্রিপুরা সহ ৭টি রাজ্যই জনজাতি অংশের ছাত্রছাত্রীদের পোস্ট মেট্রিক স্কলারশিপ বিতরণ করেছে।
জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব ব্রিজেশ পান্ডে জানান, এনএসপি-তে আবেদন করার সময় ৯৭ জন ছাত্রছাত্রী তাদের আধার সংযোগ করতে না পারায় তাদের আবেদন বাতিল হয়ে গেছে। এছাড়া ২,৪৫৬ জন তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযোগ করতে না পারায় তাদের স্কলারশিপের অর্থ দেওয়া যাচ্ছেনা। আধার সংযোগ করার জন্য তাদের এসএমএস দেওয়া হয়েছিল। জনজাতি কল্যাণ দপ্তর এনআইসি দিল্লীর সাথে আলোচনা করে আধার সংযোগ করার জন্য তাদের আরও ১৫ দিন সময় দিয়েছিল। গত ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের ঐ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, রাজ্যের বাইরে পাঠরত ২২১২ জন ছাত্রছাত্রীর আবেদনপত্র পুনঃপরীক্ষার কাজ চলছে। রাজ্য পাঠরত ৭১২ জন ছাত্রছাত্রীর আয়ের প্রমাণপত্র পরীক্ষার কাজও চলছে।
তাছাড়া রাজ্যে পাঠরত ২৯৮ জন ছাত্রছাত্রীর আবেদনপত্রও পুনঃপরীক্ষার কাজ চলছে। তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ছাত্রছাত্রীদের আবেদন করার প্রক্রিয়া সহজ করতে রাজ্যে কমন সার্ভিস সেন্টারগুলির সাথে জনজাতি কল্যাণ দপ্তর সমন্বয় রেখে কাজ করছে। এনএসপি’র মাধ্যমে স্কলারশিপের আবেদন করতে ৩০ টাকা ফি দিতে হয়। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর জনজাতি অংশের ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপের আবেদন করার টাকা জনজাতি কল্যাণ দপ্তর বহন করবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সচিব ছাত্রছাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন সঠিক সময়ে স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য আবেদন করে। সচিব জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৫ জন ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপের টাকা বেশি দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা এই অতিরিক্ত অর্থ রিফান্ড করার বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তারা যেন তাদের সুবিধামত অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিতে পারে। এক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা করতে, তাদের ডিগ্রি পেতে বা মার্কশিট পেতে কোনও অসুবিধা হবে না। সাংবাদিক সম্মেলনে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা সুভাশিস দাসও উপস্থিত ছিলেন।



















