News Flash

  • Home
  • প্রধান খবর
  • বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলে মতুয়াদের মনোনীত প্রার্থীই নেই বলে অভিযোগ, ক্ষোভ বাড়ছে
Image

বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলে মতুয়াদের মনোনীত প্রার্থীই নেই বলে অভিযোগ, ক্ষোভ বাড়ছে

দুর্গাপুর, ২৩ জুন (হি. স.) : ভোট আসে ভোট যায়। উন্নয়নের ফিরিস্তি শুনে ক্লান্ত। কোথাও বেহাল রাস্তা। আবার কোথাও প্রতিশ্রুতি দিয়েও জোটেনি বসত ও চাষ জমির পাট্টা। এমনকি পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমান দুই জেলা শাসকদল তৃণমূলের তালিকায় মতুয়াদের মনোনীত প্রার্থীঠাঁই পায়নি বলে অভিযোগ। আর তাই নির্বাচনের আগে ক্ষোভে ফুঁসছে ওই দুই জেলার মতুয়ারা। ফতোয়া থাকলেও অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা। আর তাই পদ্ম ফোঁটার আশায় মুখিয়ে গেরুয়া শিবির।

রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় মতুয়ারা এখন ভোট বাক্সের অনেকটায় নিয়ন্ত্রকের ভুমিকায়। আর তাই তাদের ভোটের আশায় মুখিয়ে ডান-বাম, গেরুয়া সব শিবিরেই। তবে এবার ভোটে পাল্লা কোনদিকে ঢলবে সেটা ইতিমধ্যে জোরাল গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বঞ্চনার অভিযোগে দ্বিধাবিভক্ত মতুয়ারা। ক্ষোভ ক্রমশই প্রকাশ্যে আসছে জেলার মতুয়া পাড়ায়। প্রশ্ন, কেন ক্ষোভ? জানা গেছে, বঞ্চনার অভিযোগ। আবেদন করেও জোটেনি চাষ ও বসতজমির পাট্টা।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর সালানপুর, কাঁকসায় ৩০ হাজারেরও বেশী মতুয়া সম্প্রদায় পরিবার রয়েছে। যার মধ্যে রায়ডাঙা, আশীষনগর, ধোবািঘাট, কাঁকসা ১নং ও ২নং কলোনী, ১১ মাইল, রাজবাঁধ এলাকায় সংখ্যাটা আরও বেশী। সমস্যা আর বঞ্চনা প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিলেন মতুয়া মহাসঙ্ঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক অনন্দ বিশ্বাস। তিনি জানান,” ভোটাধিকার ছাড়া কিছু দেয়নি। কারন ভোটের স্বার্থে ব্যাবহার করেছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানে ছিটেফোঁটাও উন্নয়ন জোটেনি জেলার মতুয়াদের। ধর্মীয় কারনে উদ্বাস্তু পরিবারগুলো এখনও রেল লাইন, কিম্বা নদীর পাড়ে, সেচক্যানেলের পাশেই বসবাস করে। ৪০ বছরেরও বেশী সময় বসবাস করলেও জোটেনি জমির পাট্টা। ফিরিস্তি শুনে ক্লান্ত। আজও দুশ্চিন্তায়।” আবার বাঁকুড়া জেলার অধীনে থাকা বিস্তীর্ন মানাচর মেজিয়ার সোঁনাইচন্ডীপুর, বড়জোড়ার মাঝের মানা, শ্যামপুর মানা, বরিশাল পাড়া, ঢাকা পাড়া রয়েছে। সেনামুখির ডিহিপাড়া। এসব এলাকায় বেহাল রাস্তায় ওষ্ঠাগত প্রান।

