News Flash

  • Home
  • দেশ
  • আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস ২০২৪ : শান্তি, সহিষ্ণুতা এবং মহাত্মা গান্ধীর উত্তরাধিকার উদযাপন
Image

আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস ২০২৪ : শান্তি, সহিষ্ণুতা এবং মহাত্মা গান্ধীর উত্তরাধিকার উদযাপন

নয়াদিল্লি, ২ অক্টোবর : প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ২ অক্টোবর শান্তি ও অহিংসার পুজারি  মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়। ২০০৭ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত এই দিনটি সমাজ গঠনে অহিংসার শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

মহাত্মা গান্ধীর অহিংসার উত্তরাধিকার

মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহ ও অহিংস প্রতিরোধের দর্শন আধুনিক ইতিহাসে সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী শক্তি হিসাবে  উঠে এসেছে। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, বিশেষত ১৯৩০ সালে ডান্ডি মার্চ, নিপীড়নের মোকাবেলায় অহিংস আন্দোলনের  শক্তি বিশ্বাস যোগ্যতার উদাহরণ।  মহাত্মা গান্ধীর জন্য, অহিংসা নিছক একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার ছিল না বরং এটি একটি জীবনযাত্রা, এই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে যে শান্তি কেবলমাত্র শান্তিপূর্ণ উপায়ে অর্জন করা যেতে পারে।

মহাত্মা গান্ধীর বিখ্যাত উক্তি, “অহিংসা মানবজাতির যাবতীয়  সমস্যার নিষ্পত্তি করার সবচেয়ে বড় শক্তি। ধ্বংসের জন্য  সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী হল অহিংসা” । এই বিশ্বাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকারের জন্য মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের লড়াই থেকে শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নেলসন ম্যান্ডেলার সংগ্রাম পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছে। মহাত্মা গান্ধীর এই আদর্শ  অসংখ্য নেতা ও আন্দোলনকে প্রভাবিত করেছে, প্রতিরোধ ও সংস্কারের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসাবে অহিংসার সর্বজনীন আবেদনকে জোরালো করে।

আজকের বিশ্বে মহাত্মা গান্ধীর প্রাসঙ্গিকতা

রাজনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগতভাবে  চিহ্নিত এই যুগে যাবতীয়  চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়  মহাত্মা গান্ধীর অহিংসার নীতিগুলি গভীরভাবে অনুরণিত হয়। সন্ত্রাসবাদ, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্য এসবই শান্তিপূর্ণ সমাধানের জরুরি প্রয়োজনের উপর জোর দেয়। মানবতার অন্তর্নিহিত শুভ ভাবের প্রতি গান্ধীর বিশ্বাস বিভাজন নিরাময় এবং মহামারী ও দারিদ্র্যসহ আধুনিক সংকট মোকাবেলার জন্য একটি রোডম্যাপ ঠিক করে দেয়,।  তাঁর দর্শন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে শান্তি কেবল একটি দূরবর্তী আদর্শ নয় বরং একটি অর্জনযোগ্য! তাঁর শিক্ষা আশা এবং পুনর্মিলনের একটি কালজয়ী বার্তা বহন করে ।

মহাত্মা গান্ধীর প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দিতার মধ্যেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে  বাইরের  বিষয়গুলিকে স্পর্শ করার ব্যপারে উদ্বুদ্ধ করে। তাঁর বিখ্যাত উক্তি, “প্রত্যেকের প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট আছে, তবে প্রত্যেকের লোভের জন্য নয়” এই উক্তি  অহিংসা এবং দায়িত্বশীল সম্পদ ব্যবহারের মধ্যে যোগসূত্রে জোর দেয়। আজকের প্রেক্ষাপটে, তাঁর সরলতা, সংরক্ষণ এবং স্বনির্ভরতার মূল্যবোধগুলি স্বচ্ছ ভারত অভিযান (স্বচ্ছ ভারত অভিযান) এর মতো ভারতের উদ্যোগগুলিতে প্রতিফলিত হয়েছে, যা পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বকে উত্সাহ দেয়।

