কলকাতা, ২২ মার্চ (হি. স.) : শুক্রবার কলকাতায় আসছেন কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী। ভুবনেশ্বর থেকে ফিরেই সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করবেন তাঁর সঙ্গে। সেখানেও কংগ্রেসকে বাইরে রেখে আঞ্চলিক দলগুলিকে সামনে রেখে বিজেপি বিরোধী জোটের কথা উঠবে।
কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে আঞ্চলিক দলগুলির নেতৃত্বে এরকম জোট নিয়ে সংশয় রয়েছে নানা মহলে।
নিজের রাজ্যে জোট রাজনীতি নিয়ে কুমারস্বামীর তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত বিধানসভা ভোটে জেডিএস কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে সরকার গড়েছিল। কিন্তু সেই জোট বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। দুই দলের মধ্যে নানা বিষয়ে গোলমাল লেগে ছিল। তার সুযোগ নিয়ে জোটে ভাঙন ধরিয়ে এমএলএ কিনে বিজেপি সরকারটাই ভেঙে দেয়। পরে তারা সরকার গড়ে। জে়ডিএসের অনেক বিধায়ক বিজেপিতে চলে যান।
তারপর থেকে কুমারস্বামী জানিয়ে দিয়েছেন, কর্নাটকে তাঁরা একাই লড়াই করবেন। কংগ্রেসও বলেছে, আমরা একা লড়ব। তবে কংগ্রেস এবার কর্ণাটকে জিতে দাক্ষিণাত্য বিজয়ে মরিয়া।
অখিলেশ যাদবের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা হয়েছে। বিজু জনতা দলের নবীন পট্টনায়কের সঙ্গে বৃহস্পতিবার কথা হবে তৃণমূলনেত্রীর। পরের দিন তাঁর সঙ্গে বৈঠক করবেন জে়ডিএস নেতা কুমারস্বামী।
অল্প কয়েক দিনের মধ্যে দেশের তিন প্রান্তের তিন নেতার সঙ্গে তৃণমূলনেত্রীর আলোচনা জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই আলোচনার মাধ্যমেই কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে আঞ্চলিক দলগুলির নেতৃত্বে বিজেপি বিরোধী জোট হয়ে যাবে, এটা ভাবা বোধহয় বাড়াবাড়ি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
লন্ডনে করা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর মন্তব্য এবং আদানি-কাণ্ডে যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবি ঘিরে লোকসভায় এক অদ্ভুত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তা নিরসনের কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কংগ্রেসের নেতৃত্বে ১৬টি বিরোধী দল যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবিতে এককাট্টা। সেই দলে আবার তৃণমূল নেই। তারা তাদের মতো করে সংসদের ভিতরে বাইরে লড়াই চালাচ্ছে।
বিজেপির দাবি, লন্ডনে দেশকে অপমান করার জন্য রাহুলকে ক্ষমা চাইতেই হবে। কংগ্রেসের পাল্টা দাবি, সংসদে রাহুলকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। এককাট্টা বিরোধীদের দাবি, যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠন করতেই হবে। এই পরিস্থিতিতে আগামিদিনে কংগ্রেস ছাড়া বিজেপি বিরোধী কোনও জোট গড়া কতটা সম্ভব, তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে।