কলকাতা, ১ জানুয়ারি (হি.স.): পয়লা জানুয়ারি, দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর মন্তব্যে দলে জল্পনার পারদ আরও চড়ল। সুব্রতবাবু বলেছেন, তাঁর ‘ধারণা’ অভিষেক লড়াইয়ের ময়দান থেকে পিছিয়ে যাবেন না! তাঁর ‘বিশ্বাস’, অভিষেক ‘যদি’ লড়াইয়ের ময়দানে থাকেন, তবে দলের সর্বময় নেত্রী মমতাকে সামনে রেখেই লড়বেন তিনি।
সাম্প্রতিক কালে প্রায় প্রতি দিনই শাসক তৃণমূলের ‘অভ্যন্তরীণ বিরোধ’ প্রকাশ্যে চলে আসছিল কোনও না-কোনও ভাবে। দলের অন্দরে ‘প্রবীণ-নবীন দ্বন্দ্ব’, বিশেষ করে, এই টানাপড়েনে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের ভূমিকা নিয়ে তর্কবিতর্ক চলছে বিগত কয়েক দিন ধরে। অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনে দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে বেশ কিছু দিন ধরেই কিছুটা দূরে সরে ছিলেন অভিষেক।
তা নিয়ে ঘরে-বাইরে তো জল্পনা চলছিলই। এ সব নিয়ে আলোচনার মধ্যে সুব্রতবাবুর এই মন্তব্যে তীব্র আপত্তি জানালেন দলের অন্যতম মুখপাত্র তথা রাজ্য দলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। সংবাদমাধ্যমকে কুণাল জানিয়েছেন, বক্সীর বাক্যগঠন নিয়ে তাঁর ‘আপত্তি’ রয়েছে।
বক্সীর বক্তব্য সম্পর্কে কুণাল (যিনি গত শনিবার অভিষেকের সঙ্গে দলের একাংশের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন) সোমবার বলেন, ‘‘রাজ্য সভাপতিকে সম্মান করি। কিন্তু তাঁর বাক্যগঠন নিয়ে আপত্তি রয়েছে। এটা কখনওই কাঙক্ষিত নয়।’’
কুণালের কথায়, ‘‘অভিষেক লড়াইয়ের ময়দানেই রয়েছেন। আর তিনি যে কথা বলতে চান, তা শুনলে দলেরই মঙ্গল।’’ বক্সীর বাক্যগঠনে কেন আপত্তি, তা অবশ্য খোলসা করেননি কুণাল। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠদের ব্যাখ্যা, বক্সীর কথা শুনলে মনে হচ্ছে অভিষেক লড়াইয়ের ময়দানে নেই। যেন তিনি পালিয়ে যেতে চাইছেন!
অভিষেক-ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, ‘‘এই ধরনের আলটপকা কথা বলে আসলে অভিষেকের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা হয়েছে। যা দলের জন্য মোটেই ভাল সঙ্কেত নয়।’’
ফিরহাদ এদিন বলেন, “কেউ কেউ টাকা নিয়ে চাকরি দিয়েছেন, চুরি হয়েছে, এটা সত্যি। কিন্তু আমরা সবাই চুরি করিনি।” এই আবহেই পালটা কুণালের মন্তব্য, “দুর্নীতি যখন হয়েছিল, তখন বাধা দেননি কেন? আটকাননি কেন?” তিনি বলেন, ববিদা সিনিয়র নেতা, সঠিক কথা বলেছেন। কিন্তু দুঃখ একটাই, অনেকদিন আগে আমি যখন একই কথা বলেছিলাম, তখন বলা হয়েছিল, এটা মন্ত্রিসভার সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। কুণাল ঘোষ মন্ত্রিসভার কেউ নন! পার্থদার (প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়) কথা বলেছিলাম। তখনও বলা হয়েছিল, মন্ত্রিসভার কালেকটিভ ডিশিসন।” রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলে দেওয়া শিক্ষায় চাকরি দুর্নীতি ইস্যুতে ফিরহাদের বিস্ফোরক মন্তব্য ও তৃণমূল মুখপাত্রের পালটা প্রতিক্রিয়ার জল কোনদিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।



