অহিংসার বিশ্বব্যাপী স্মৃতিসৌধ: গান্ধীর উত্তরাধিকারকে সম্মান জানানো

আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস মহাত্মা গান্ধীর শান্তি ও অহিংসার স্থায়ী দর্শনের বিশ্বব্যাপী অনুপ্রেরনা স্মারক হিসাবে কাজ করে। তাঁর জন্মবার্ষিকীতে পালিত এই দিনটি অহিংস প্রতিরোধের নীতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে যা তিনি সারা জীবন সমর্থন করে গেছেন। যার,জন্য এটা লক্ষ্য করা গেছে ২০২৩ সালে, ভারতে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ জি-২০ শিখর সম্মেলনে  প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী সহ বিশ্ব নেতারা রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী দৃঢ়তার সাথে বলেন, মহাত্মা গান্ধীর চিরন্তন সত্য ও অহিংসার নীতি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, ঐক্যবদ্ধ এবং শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যত অর্জনের প্রচেষ্টাকে পথ দেখাচ্ছে।

২০২২ সালে, ইউনেস্কো মহাত্মা গান্ধী ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন ফর পিস অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (এমজিআইইপি) এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মহাত্মা গান্ধীর সারাজীবনের কর্মকান্ড নিয়ে শান্তি ও সুস্থায়ী সমাজের প্রচারের জন্য শিক্ষার উপর প্যানেল আলোচনার নেতৃত্ব দেয়। মহাত্মা গান্ধীর পূর্নাবয়ব হলগ্রাম আকারের মূর্তিকে সামনে রেখে আলোচনা হয়।রাষ্ট্র সংঘে ভারতের  রাষ্ট্রদূত রুচিরা কম্বোজ এবং মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের কন্যা বার্নিস এ কিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গান্ধীর আদর্শ কীভাবে গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক  সে সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

গান্ধীর উত্তরাধিকার উদযাপন

মহাত্মা গান্ধীর শিক্ষা ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। বিভিন্ন সরকারী বিভাগ এবং প্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে তাঁর আদর্শকে সমর্থন করে এবং প্রচার করে, এটি নিশ্চিত করে যে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বনির্ভর এবং শান্তিপূর্ণ সমাজের জন্য গান্ধীর দৃষ্টিভঙ্গি আধুনিক প্রশাসন ও জনজীবনে একীভূত হয়েছে।

২০১৪ সালে শুরু হওয়া স্বচ্ছ ভারত অভিযান (স্বচ্ছ ভারত মিশন) জাতি গঠনের জন্য মহাত্মা গান্ধীর পরিচ্ছন্নতার দর্শনকে প্রতিফলিত করার মধ্যে দিয়ে  একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসাবে  উঠে দাঁড়িয়েছে। একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর ভারত গড়ার লক্ষ্যে এই প্রচারাভিযানটি গান্ধীর এই বিশ্বাসের সাথে প্রতিধ্বনিত হয় যে “ঈশ্বরত্বের পরেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রয়েছে”। এটি নাগরিকদের তাদের চারপাশ বজায় রাখার জন্য সম্মিলিত দায়িত্ব নিতে অনুপ্রাণিত করে, ব্যক্তিগত এবং সম্প্রদায় উভয়ই জড়িত থাকে এর সঙ্গে।ভারতে ২০১৪ সালে শুরু হওয়া স্বচ্ছ ভারত অভিযান (স্বচ্ছ ভারত মিশন) এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচী হয়ে উঠেছে যা, জাতি  গঠনের জন্য মহাত্মা গান্ধীর স্বচ্ছতার  আদর্শকেই  প্রতিফলিত করে । একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর ভারত গড়ার লক্ষ্যে এই প্রচারাভিযানটি গান্ধীর এই বিশ্বাসের সাথে প্রতিধ্বনিত হয় যে “ঈশ্বরত্বের পরেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রয়েছে”। এটি নাগরিকদের তাদের চারপাশের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য সম্মিলিত দায়িত্ব নিতে অনুপ্রাণিত করে, ব্যক্তিগত এবং সম্প্রদায়গত  উভয়ই এর সঙ্গে জড়িত ।

‘স্বচ্ছতাই সেবা (এসএইচএস) ২০২৪ প্রচারের থিম ‘স্বভাব সচ্ছতা, সংস্কার স্বচ্ছতা’ ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১লা অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় । স্বচ্ছ ভারত মিশনের দশম বার্ষিকী উপলক্ষে ২-রা অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর মধ্য দিয়ে এই অভিযানের সমাপ্তি ঘটে। এসএইচএস প্রচারটি ভারত জুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্যানিটেশন বজায় রাখতে আচরণগত পরিবর্তন এবং সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের প্রচারের দিকে গুরুত্ব দিয়ে করা।

