নিজস্ব প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া, ৬ ডিসেম্বর৷৷ বন্য দাঁতাল হাতির উন্মত্ত তাণ্ডবে দিশেহারা তেলিয়ামুড়া মহাকুমার উত্তর কৃষ্ণপুর, মধ্য কৃষ্ণপুর, দক্ষিণ কৃষ্ণপুর, চামপ্লাই, বালুছড়া এলাকার মানুষজন৷ এই এলাকার মানুষজনের যেন বংশ-পরম্পরা অভিশাপের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে হাতির তাণ্ডব যা গ্রাম্য ভাষায় গণেশের তান্ডব৷
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তেলিয়ামুড়া মহকুমার মধ্য কৃষ্ণপুর পূর্ব পাড়া এলাকায় শনিবার রাত আনুমানিক ৮:৩০ থেকে ৯:০০ নাগাদ বণ্য দাঁতাল হাতির দল উন্মুক্ত তাণ্ডব চালায়৷ এতে সর্বস্বান্ত হয়ে পরে এলাকার ৬-৭ টি পরিবার৷ এর মধ্যে বিশেষ করে এই এলাকার বাসিন্দা বাবুল সরকারের বাড়িতে ঢুকে বসত ঘর ভেঙ্গে তছনছ করে দেয়, ওই সময় ওই ঘরে ছিল বাবুল সরকারের মা এবং বোন৷ তাছাড়া বাবুল বাবুর ক্যাবলের ব্যবসার সূত্রে বাড়িতে ক্যাবলের কিছু যন্ত্রপাতি ছিল৷ সেই যন্ত্রপাতিগুলো ভেঙ্গে দেয় উন্মুক্ত বণ্য হাতি, তাছাড়া উনার বাড়ির পাশের সব্জি খেতটিতেও তাণ্ডব চালায় বন্য হাতি৷ সব মিলিয়ে বাবুল সরকারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক লক্ষাধিক টাকা৷ তাছাড়া একই এলাকার বাসিন্দা কিঙ্কর দাসের এক কানি খেতে তাণ্ডব চালায় বন্য হাতি, এতে কিঙ্কর দাসের মরিচ, মিষ্টি আলু সহ বিভিন্ন সব্জি মাঠেই নষ্ট হয়ে যায়৷
তাছাড়া সুজিত বিশ্বাস ও উষা রঞ্জন মল্লিকের রাবার বাগানে তান্ডব চালিয়ে ভেঙ্গে তছনছ করে ফেলে প্রায় চার পাঁচ লক্ষাধিক টাকার রাবার গাছ৷ তাছাড়া একই এলাকার হরিমোহন সরকার, নারায়ন দাস, সবিতা সরকারের বসতঘর ,রান্নাঘর ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয় গণেশ৷ তাছাড়া বছর ৯৫ এর বৃদ্ধ এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি গোবিন্দ সরকার নিজে অল্প বিস্তর আঘাতপ্রাপ্ত হয়৷ সব মিলিয়ে শনিবার রাতে বন্যহাতির দলের উন্মুক্ত তাণ্ডবের ধবংসলীলায় মধ্য কৃষ্ণপুর পূর্ব পাড়া এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ থেকে ১২ লক্ষাধিক টাকা৷
এলাকাবাসীর অভিযোগ করে বলেন, বনদপ্তরের কর্মী বাবুদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় এক থেকে দুই ঘন্টা পর৷ তাদের কাছে এলাকাবাসীরা নিশ্চয়তার আশ্রয় চাইলে তারা গ্রামবাসীদের সামনে এগিয়ে দিয়ে গ্রামবাসীদের পেছনে লুকিয়ে ঢাল তলোয়াল-হীন নিধিরাম সদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়৷ তাছাড়া এলাকাবাসী আরো অভিযোগ করে, তারা নাম কি বাস্তে ১-২ প্যাকেট বাজি নিয়ে হাতি তাড়াতে আসে৷ আর ১-২ প্যাকেট বাজি শেষ হয়ে গেলে তারা অফিস মুখী হতে ব্যস্ত হয়ে পরে৷ তাছাড়া এলাকার মানুষজন যখন বনদপ্তরের কর্মী বাবুদের এলাকার সুরক্ষার কথা চিন্তা করে একটি অস্থায়ী হাতি তাড়ানোর জন্য ক্যাম্প বসানোর কথা বলে তখন বনদপ্তরের কর্মী বাবুরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে দায়সারা মনোভাব নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে কেটে পরে৷বনদপ্তরের এরকম ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে ওই এলাকার মানুষজন৷
জানা যায়, কিছুকাল পূর্বে বর্তমান বন মন্ত্রী চামপ্লাই এলাকায় হাতি তাড়ানোর জন্য একটি অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করে দিয়ে গেলেও কথা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলোতে আরো ক্যাম্প বসানো হবে৷কিন্তু, এখন পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হয়নি, মন্ত্রী বাহাদুরের কথাই শুধু সার৷
এখন এই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার এলাকাবাসীরা চাইছে, ২০০২ সালে একবার পোষ্য হাতি দিয়ে বন্য দাঁতাল হাতি গুলিকে তাড়ানো হয়েছিল সেই পন্থাই যেন আবারো অবলম্বন করে রাজ্য সরকারের বনদপ্তর নতুবা এলাকাবাসীদের সুরক্ষার স্বার্থে এলাকায় অস্থায়ী হাতি তাড়ানোর জন্য ক্যাম্প তৈরি করে দেওয়া হোক৷
এখন দেখার বিষয়, এই গ্রামীণ এলাকার সহজ-সরল মানুষজনদের কথা রাজ্যের বনদপ্তর কতটুকু চিন্তাভাবনা করে৷ সেদিকেই তাকিয়ে এখন এসকল গ্রামীণ এলাকার সহজ সরল গ্রামীণ এলাকার মানুষজনেরা৷

