ইন্দোর, ১১ জানুয়ারি (হি.স.): ক্রিকেট দুনিয়ায় সবাই তাঁকে চেনে ‘দ্য ওয়াল’ নামে। টেস্ট ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি ৩১ হাজার ২৫৮টি বল মোকাবিলা করেছেন তিনি, যেখানে আর কোনও ব্যাটসম্যান এত বেশি বল খেলেননি! অদূর ভবিষ্যতে কেউ পারবেন কিনা যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ‘দ্য ওয়াল’ নামকরণের সার্থকতা বোঝাতেই এই পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। হ্যাঁ, বলছিলাম ভারতীয় ক্রিকেটের ‘মি. ডিপেন্ডেবল’ খ্যাত রাহুল দাবিড়ের কথা।
১২ বছর বয়সে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু। আজকের দিনে মরাঠি পরিবারে জন্ম দ্রাবিড়ের। কিন্তু বেড়ে ওঠা বেঙ্গালুরুতে। অনূর্ধ্ব ১৫, অনূর্ধ্ব ১৯ টিমে কর্নাটকের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৬ সালের ৩ এপ্রিল জাতীয় দলের হয়ে প্রথম ওডিআই অভিষেক, এবং ওই বছরেরই ২০ জুন টেস্ট ম্যাচ অভিষেক। বিশ্বের প্রথম ব্যাটার যিনি বিশ্বের ১০টি টেস্ট ক্রিকেট খেলিয়ে দেশের বিরুদ্ধে শতরান করেছেন। টেস্ট ফরম্যাটে তৃতীয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডও তাঁর নামে। এই পজিশনে ৫২ গড় রেখে ১০,৫২৪ রান করেছেন তিনি। নিজে তো রান করেছেনই, জুটি হিসেবেও ছিলেন পারফেক্ট। ৩২ হাজার ৩৯ রানের পার্টনারশিপের রেকর্ড রয়েছে। ৫০ রানের উপর ১২৬টি পার্টনারশিপ গড়েছেন। ১০০ রানের উপর ৮৮টি পার্টনারশিপ রয়েছে তার।তাছাড়া অনিয়মিত উইকেটকিপার হিসেবে ১৬৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। উইকেট এর পেছনে দাঁড়িয়ে ২১০ টিরও বেশি ক্যাচ ধরেছেন। এটাও একপ্রকার বিশ্বরেকর্ড। ক্রিকেট কেরিয়ার শেষে ইন্ডিয়া ‘এ’ও অনূর্ধ্ব ১৯ দলের কোচের ভূমিকা পালন করেছেন। এরপর বেঙ্গালুরু ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির প্রধান হয়েছিলেন। বর্তমানে রোহিতদের দলের হেডকোচ।
২০০০ সালে উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমান্যাক দ্বারা দ্রাবিড়কে বছরের সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন হিসাবে মনোনীত করা হয় এবং ২০০৪ সালে উদ্বোধনী আইসিসি পুরষ্কার অনুষ্ঠানে বর্ষসেরা খেলোয়াড় এবং বর্ষসেরা টেস্ট খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান । ডিসেম্বর ২০১১, তিনি ক্যানবেরায় ব্র্যাডম্যান অরেশন প্রদানকারী প্রথম নন-অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার হন। পদ্মভূষণ, পদ্মশ্রীর মতো সম্মান পেয়েছেন তিনি।