কলকাতা, ৬ জানুয়ারি (হি.স.) : শুক্রবার ধারাবাহিকভাবে রাজ্যের আইনশ়ৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এতে তাঁকে প্রকাশ্যেই তোপ দাগেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। শনিবার এই ব্যাপারে তাঁর পাল্টা সমালোচনা করলেন আইনজীবী তথা কংগ্রেস নেতা অরুণাভ ঘোষ এবং তৃণমূলের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় শুক্রবার প্রথমে এজলাসে বসে ও পরে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়া নিয়ে কেন কিছু বলছেন না রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সন্ধ্যায় বিচারপতি বলেন, ‘এই অসভ্যতা আগে দেখিনি’।
আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ এদিন বলেন, “বিচারপতিদের অনেক সংযত হয়ে চলতে হয়। ওঁর আচরণ বিচারপতি সুলভ নয়। কাকে ধরে উনি ৫৬ বছর বয়সে জজ হয়েছেন তা আমি জানি।”
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “শুক্রবার ওঁর সামনে কি সন্দেশখালির বিষয় ছিল? ছিল না তো! তাহলে উনি আগ বাড়িয়ে কেন সন্দেশখালি নিয়ে সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়া, রাজ্যপাল, ইত্যাদি বললেন? তার মানে উনি নিজেই সংবিধানের শর্ত ভাঙছেন। আদালতের গরিমা নষ্ট করছেন। ওঁর জন্য কলকাতা হাইকোর্টের বাকি বিচারপতিদেরও অসম্মান হচ্ছে।”
কল্যাণের কথায়, “তাই বলছি উনি ইস্তফা দিন। তার পর রাজনীতিতে যোগ দিন।”
বিচারপতির উদ্দেশে কল্যাণ আরও বলেন, “আপনি তো সিপিএমের লোক ছিলেন। মনে নেই ৩৪ বছর ধরে কী নোংরামি করেছে সিপিএম! এখন সিপিএম নেই, তাই আপনি বিজেপির সঙ্গে আছেন। যোগ দিন পার্টিতে।”
আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ আর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের বিশেষ ফারাক নেই। অরুণাভবাবু বলেন, “ওঁর মতো জজ কলকাতা হাইকোর্টে আছেন এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য। ওঁর জন্য বিচারপতির চেয়ারের অমর্যাদা হচ্ছে।”
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ সাধারণ মানুষের মধ্যে সমাদৃত হয়েছে। এর ফলে তাঁর একটা জনপ্রিয়তা যে তৈরি হয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু আইনজীবীদের অনেকেই এর জন্য ঈর্ষা অনুভব করছেন। কয়েক মাস আগে অরুণাভ ঘোষ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সম্পর্কে কিছু নেতিবাচক মন্তব্য করায় জল ঘোলা হয়েছিল। আমজনতা অবশ্য সামাজিক মাধ্যমে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের দিকেই ছিলেন।
তাঁর বিরোধীরা বলার চেষ্টা করছেন, সভায়, অনুষ্ঠানে বা কার্যত সাংবাদিক বৈঠক করে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় যেভাবে এবং যে ধরনের কথা বলছেন, তা আগে কোনও বিচারপতি বলেছেন কিনা সন্দেহ। এই পরিস্থিতি বেনজির।