২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী শ্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত দিল্লির রাজঘাটের গান্ধী দর্শনে মহাত্মা গান্ধীকে উৎসর্গীকৃত একটি বিশেষ রেলওয়ে কোচের উদ্বোধন করেন। রেলপথ মন্ত্রকের দান করা এই অনন্য প্রদর্শনীটি মহাত্মা গান্ধীর যুগের একটি নিখুঁতভাবে পুনরুদ্ধার করা রেলওয়ে কোচ, আইকনিক ট্রেন যাত্রার প্রতীক যা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং ন্যায়বিচার ও সাম্যের পক্ষে তাঁর মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। উদ্বোধনের সময় শ্রী শেখাওয়াত ব্যাখ্যা করেন যে রেল কোচটি মহাত্মা গান্ধীর জীবনের একটি রূপান্তরকারী ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত এবং তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এটি সংস্কার করা হয়েছে। প্রদর্শনীটি গান্ধীর ভ্রমণ এবং সহযাত্রীদের সাথে কথোপকথনের চিত্রিত ভাস্কর্যগুলির সাথে  সম্পৃক্ত ও সমৃদ্ধ।  গান্ধী দর্শনের দর্শনার্থীরা এখন এই সংজ্ঞায়িত মুহুর্তগুলি পুনরুদ্ধার করতে পারেন, গান্ধীজির ভ্রমণের অন্তর্দৃষ্টি অর্জন করতে পারেন, যা তাঁর অহিংসা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দর্শন গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যুগান্তকারী মুহূর্তটি মহাত্মা গান্ধীজীর স্থায়ী উত্তরাধিকার এবং ভারতের স্বাধীনতা ও ঐক্যের জন্য তাঁর অবিচল অঙ্গীকারের প্রতি একটি উপযুক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি।

খাদি: স্বনির্ভরতা ও স্থায়িত্বের প্রতীক

মহাত্মা গান্ধীর প্রদর্শিত হাতে বোনা খাদি বস্ত্র, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা  এবং আর্থিক স্থায়িত্বের প্রতীক, সে বিষয়ে মহাত্মা গান্ধী বারবার ওকালতি করে গেছেন।খাদি ও গ্রামীণ শিল্প কমিশন (কেভিআইসি), প্রতি বছর খাদির প্রচার এবং গ্রামীণ ক্ষমতায়নকে উত্সাহিত করে গান্ধীর জন্মবার্ষিকী উদযাপন করে। গান্ধী জয়ন্তী ২০২৩-এ, নয়াদিল্লির কনট প্লেসের খাদি ভবন খাদি পণ্য বিক্রয় ১.৫২ কোটি টাকায় পৌঁছে একটি নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে, যা স্বনির্ভরতার এই প্রতীককে সমর্থন করার জন্য জনগণের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে।

Releated Posts

মিশন নির্বাচন: জেন-জেডকে কাছে টানলেন বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন, উত্তরাখণ্ডে কর্মীদের চাঙ্গা করলেন

দেরাদুন, ১০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরাখণ্ডে দলীয় সংগঠনকে আরও সক্রিয় করতে উদ্যোগী হলেন…

ByByNews Desk Sep 10, 2026

বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত-আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক সহযোগিতা আরও জোরদারের আলোচনা

নয়াদিল্লি, ১০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারতের উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে শিয়া ইসমাইলি মুসলিমদের ৫০তম বংশানুক্রমিক ইমাম (আধ্যাত্মিক…

ByByNews Desk Sep 10, 2026

‘মায়াবতী শুধু নিজের কথাই ভাবছেন’: অশোক সিদ্ধার্থের অবসর নিয়ে সমাজবাদী পার্টির কটাক্ষ

নয়াদিল্লি, ১০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়া বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)-র বহিষ্কৃত নেতা তথা প্রাক্তন রাজ্যসভা…

ByByNews Desk Sep 10, 2026

পিএমএমএসওয়াই-তে মৎস্য খাতে গতি, ৬ বছরে উৎপাদন বেড়ে ১৯৭.৭৫ লাখ টন

নয়াদিল্লি, ১০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা-র মাধ্যমে দেশের মৎস্য খাতে উৎপাদন, পরিকাঠামো ও রফতানিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি…

ByByNews Desk Sep 10, 2026
Scroll to Top