কলকাতা, ১৭ আগস্ট (হি.স.): রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বৃহস্পতিবার কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স-এ নৌসেনার নতুন যুদ্ধজাহাজ আইএনএস বিন্ধ্যগিরির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, “বিন্ধ্যগিরির সূচনায় এসে আমি খুবই খুশি। এই অনুষ্ঠানটি ভারতের সামুদ্রিক সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি অগ্রগতি নির্দেশ করে। বিন্ধ্যগিরি দেশীয় জাহাজ নির্মাণের মাধ্যমে আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য অর্জনের দিকেও একটি পদক্ষেপ।”
রাষ্ট্রপতি বলেছেন, “প্রাণবন্ত শহর কলকাতা ও এই শহরের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের দেশের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। বৌদ্ধিক প্রাণবন্ততা, শৈল্পিক স্পৃহা এবং বিশ্বজগতের চেতনা ভারতের সেরা প্রদর্শন করে।” রাষ্ট্রপতি আরও বলেছেন, “ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তার অনেক দিক রয়েছে। ভারতের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা, সংরক্ষণ এবং প্রচার করার দায়িত্ব রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনীর। নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় নৌবাহিনীকে সর্বদা সক্রিয় থাকতে হবে।”
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ডঃ সি ভি আনন্দ বোস, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি-সহ সেনার তিন বাহিনী, উপকূল রক্ষী বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে জাহাজটিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জলে ভাসানো হয়। কর্নাটকের বিন্ধ্য পর্বতমালার নামে নামকরণ করা এই জাহাজ নৌসেনার ‘প্রজেক্ট-১৭ আলফা’ বা সংক্ষেপে ‘পি-১৭এ’ প্রকল্পের আওতায় নিলগিরি-শ্রেণির ৭টি স্টেলথ গাইডেড-মিসাইল ফ্রিগেটের মধ্যে ষষ্ঠ। এই রণতরীর ৭৫ শতাংশই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে। ‘পি-১৭এ’ প্রকল্পের ৪টি জাহাজ নির্মিত হয়েছে মুম্বইয়ের মাজগাঁও ডকইয়ার্ডে। বাকি তিনটির নির্মাণ হয়েছে কলকাতায় গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-র তত্ত্বাবধানে। ‘আইএনএস বিন্ধ্যগিরি’ হল এখানে তৈরি হওয়া তৃতীয় তথা শেষ জাহাজ। এর আগে, এখান থেকেই উদ্বোধন হয়েছে যথাক্রমে ‘আইএনএস হিমগিরি’ ও ‘আইএনএস দুনাগিরি’। এই দুটিই এখন সমুদ্র-ট্রায়ালে রয়েছে। সম্ভবত, চলতি মাসেই নৌসেনায় অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে ‘আইএনএস হিমগিরি’।