আগরতলা, ৪ আগস্ট : চিকিৎসকদের পেশা একটা মহৎ পেশা। চিকিৎসকদের প্রতি জনগণের একটা সম্মানবোধ থাকতে হবে। অনেক সময় হাসপাতালে চিকিৎসক ও রোগীদের পরিবারের মধ্যে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যায়। যা কোনভাবেই কাম্য নয়। চিকিৎসক এবং রোগীদের সম্পর্ক আরও মধুর হতে হবে। কারণ জন্ম বা মৃত্যু উভয় ক্ষেত্রেই শংসাপত্র দিয়ে থাকেন চিকিৎসকগণ। আজ কল্যাণপুর সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নবনির্মিত ভবন এবং স্টাফ কোয়ার্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। এদিন সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন ভবন ও স্টাফ কোয়ার্টার উদ্বোধন উপলক্ষে কল্যাণপুর বাজারে সোনারতরি মুক্তমঞ্চে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নয়নে সরকার আন্তরিক। শুধু ঘটা করে হাসপাতালের উদ্বোধন করলেই হবে না। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে হাসপাতালের পারিপার্শিক পরিমন্ডলকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তিনি বলেন, হাসপাতাল একটা মন্দিরের মতো। কারণ মানুষের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে হাসপতালে গিয়েই নিরাময় করতে হয়। তাই হাসপাতালকে মন্দিরের মতোই পবিত্র রাখতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের উপর আস্থা রাখতে হবে রোগী এবং তাদের পরিজনদের। বিশ্বাস রাখতে হবে তাদের পরিষেবার উপর। এক্ষেত্রে চিকিৎসক এবং রোগীদের মধ্যে সুসম্পর্ক রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে রোগীদের পরিষেবার জন্য চিকিৎসকদেরও নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব উজার করে দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে খুবই আন্তরিক। কারণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বাস্থ্য ঠিক থাকলেই মানুষের সবকিছু ঠিক থাকে। মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন সকলের মিলিত প্রচেষ্টাতেই আমরা এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডা. সাহা আরও বলেন, রাজ্যে নেশা বিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে সরকার। নেশা বিরোধী অভিযানে অভিভাবকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। নেশা থেকে ছেলেমেয়েদের বিরত রাখতে অভিভাবকদের আরও এগিয়ে আসার আহ্বান রাখেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সার্বিক বিকাশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঐকান্তিক ভূমিকা নিয়েছেন। এদিকে রাজ্য সরকারও হাসপাতালগুলির পরিষেবার মান আরও উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে বর্তমানে দুটি মেডিকেল কলেজ, স্টেট হাসপাতাল ৬টা (অ্যালোপ্যাথি ৪টি, হোমিও ১টি ও আয়ুর্বেদিক ১টি) রয়েছে। তিনি জানান, রাজ্যে একটি ডেন্টাল কলেজ স্থাপনের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা ডা. রাধা দেববর্মা বলেন, কল্যাণপুর সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নবনির্মিত ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। এই সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩০টি শয্যা রয়েছে। তাছাড়া স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা।

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নয়নে সরকার আন্তরিক : মুখ্যমন্ত্রী
Tags:
Releated Posts
রক্তদান হচ্ছে জীবন রক্ষার এক মহান ব্রত: মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ জুন: রক্তের কোনও জাত, ধর্ম বা বর্ণ নেই। রক্ত আমাদের শিক্ষা দেয় যে আমরা…
খোয়াইয়ে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত, যোগাভ্যাসে শামিল মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী
খোয়াই, ২১ জুন : ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগব্যায়াম’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খোয়াইয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হল ১২তম…
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে সুস্থ জীবনের বার্তা, মোহনপুরে যোগাভ্যাসে শামিল কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ
মোহনপুর, ২১ জুন : আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে মোহনপুরে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে যোগচর্চার মাধ্যমে সুস্থ ও সচেতন…
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে স্বাস্থ্যসচেতনতার ডাক, যোগচর্চার আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর
আগরতলা, ২১ জুন: আগরতলা, ২১ জুন : আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে উদ্দীপনা ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে পালিত…


















