নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ মে৷৷ বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা লোকসভা আসনের ১৬৮টি বুথে রবিবার পুণঃ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে৷ তবে এই পুণঃ নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ ব্যক্ত করেছে শাসক ও বিরোধী দলগুলি৷ প্রতিটি দলেরই অভিযোগের তীর নির্বাচন কমিশনের দিকে৷ দলগুলি সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট হয়েছে বলে মানতে নারাজ৷ শাসক দল বিজেপি এই পুণঃ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ মানতে নারাজ৷ অন্যদিকে, সিপিএম ও কংগ্রেসের অভিযোগ বুথের বাইরে আতঙ্কের পরিবেশ কায়েম ছিল৷
এদিকে, আজ ১-পশ্চিম ত্রিপুরা লোকসভা আসনের ১৬৮টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হয়৷ আজ বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৬৮টি ভোটকেন্দ্রে গড়ে ভোট পড়েছে ৭২.৩ শতাংশ৷ আজ সন্ধ্যায় রাজ্য নির্বাচন দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক শ্রীরাম তরণীকান্তি৷ সাংবাদিক সম্মেলনে বিশেষ মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক পি আর ভ-াচার্য এবং অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক ইউ মগ উপস্থিত ছিলেন৷

ভোটারদের হয়রানির গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হয়েছে বলে সিপিএমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে৷ কাকড়াবন-শালগড়া বিধানসভা কেন্দ্রে তুতাবাড়ি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা ভোট দিতে যেতে পারছেন না, এ ধরনের এক গুজব ছড়িয়ে দেওয়ায় কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা ভোটকেন্দ্র সংলগ্ণ একটি বাড়িতে ঢুকে সমস্ত রান্নার জিনিসপত্র ফেলে তছনছ করে দিয়েছে৷ শুধু তা-ই নয়, মহিলা-সহ বেশ কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে৷ বিজেপি-র মণ্ডল সভাপতি অভিষেক দেবরায় কেন্দ্রীয় আধা-সেনার মারে আহত হয়েছেন৷ বিজেপি-র ত্রিপুরা প্রদেশ কমিটি বিষয়টি বিশেষ পর্যবেক্ষক বিনোদ জুৎসির কাছে নালিশ জানিয়েছে৷ এদিকে, বাগমা এবং বিশালগড় বিধানসভা কেন্দ্রে দুই কংগ্রেস কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে৷
আজ ত্রিপুরা পশ্চিম আসনের ১৬৮ বুথে পুণঃ নির্বাচন হয়েছে৷ সকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বেলা যত গড়িয়েছে, ভোট-পরিস্থিতি ততই গরম হয়েছে৷ কাকড়াবন-শালগড়া বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে দেওয়া হলে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দেয়৷ অভিযোগ, তুতাবাড়ি বুথের পাশে একটি বাড়িতে ঢুকে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা ভাঙচুর করেছে৷ বিজেপি-র মণ্ডল সভাপতি অভিষেক দেবরায়ের অভিযোগ, স্থানীয় সিপিএম কর্মী শঙ্কর পুরকায়স্থের প্ররোচনায় কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা বিভ্রান্ত হয়েছেন৷ তাঁর দাবি, ভোটারদের বাধা দেওয়ার কোনও ঘটনা ঘটেনি, অথচ সিপিএমের ওই কর্মী মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে এলাকায় অস্থিরতা কায়েম করেছে৷ তাতে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা তুতাবাড়ি বুথ সংলগ্ণ একটি বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়েছে৷ মহিলা-সহ বেশ কয়েকজনকে মেরেছেও তারা৷
