Anju Bobby George : বিশ্ব অ্যাথলেটিকস সংস্থার ‘বর্ষসেরা মহিলা’নির্বাচিত হলেন অঞ্জু ববি জর্জ

নয়াদিল্লি, ২ ডিসেম্বর (হি.স.) : প্রাক্তন ভারতীয় অ্যাথলিট অঞ্জু ববি জর্জকে বিশেষ সম্মান দিল বিশ্ব অ্যাথলেটিকস সংস্থা। ক্রীড়ার প্রসার ও মহিলাদের অংশগ্রহণে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স সংস্থার ‘বর্ষসেরা মহিলা’ শিরোপা অর্জন করলেন অঞ্জু ববি জর্জ। বিশ্ব অ্যাথলেটিকস সংস্থা জানিয়েছে, অঞ্জু ভারতের বহু মহিলাকে খেলাধুলায় যোগ দিতে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ভারতে ক্রীড়ার বিস্তারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন। তাই যোগ্য ব্যক্তি হিসাবেই তাঁকে এই খেতাব দেওয়া হচ্ছে। ২০০৩ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে একমাত্র ভারতীয় হিসাবে পদক জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন এই কিংবদন্তি লং জাম্পার।

বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয় – “আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য পাওয়া প্রাক্তন ভারতীয় লং জাম্পার খেলাধূলার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছেন। অঞ্জু ২০১৬ সালে কিশোরীদের জন্যে একটি অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। যেখান থেকে ইতিমধ্যেই অনূর্ধ্ব ২০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পদকজয়ী উঠে এসেছে। ভারতীয় অ্যাথলেটিক্স সংস্থার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে লিঙ্গসাম্যের জোরালো কন্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন অঞ্জু।”

বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স সংস্থার বিরল সম্মান পেয়ে আপ্লুত অঞ্জু। ভারতীয় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র জানান –“বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স সংস্থার কাছ থেকে বর্ষ সেরা মহিলা সম্মান পেয়ে আমি ভীষণ খুশি ও সম্মানিত বোধ করছি। প্রতিদিন সকালে উঠে খেলার জগতে কিছুটা ফিরিয়ে দিতে পারার অনুভূতিটা দুর্দান্ত। ছোট ছোট মেয়েদের স্বশক্তিকরণে ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ পাই। আমার এই প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যে অনেক ধন্যবাদ।”

কেরালা থেকে উঠে আসা অঞ্জু ভারতের একমাত্র ক্রীড়াবিদ হিসসবে আইএএএফ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে (প্যারিস, ২০০৩) পদক জিতেছেন। ২০০৪ আথেন্স অলিম্পিকে নিজের শ্রেষ্ঠ দূরত্ব (৬.৮৩মিঃ) পার করে তিনি ষষ্ঠ স্থান (পরবর্তীতে পঞ্চম) পেয়েছিলেন। অল্পের জন্য ব্রোঞ্জ হাতছাড়া হয় তাঁর। অথচ, এই সব কিছুই তিনি করেন জটিল শারীরিক সমস্যা নিয়ে।

আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতো দু’টি নয়, একটি কিডনি রয়েছে অঞ্জুর শরীরে। শুধু তাই নয়, যেকোনও প্রকার ওষুধেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কবলে পড়েন তিনি। তাই কোনও কারণে চোট লাগলে, ওষুধ খেলেই আরও অসুস্থ হয়ে পড়তেন। কখনও অজ্ঞান হয়ে যেতেন। চোট সারতেও অনেক বেশি সময় লাগত। এত প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং অলিম্পিকে তাঁর সাফল্য রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেয় গোটা বিশ্বকে। ভারতের বহু মহিলার কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠেন তিনি।

শুধু তাই নয়, অবসর নেওয়ার পরও খেলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি। ২০১৬ সালে নিজস্ব অ্যাথলেটিকস অ্যাকাডেমি খোলেন অঞ্জু। যা ভারতের তরুণ মহিলা অ্যাথলিটদের প্রশিক্ষণ দেয়। অঞ্জুর অ্যাকাডেমি থেকে ইতিমধ্যেই অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে পদকজয়ী অ্যাথলিট বেরিয়ে এসেছে। অঞ্জু ভারতের অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত। ক্রীড়াক্ষেত্রে মহিলাদের আরও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন তিনি। তাঁর এই বহুমুখী কর্মকাণ্ডেরই স্বীকৃতি দিল বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স সংস্থা। প্রসঙ্গত অঞ্জুর অ্যাকাডেমি থেকেই উঠে এসেছেন শৈলী সিং। অঞ্জুর স্বামী ববি জর্জের প্রশিক্ষণাধীন শৈলী নাইরোবিতে আয়োজিত অনূর্ধ্ব ২০ ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নে রুপো জিতেছেন। অঞ্জুর বিশ্বাস অদূর ভবিষ্যতে শৈলী তার রেকর্ড ভেঙ্গে দেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *