করিমগঞ্জ (অসম), ১৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া সহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের মন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছে পিএইচই অস্থায়ী শ্রমিক কর্মচারী পরিষদ। বিভিন্ন দাবি সংবলিত একটি স্মারকপত্রও পরিষদের কর্মকর্তাগণ মন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার পৌরোহিত্যে কোকরাঝাড়ে অনুষ্ঠিত রাজ্যের ক্যাবিনেট বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সমগ্র রাজ্যে ৪,৫০০ জন জলমিত্র নিয়োগ করা হবে এবং তাঁদেরকে মাসিক ৬ হাজার টাকা করে পারিতোষিক দেওয়া হবে। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নয় বলে বিভাগীয় মন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়াকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পিএচই অস্থায়ী শ্রমিক কর্মচারী পরিষদ। তাঁরা তাঁদের জীবনসংগ্রামের করুণ কাহিনি মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে বলেন, এই চরম মূল্যবৃদ্ধির যুগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একপ্রকার অর্ধাহারে দিন কটাতে হচ্ছে। রাজ্য সরকার বিভিন্ন বিভাগে নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে তাঁদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়ার কাছে দাবি রাখেন তাঁরা।
স্মারকপত্রে তাঁরা উল্লেখ করে বলেন, রাজ্য সরকার সম্প্রতি ৪৫০০ জন পিএইচই অস্থায়ী শ্রমিক কর্মচারীকে জলমিত্র হিসাবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু সমগ্র রাজ্যে প্রায় ৯৫০০ জনের বেশি অস্থায়ী শ্রমিক কর্মচারী রয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পানীয় জলের সমস্যা দূর করার জন্য পিএইচই বিভাগের দ্বারা অসম সরকারের বহু সংখ্যক জল প্রকল্প নির্মাণ করে এই প্রকল্প চালানোর জন্য বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের পূর্বের প্রতিশ্রুতি মতে ভূমি দাতার পরিবারের সদস্য ও কিছু শিক্ষিত বেকার যুবককে পাম্প অপারেটর হিসাবে নিযুক্তি দেওয়া হয়। সে হিসাবে তারা বিগত দশ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে পরিষেবা প্রদান করে আসছেন। কিন্তু জলমিত্র নিয়োগ থেকে বাদ পড়ছেন তাদের অধিকাংশ।
তাই পিএইচইর ৯,৫০০ জন অস্থায়ী শ্রমিক কর্মচারীকে একসঙ্গে নিয়োগপত্র প্রদান করার দাবি রাখা হয় পরিষদের পক্ষ থেকে। সেই সঙ্গে পিএইচই বিভাগ থেকে নিয়োগ পত্র প্রদান করার জন্য বিভাগীয় মন্ত্রীর কাছে জোরালো দাবি রাখেন পরিষদের কর্মকর্তাগণ। বিভাগীয় মন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন পিএইচই অস্থায়ী কর্মচারী পরিষদের সম্পাদক বাপন নমঃশুদ্র, দীপক বসুমতারি, শামিম আহমেদ লস্কর, শংকর কলিতা, খগেনচন্দ্র দেউরি, লুৎফুর রহমান লস্কর সহ পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য।



