এদিকে, খবর পেয়ে কাকড়াবন থানার ওসি নাড়ুগোপাল দাস এবং এসডিপিও হিমাদ্রীপ্রসাদ দাস ঘটনাস্থলে ছুটে যান৷ কাকড়াবন থানার ওসি জানিয়েছেন, ভোট প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে হয়েছে৷ সামান্য গণ্ডগোল হয়েছিল৷ কিন্তু, এখন তা মিটে গেছে৷ তবে, বিজেপি-র অভিযোগ, দলীয় কর্মীরা ভোট দিতে যেতে পারছেন না৷ কেন্দ্রীয় বাহিনীই তাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিয়েছে৷ এ ঘটনায় বিজেপি-র ত্রিপুরা প্রদেশ কমিটির পক্ষ থেকে বিশেষ পর্যবেক্ষক বিনোদ জুৎসির কাছে নালিশ জানানো হয়েছে৷ বিজেপি-র প্রদেশ মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, সিপিএম কর্মীরা গুজব রটিয়ে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছেন৷ তাদের ফাঁদে নিরাপত্তা বাহিনীও পা দিয়েছে৷ এদিনের ঘটনা সম্পর্কে বিশেষ পর্যবেক্ষক বিনোদ জুৎসিকে জানানো হয়েছে৷ কারণ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মারে বিনা দোষে এক বিজেপি কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন৷
এদিকে, বিশালগড় বিধানসভার অধীন কড়ইমুড়া এলাকায় আজ সকালে সিপাহিজলা জেলা যুব কংগ্রেস সভাপতি পাপাই চৌধুরীকে মারধর এবং তাঁর সোনার হার ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে৷পাপাই চৌধুরী জানিয়েছেন, আজ সকালে কয়েকজন দুষৃকতকারী তাঁকে প্রচণ্ড মারধর করেছে৷ মারধর করে যাওয়ার সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই করেছে৷ তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস সমর্থক হওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয়েছে৷ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সমীর রঞ্জন বর্মনও এই ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷ তিনি বলেছেন, ব্যাপক সন্ত্রাস হয়েছে৷ এদিকে, বাগমা বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন ৫১ নং বুথে ভোট চলাকালীন কংগ্রেস কর্মী রাহুল দেবনাথ আক্রান্ত হয়েছেন৷ তিনি আরকেপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন৷ তিনি জানিয়েছেন, কংগ্রেস কর্মী হিসেবে বুথের বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন৷ বিজেপি কর্মীরা হঠাৎ এসে মারধর শুরু করেন৷ কোনওক্রমে পালিয়ে তিনি বেঁচেছেন৷
অন্যদিকে, পশ্চিম আসনের ১৬৮ বুথে পুণঃ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপির মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য৷ এজন্য তিনি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারীককে দায়ী করেছেন৷ এক সাংবাদিক সম্মেলনে নবেন্দু ভট্টাচার্য্যের দাবি, পুনর্ভোটে বিজেপি কর্মীরা যেভাবে আক্রান্ত হয়েছে, তাতে ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে মানা যায় না৷ তিনি বলেন, অধিক নিরাপত্তা বাহিনী, নির্বাচন কমিশনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক পুণঃ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা নির্বাচনের এই অবস্থার দায় মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক এড়াতে পারেন না৷
পুণঃ নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেস ও সিপিএম একই সুরে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে৷ কংগ্রেসের তরফ থেকে পশ্চিম আসেনর প্রার্থী সুবল ভৌমিকের অভিযোগ আতঙ্কের পরিবেশ কায়েম হয়েছিল দিনভর৷ বিভিন্ন স্থানে ভোটাররা ভীতসন্ত্রস্ত ছিলেন৷ গতকাল থেকেই কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা চালানো হয়েছে৷ শুধু তাই নয় এদিন বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হলেও বাইরে ছিল আতঙ্কের পরিবেশ৷ ভোটাররা ভীত সন্ত্রস্থ ছিল বলে অনেকেই ভোট দিতে যায়নি৷ তাইতাই ভোটের হার কমেছে৷ এদিকে, রবিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাশ অভিযোগ করে বলেন, বুথ নিরাপদ করেই দায়িত্ব সেরে নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন৷ বুথের বাইরেও নিরাপত্তা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল৷ কিন্তু, কমিশন তা করেনি৷ তাই এই পুণঃ নির্বাচন আতঙ্কের মধ্যে কেটেছে এবং তিনি দাবি করেন এই পুণঃ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি৷