কুমারঘাট, ২৬ মার্চ : মানুষের অনুপ্রেরণাতেই নতুন দিশায় সরকার কাজ করার উৎসাহ পায়। রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রয়োজন। তাই রাজ্যে সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ রাখা হয়েছে। আজ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুমারঘাট মহকুমা হাসপাতালের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। মহকুমা হাসপাতালের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এতো বড় জনসমাগমের মধ্যে একজন হাত তুলে বলুন তো কার খাদ্য নেই, বস্ত্র নেই। এই সরকার সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। আমরা নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে দৃঢ় প্রত্যয়ী। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার তার ধারাবাহিক কর্মকান্ড জারি রেখেছে। তাই গণবন্টন ব্যবস্থা থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য সর্বক্ষেত্রে নতুন দিশায় উন্নয়ন হচ্ছে। রাজ্যে ফরেন্সিক ইউনিভার্সিটি যেমন হয়েছে তেমনি জিবি হাসপাতালে হয়েছে ওপেন হার্ট সার্জারিও। তাও বিনামূল্যে। এটাই হলো পরিবর্তন। এখন রাজ্যেই উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া যায়। নিউরো থেকে বাইপাস সার্জারিও হয় আমাদের রাজ্যে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্প রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। বর্তমান সরকার এখন পর্যন্ত শহর ও নগর এলাকায় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার সুবিধাভোগীকে গৃহ নির্মাণ করে দিয়েছে। জলজীবন মিশনে রাজ্যের প্রতি ঘরে বিনামূল্যে পানীয়জল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় সড়ক থেকে সার্বিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে রাজ্যে উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে, আরও হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোভিড অতিমারীর সময়ে বিভিন্ন সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বিনামূল্যে কোভিড টিকাকরণও করা হয়েছে। রাজ্যবাসীর কল্যাণে গত অর্থবছরের তুলনায় এবারের রাজ্য বাজেটে ১৮:৬৬ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শ্রমমন্ত্রী ভগবান দাস বলেন, আজ কুমারঘাটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা পূরণ হলো। সরকার রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায়ও স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঊনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. শুভাশিস দেববর্মা। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সুধাংশু দাস, কুমারঘাট পুরপরিষদের চেয়ারপার্সন বিশ্বজিৎ দাস, জেলাশাসক উত্তম কুমার চাকমা, জেলা পুলিশ সুপার কিশোর দেববর্মা সহ বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিগণ ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অটল স্বসহায়ক দলের সদস্যাগণ মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তাদের হাতে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেন। সেইসঙ্গে কুমারঘাট লায়ন্স রয়্যালসের পক্ষ থেকে কুমারঘাট মহকুমা হাসপাতালের জন্য ৩টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর তুলে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালের দ্বারোদঘাটনের পরে নবনির্মিত ভবন ঘুরে দেখেন। উল্লেখ্য, এই হাসপাতালের ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা। ইতিমধ্যেই ১৬টি কোয়ার্টারের মধ্যে ৪টির নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেছে।



