মতুয়াদের দাবী, দেশভাগের পর পুর্ববঙ্গে থেকে আশা উদ্বাস্তুদের কথা কেউ ভাবেনি। এমনকি বর্তমান শাসকদলেও ভাবেনি। জানা গেছে, চলতি পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় পঞ্চায়েতে তৃণমূলের তালিকায় মতুয়াদের মনেনীত কোন প্রার্থীই ঠাঁই পায়নি বলে অভিযোগ। বাঁকুড়া জেলার সোনামুখী ব্লকে প্রায় ২৭ হাজার রয়েছে মতুয়া সম্প্রদায়, জয়পুর ব্লকে প্রায় ২০ হাজার, ইন্দাস ব্লকে প্রায় ১৫ হাজার, বড়জোড়া ব্লকে প্রায় ৩০ হাজার, পাত্রসায়র ব্লকে প্রায় ১০ হাজার, কোতুলপুর ব্লকে প্রায় ১৫ হাজার, মেজিয়া ব্লকে প্রায় ৪ হাজার মতুয়া ভোটার রয়েছে বলে দাবী মতুয়া মহাসঙ্ঘের। এছাড়াও পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার বনকাটি পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৮ হাজার, ত্রিলোকচন্দ্রপুর পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৫ হাজার, কাঁকসা পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার, আমলাজোড়া পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৪ হাজার, গোপালপুর পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার, বিদবিহার পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৪ হাজার, সালানপুর ব্লকে ১৫ হাজার মতুয়া সম্প্রদায় পরিবার রয়েছে।
আনন্দ বিশ্বাস বলেন,” বিষ্ণুপুর লোকসভায় প্রায় দেড় হাজার পঞ্চায়েতে আসন, পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা ব্লকে ১৬৪ টি আসন, সালানপুর ব্লকে ১১৯ টা আসন। তৃণমূল নেতৃত্বকে জানানো হয়েছিল। মতুয়াদের সমস্যার কথা জানানোর জন্য পঞ্চায়েত পিছু অন্তত একজন করে প্রার্থী করা হোক। দুঃখের বিষয়, বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় তৃণমূলের তালিকায় ঠাঁই পায়নি মতুয়াদের মনোনীত প্রার্থী।” প্রশ্ন, এখানেই এই বঞ্চনার পরও জেলার মতুয়ারা কোন পথে? সেবিষয়ে আনন্দ বিশ্বাস জানান,” রাজ্যের ৬৫ টি বিধানসভায় মতুয়ারা রয়েছে।

বঞ্চনাকে বুকে আঁকড়ে তৃণমূল ছাড়া গতি নেই। তবে জেলার মতুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এবারে ভোটে কি হবে বলা মুশকিল।”

মতুয়াদের ক্ষোভের মাঝে পদ্ম ফোটার আশা দেখছে পশ্চিম বর্ধমান ও বাঁকুড়া জেলা বিজেপি। দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিল্লেশ্বর সিনহা বলেন,” সবক’টি ব্লকে কমবেশী করে আমরা মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রার্থী দিয়েছি।

বামফ্রন্ট, তৃণমূল সবাই মতুয়াদের ব্যাবহার করেছে ভোটের স্বার্থে। সরকারের নুন্যতম পরিষেবাটুকুও দিতে ব্যার্থ হয়েছে তৃণমূল। তাই উন্নয়নের স্বার্থে মতুয়ারা এবার বিজেপিকে ভোট দেবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস।” তৃণমূল কংগ্রেস কাঁকসা ব্লক সভাপতি ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচার্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,” মতুয়া মহাসঙ্ঘের মনোনীত প্রার্থী না হলেও, বনকাটি ও গোপালপুর পঞ্চায়েতে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রার্থী করা হয়েছে।” পশ্চিম বর্ধমান জেলার তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা পান্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জানান,” মতুয়া মহাসঙ্ঘের জেলায় যারা দায়িত্বে ছিল, সেভাবে কেউ জানায়নি। তারা বলেছে, মতুয়া সম্প্রদায় তৃণমূলের পাশে থাকবে। তবে পাট্টার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

Releated Posts

ধার সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত বেড়ে ১৬, গণদাহ সম্পন্ন

ভোপাল/ধার, ৩০ এপ্রিল (আইএএনএস): মধ্যপ্রদেশের ধার জেলা-র মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬। আহত আরও চার…

ByByNews Desk Apr 30, 2026

হাসপাতালের দেওয়াল ধস: ঘটনাস্থল পরিদর্শনে লোকায়ুক্ত, স্বতঃপ্রণোদিত তদন্তের নির্দেশ

বেঙ্গালুরু, ৩০ এপ্রিল (আইএএনএস): কর্নাটকের কর্নাটক লোকায়ুক্ত বিচারপতি বি.এস. পাটিল বৃহস্পতিবার বোয়ারিং হাসপাতালের প্রাচীর ধসের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে…

ByByNews Desk Apr 30, 2026

লেহ-এ পৌঁছলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বুদ্ধের পবিত্র অবশেষের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে যোগ দেবেন অমিত শাহ

শ্রীনগর, ৩০ এপ্রিল (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৃহস্পতিবার লেহ-এ পৌঁছেছেন। তিনি ভগবান বুদ্ধের পবিত্র অবশেষের প্রথম আন্তর্জাতিক…

ByByNews Desk Apr 30, 2026

তৃণমূল ফিরলে ৬ মে শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা: ফিরহাদ হাকিম

কলকাতা, ৩০ এপ্রিল (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ফের ক্ষমতায় এলে আগামী ৬ মে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে বলে…

ByByNews Desk Apr 30, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top