আগরতলা, ১৪ ডিসেম্বর (হি.স.)৷৷ এইডসরোগ নির্মূলে সারা ত্রিপুরায় একযোগে এইচআইভি পরীক্ষা শুরু হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের নির্দেশে ত্রিপুরাকে এইচআইভি মুক্ত রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছে ত্রিপুরা স্টেট এইডসকন্েন্টাল সোসাইটি৷ তাতে আজ প্রথম দিনে প্রায় ১,৪০০ জনের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে৷
সম্প্রতি বিশ্ব এইডসদিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার ত্রিপুরাকে এইচআইভি মুক্ত রাজ্য গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন৷ সেই লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য তিনি দিশা নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ তাঁর পরামর্শ ছিল, সারা ত্রিপুরায় মিশন মোডে গণ-পরীক্ষার মাধ্যমে এইডসরোগী চিহ্ণিত করার ব্যবস্থা হোক৷ কারণ, যেভাবে এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ছে তাতে প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির বাইরে গিয়ে রোগীদের চিহ্ণিত করতে হবে৷
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর ত্রিপুরা স্টেট এইডসকন্েন্টাল সোসাইটি এ-বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে দেয় এবং আজ থেকে আগামী ১ মাসব্যাপী বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন এবং বাস স্ট্যান্ডে এইচআইভি পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়৷ এ-বিষয়ে ত্রিপুরা স্টেট এইডসকন্েন্টাল সোসাইটির জনৈক আধিকারিক জানিয়েছেন, আজ ত্রিপুরার ৮-টি জেলায় ১৮টি স্থানে একযোগে সকাল ৯-টা থেকে এইচআইভি পরীক্ষা হয়েছে৷ তাতে, প্রায় ১,৪০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে৷
তাঁর কথায়, এইচআইভি পরীক্ষার ক্ষেত্রে সম্মতির প্রয়োজন রয়েছে৷ অন্যান্য রোগের পরীক্ষার মতো সাধারণ প্রক্রিয়ায় সম্ভব নয়৷ তাই, একেক জনের পরীক্ষায় কিছুটা সময়ের প্রয়োজন পড়েছে৷ কারণ, তাকে সামগ্রিক বিষয় বুঝিয়েই ওই পরীক্ষার জন্য রাজি করানো হয়েছে৷ তিনি বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ে আগামী ১৮ ডিসেম্বর সারা ত্রিপুরায় একযোগে এইচআইভি পরীক্ষা করা হবে৷ তাতে, সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রত্যাশা রয়েছে৷ তাঁর কথায়, এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্ণিত হলে চিকিৎসার মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব৷ তাই, গণ-পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ মূলত, এইচআইভি সংক্রমিতের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধির কারণেই এই বিশেষ উদ্যোগ নিতে হচ্ছে৷
এই পরীক্ষার জন্য সবর্োচ্চ ১৫ মিনিটের প্রয়োজন হয়৷ নির্দিষ্ট কিটের সহায়তায় নমুনা সংগ্রহের কিছুক্ষণের ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷

