News Flash

  • Home
  • বিদেশ
  • ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশও, বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারে ঢাকায়
Image

ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশও, বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারে ঢাকায়

ঢাকা, ৪ মার্চ (হি.স.) : বাংলাদেশের সবচেয়ে তীব্র ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা ও সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকা। সব এলাকাই ঢাকা থেকে কমপক্ষে ১০০ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু সেখানে সাত থেকে আট মাত্রার ভূমিকম্প হলে তা ঢাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের ১৩টি এলাকা ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। ভূগর্ভস্থ ফাটল বা চ্যুতি থাকার কারণে ওই কম্পন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন শিক্ষকের গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে সাত থেকে আট মাত্রার ভূমিকম্প হলে তীব্র কম্পন অনুভূত হতে পারে, যা এই শহরের দুর্বল ভবনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ঢাকার সম্প্রসারিত বা নতুন নতুন আবাসিক এলাকার মাটি নরম ও দুর্বল। এ ধরনের মাটিতে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা না মেনে বহুতল ভবন হলে তা মাঝারি মাত্রার কম্পনেই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে। লালমাটির এলাকায় যেসব এক থেকে তিনতলা ভবন নির্মিত হয়েছে, সেগুলোর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
ভূমিকম্পে মানুষের মৃত্যুর ৯০ শতাংশই হয় ভবন ধসে। বাংলাদেশের ভেতরে ১৩টি ভূগর্ভস্থ চ্যুতি রয়েছে। তবে তার সব কটি ঢাকা থেকে বেশ দূরে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটে মাঝারি থেকে তীব্র ভূমিকম্প হলে ঢাকায় অনেক ভবন ভেঙে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের হিসাবে, ঢাকা শহরে মোট ভবন আছে ২১ লাখ। এর মধ্যে ৬ লাখ ভবন ছয়তলা বা তার চেয়ে উঁচু।
বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এক যৌথ গবেষণায় দেখা যায়, ভারতের আসামে ১৮৯৭ সালে রিখটার স্কেলে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ঢাকা থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে। ওই সময় ঢাকায় মাত্র ১০০টি পাকা দালান ছিল, অধিবাসী ছিল ৯০ হাজার। ওই ভূমিকম্পে ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিলসহ ১০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক এবং সহ–উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামালের গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকা শহরের ৩০৫ বর্গকিলোমিটার এলাকার ৩৫ শতাংশ মূলত লাল মাটির ওপরে গড়ে ওঠা। এই মাটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য উপযুক্ত। বাকি ৬৫ শতাংশ এলাকা মূলত নদীর তীরবর্তী কাদামাটি ও বালুমাটির এলাকা। বেশির ভাগ বেসরকারি আবাসন প্রকল্প মূলত নরম মাটিতে গড়ে উঠেছে।
গবেষণাটিতে আরও বলা হয়, ঢাকায় ৫ থেকে ৬ মাত্রার ভূকম্পন হলে নরম মাটির ভবনগুলো ভেঙে যাওয়া বা হেলে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, ‘তুরস্কের ভূমিকম্প থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।’

Releated Posts

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় তানজানিয়াকে ৮.৪ লক্ষ ডলারের অনুদান দিচ্ছে ভারত

রাষ্ট্রপুঞ্জ, ১ আগস্ট (আইএএনএস): জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকির বিরুদ্ধে আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তানজানিয়াকে ৮ লক্ষ ৪০ হাজার…

ByByNews Desk Aug 1, 2026

রুশ সেনা থেকে মুক্তি পেয়েছেন ১৩৯ ভারতীয়, বাকি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা চলছে: বিদেশ মন্ত্রক

নয়াদিল্লি, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): রুশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত থাকা ১৩৯ জন ভারতীয় নাগরিককে ইতিমধ্যেই মুক্ত করা হয়েছে এবং এখনও…

ByByNews Desk Jul 31, 2026

পিওজেকেতে সাধারণ মানুষের উপর দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা ভারতের, পাকিস্তানকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি

নয়াদিল্লি, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর (পিওজেকে)-এ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা জানাল…

ByByNews Desk Jul 31, 2026

মধেশে সাম্প্রদায়িক অশান্তির আবহে আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী

কাঠমান্ডু, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় মধেশ প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রদায়িক হিংসার আবহে শুক্রবার মধেশভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের…

ByByNews Desk Jul 31, 2026
Scroll to Top