লখনউ, ১০ অক্টোবর (হি.স.): তারুণ্যে কুস্তিই ছিল তাঁর প্রথম প্রেম। যৌবনে কুস্তির বদলে রাজনীতির ময়দানকেই বেছে নেন মুলায়ম। দেশের প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হয়ে ওঠেন ‘নেতাজি’। সোমবার সকাল ৮.১৬ মিনিট নাগাদ গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদব। ১৯৩৯ সালের ২২ নভেম্বর, অধুনা উত্তর প্রদেশের এটাওয়া জেলার সাইফাই গ্রামে জন্ম হয় মুলায়ম সিং যাদবের। বাবা সুঘর সিংহ যাদব। মা মূর্তি দেবী। এটাওয়ার ‘কর্মক্ষেত্র পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ’ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক। শিকোহাবাদের ‘একে কলেজ’ থেকে বিটি এবং আগরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিআর কলেজ’ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। ছাত্রাবস্থাতেই রাজনীতির আবহে ঢুকে পড়েন অধুনা উত্তরপ্রদেশের ‘নেতাজি’। সাধারণ মানুষের কথ্য ভাষায় অসাধারণ বক্তৃতা করার ক্ষমতা তাঁকে পাঁচজনের মধ্যে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল সেই তখনই। যদিও তাঁর প্রথম প্রেম সেই সময় ছিল কুস্তিই।
সাল ১৯৬২। যশবন্তনগরের একটি গ্রামে বিধানসভা ভোটের প্রচার চলাকালীন একটি কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়। সেখানে প্রতিযোগী হিসেবে ছিলেন মুলায়মও। আর সেই প্রতিযোগিতা দেখতে হাজির হয়েছিলেন সংযুক্ত সোশালিস্ট পার্টির টিকিটে সেই ভোটের প্রার্থী নত্থু সিং। কুস্তি শুরু হল। একের পর এক পালোয়ানকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন হন মুলায়ম। ১৯৬৭-তে প্রথম বার ভোটে লড়েন মুলায়ম। সেই যশবন্তনগর থেকেই, সংযুক্ত সোশালিস্ট পার্টির টিকিটে। সংসদীয় রাজনীতিতে পথচলা শুরু হয় মুলায়মের। এই কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবেই মুলায়ম ১৯৮৯-তে প্রথম বার উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হন। তখন তিনি জনতা দলের বিধায়ক। ১৯৯৩-তে আবার মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম। এক বছর আগেই তৈরি করে ফেলেছেন সমাজবাদী পার্টি।
১৯৯৬-এর লোকসভা ভোটে দাঁড়াতে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। লোকসভা কেন্দ্রের নাম মইনপুরী। ভোটে জিতে দেবগৌড়া মন্ত্রিসভায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান কুস্তির প্যাঁচে বিপক্ষকে ঘায়েল করা মুলায়ম। ২০০৩-এ আবার ফেরেন লখনউ। আবার মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। উপনির্বাচনে গান্নউর থেকে জিতে আসেন। তৃতীয় দফায় মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরার পর মুলায়ম দিল্লির রাজনীতিতেই বেশি করে মনঃসংযোগ করেন। তাঁর স্থায়ী আসন হয়ে দাঁড়ায় মইনপুরী।
লালু এবং বামপন্থীদের পাশাপাশি মুলায়মই সেই বিরল নেতাদের অন্যতম, যিনি কখনওই বিজেপির সঙ্গে জোট বাঁধেননি। বরং, কখনও কংগ্রেস আবার কখনও বিজেপিকে হারাতে মুলায়ম হাত মিলিয়েছিলেন দলিত নেত্রী মায়াবতীর সঙ্গেও। একাধিক বিতর্কে বার বার জড়িয়ে পড়েছিলেন মুলায়ম। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জেরে তৈরি হওয়া বাতাবরণ— মুলায়ম সর্বদাই থাকতেন শিরোনামে। লোকসভায় তাঁর ভাষণ কিংবা ভোটের আগে নিজের লোকসভা কেন্দ্র মইনপুরীতে জনসভা— মুলায়মের বাচনভঙ্গি আর রসবোধে মুগ্ধ হননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। শেষ দু’বছরেরও বেশি সময় অবশ্য নিজে প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন নেতাজি।


















