নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৭ ফেব্রুয়ারী৷৷ উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুরে গত কয়েকমাস ধরে যে অশান্তির পরিবেশ বিরাজ করছে তার মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছে আমরা বাঙালি দল৷ দলের রাজ্য সম্পাদক গৌরাঙ্গ রুদ্রপাল শুক্রবার আগরতলায় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, রিয়াং শরণার্থী সমস্যা নিয়ে বিতর্কের জেরে কাঞ্চনপুর মহকুমায় ৯৩টি অউপজাতি পরিবার হিংসার কবলে পড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে৷
ওইসব পরিবার এখনও বাড়িঘরে ফিরে যেতে পারেনি৷ তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে দল৷ উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুর মহকুমায় আশ্রিত রিয়াং শরণার্থী সমস্যার সমাধান ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে৷ কিন্তু এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে মহকুমায় হিংসাত্মক কার্যকলাপে বেশকিছু অউপজাতি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে৷ মোট ৯৩টি পরিবার এখনও বাড়িঘরে ফিরে যেতে পারেনি৷ তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় অনাহারে অনিদ্রায় দিন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে৷
প্রচণ্ড শীতে জবুথবু ওইসব পরিবারের লোকজন৷ রিয়াং শরণার্থী সমস্যা সমাধান হলেও বাস্তুচ্যুত এইসব পরিবারের জন্য রাজ্য সরকার নূ্যনতম সহানুভূতি দেখায়নি বলে অভিযোগ আমরা বাঙালি দলের৷ দলের পক্ষ থেকে শুক্রবার আগরতলায় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলিকে পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বাড়িঘরে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে৷ ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণেরও দাবি জানিয়েছে আমরা বাঙালি দল৷
শুধু তাই নয়, ১৯৮০ সালের ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গার পর থেকে যেসব পরিবার এখনও বাস্তুচ্যুত তাদেরকেও বাড়িঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে আমরা বাঙালি দল৷ এদিকে প্রশাসনিক উদাসীনতার শিকার কাঞ্চনপুরের বাস্তুচ্যুত ৯৩টি অউপজাতি পরিবারের কাছে সামান্য ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে আমরা বাঙালি দল৷ দলের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, শিশুখাদ্য, বস্ত্র সহ কিছু নগদ টাকাও তুলে দেওয়া হয়েছে৷ অবিলম্বে কাঞ্চনপুরের বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আমরা বাঙালি দল বৃহত্তর আন্দোলনে শামিল হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে৷

