করিমগঞ্জ (অসম), ৪ মে (হি.স.) : টর্চের আলো চোখে পড়ার দরুন এক প্রতিবেশীর হাতে বেঘোরে প্রাণ দিতে হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত জনৈক সেনা জওয়ানকে। হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে করিমগঞ্জ জেলার বদরপুর থানার অন্তর্গত ঘোড়ামারা গ্রামে রবিবার রাত আনুমানিক ১১টা নাগাদ। আকস্মিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। হতভাগ্য পরীক্ষিত দাসের ছোট ভাই পরমজিৎ দাস প্রতিবেশী প্রীতম দাস ও স্বপন দাসকে অভিযুক্ত করে বদরপুর থানায় খুন সংক্রান্ত এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে এক মামলা নিয়ে বদরপুর পুলিশ তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখলেও, এখন পর্যন্ত ধরপাকড়ের কোনও খবর নেই। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুরনো জমি বিবাদের জেরেই এই প্রাণ হরণকারী ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে।
প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে, ঘোরামারা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান পরীক্ষিত দাস প্রতিদিনের মতো রবিবার রাতেও খাওয়া দাওয়া শেষে টর্চ নিয়ে বাড়ির সামনে রাস্তায় এদিক ওদিক নিরীক্ষণ করছিলেন। আচমকা তাঁর টর্চ লাইটের আলো প্রতিবেশী পিনাক দাসের চোখে পড়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পিনাক। ইচ্ছে করে টর্চের আলো চোখে ফেলিনি। পরীক্ষিত বিনয়ের সঙ্গে বার বার জানালেও প্রীতম কোনও মতেই তাঁর আবদার মানেনি। এক সময় পিনাক পরীক্ষিতের উপর চড়াও হয়ে যায়। এতে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এরই মধ্যে প্রীতমের কাকা স্বপন দাস ও ভাই সজল দাসও পরীক্ষিতের ওপর হামলা চালায়। এই সুযোগে পিনাক বাড়ি থেকে দা নিয়ে এসে পিছন থেকে পরীক্ষিতের মাথায় সজোরে কোপ মেরে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষিত আর্তনাদ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
আর্তনাদ শুনে পরীক্ষিতের ছোট ভাই ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন। তাঁর উপস্থিতি বুঝতে পেরে ঘাতকরা দৌড়ে তাদের বাড়ির ভেতর চলে যায়। পাশের বাড়ির লোক বলেই ঘাতকদের চিনতে পারেন বলে হতভাগ্য পরীক্ষিতের ছোট ভাই, জানান তিনি নিজে। ঘাতক প্রীতমের দায়ের কোপে পরীক্ষিতের মাথার প্রায় সিংহ ভাগ অংশ কেটে যায়। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই পরীক্ষিত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বলে তাঁর ছোট ভাই জানান।
আজ সোমবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য হতভাগ্য পরীক্ষিত দাসের নিথর দেহ করিমগঞ্জ অসামরিক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ময়না তদন্তের পর পরীক্ষিতের দেহ তাঁর পরিবারের হাতে সমঝে দেয় পুলিশ। অত্যন্ত শোকসন্তপ্ত পরিবেশের মধ্যে নিজের গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ানের সৎকার কার্য সমাধা হয়।
এদিকে এক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর দুর্গা পূজার সময় জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পরীক্ষিত দাস ও প্রীতম দাসের পরিবারের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়েছিল। সে থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে এক সুপ্ত জেদ গোপনে বাসা বেঁধেছিল। সামান্য টর্চের আলোর মাধ্যমেই প্রীতমের মাথায় পুরনো জেদ চেপেছিল বলে অনেকেই অনুমান করছেন। আর এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে পরীক্ষিত দাসের খুনের মাধ্যমে।


















