সাবার হচ্ছে বনাঞ্চল, নব্যতা হারাচ্ছে খোয়াই নদী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৯ মার্চ৷৷  বনদস্যুদের  নিত্য তান্ডবে আঠারোমুড়ার ঘন বনাঞ্চল ন্যাড়া মাথার মতো রূপ নিচ্ছে৷  খোয়াই নদী  নাব্যতা হারাচ্ছে এবং পাহাড় বৃষ্টির জল ধরে রাখতে পারছে না৷ ফলে একদার খরস্রোতা খোয়াই নদীতে বালির চর পড়ছে৷ আর সেই বালির চরে তৃণভূমি গজিয়ে উঠছে৷ নদীর গতিপথ পাল্টে যাচ্ছে৷ সবকিছু মিলিয়ে আগামী দিনের জন্য এক অশনি সংকেতের পদধবনি ঘনীভূত হচ্ছে৷ আঠারোমুড়া পাহাড় পূর্বে ঘন বনাঞ্চল ছিল, আর ছিল সেই বনাঞ্চলে গুল্ম জাতীয় লতানু উদ্ভিদ৷ কিন্তু সভ্যতা বিকাশের সাথে সাথে আঠারোমুড়ার ঘন বনাঞ্চল বনদস্যুর একাংশ বন কর্মীদের বগল দাবা করে ঘন বনাঞ্চল ন্যাড়া মাথার আকার ধারণ করছে৷ অন্যদিকে খোয়াই নদীর উৎস স্থল বনদপ্তর সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারছে না৷ এছাড়াও  মানুষজন প্রয়োজনে এবং অপ্রয়োজনে বনাঞ্চলের মূল্যবান বৃক্ষ ছেদন করে বসতি তৈরি করছে৷ যা বনদপ্তরের অজানার কথা না৷ সবকিছু জেনেশুনেও খোয়াই জেলা বনদপ্তর আঠারোমুড়া পাহাড়ে নতুন করে বন  সৃজন করছে না৷ ফলে একদার খরস্রোতা খোয়াই নদী তার ন্যাব্যতা হারিয়ে ফেলছে৷ নদী গর্ভে রাশি রাশি বালির চর জমছে৷  ওইসব কারণে নদী তার গতিপথ আংশিক ভাবে পরিবর্তন হয়েছে৷ ফলে বর্ষাকালে নদীর দুই কুল ছাপিয়ে জলশ্রুতে কৃষি জমি থেকে শুরু করে বসতবাড়ি পর্যন্ত নদীগর্ভে তলিয়ে যায়৷ বসন্ত কালে খোয়াই নদীর এমন শুষ্কতা অশনি সংকেতের মত৷ কারণ এই খোয়াই নদী জলের উপর নির্ভর করতে হয় তেলিয়ামুড়া পৌর পরিষদের ১৫ টি ওয়ার্ডের মানুষজনদের৷ এই নদীর উপর নির্ভর করেই তেলিয়ামুড়া শহরের লাগোয়া স্থানে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরি করা হয়েছিল৷ খোয়াই নদীর শুষ্কতার কারনে বসন্তকাল এবং গ্রীষ্মকাল এই দুইটি ঋতুতে তেলিয়ামুড়া পৌর এলাকার মানুষজনরা প্রচন্ড জল সমস্যা ভোগ করতে হয়৷ তবে এলাকার বনদপ্তর যদি খোয়াই নদীর উৎস স্থল সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করে এবং আঠারোমুড়া পাহাড়ে নতুন করে বনসৃজন করে তাহলে খোয়াই নদী ফের ভরা যৌবনে পরিপূর্ণ খরস্রোতা হয়ে উঠতে পারে৷ এতে তেলিয়ামুড়া শহরের মানুষজনের জল সংকট অনেকটাই লাঘব হতে পারে৷