নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ মে৷৷ নৃত্য-সঙ্গীত ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে আজ সকালে রবীন্দ্রকাননে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৮-তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে৷ তথ্য ও সংসৃকতি দফতর এই প্রভাতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে৷ অনুষ্ঠানের শুরুতে রবীন্দ্র মূর্তির পাদদেশে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ত্রিপুরা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিন্দম লোধ, ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড় সুকান্ত বণিক, তথ্য ও সংসৃকতি দফতরের অধিকর্তা আশুদেব দাস, রাজ্য সাংসৃকতিক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুভাষ দেব, বিভিন্ন সাংসৃকতিক সংস্থার শিল্পী, সাহিত্যিক ও গুণীজনগণ৷

অনুষ্ঠানে কুজন সাংসৃকতিক অ্যাকাডেমির শিল্পীদের সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সাংসৃকতিক অনুষ্ঠানের সূচনা হয়৷ এর পর ৩৫টি সাংসৃকতিক দলের পাঁচ শতাধিক শিল্পী রবীন্দ্র সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তিতে অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত করে তুলেন৷ অনুষ্ঠানে বহু দর্শক ও শ্রোতার সমাগম হয়েছিল৷
এদিকে স্থানীয় টাউন হল প্রাঙ্গণে কবির প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করেন গোমতী জেলার জেলাশাসক টিকে দেবনাথ-সহ অন্যান্য গুণীজনেরা৷ এই অনুষ্ঠানের পর পুরনো রাজবাড়ি ভুবনেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে প্রভাতী কবিপ্রণাম অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়৷ সাংসৃকতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা রবীন্দ্র সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন৷ অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন জেলা তথ্য ও সংসৃকতি দফতরের সহকারী অধিকর্তা দেবাশিস নাথ৷ পরে ভুবনেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে অতিথিগণ বৃক্ষ রোপণ করেন৷ অনুষ্ঠিত হয় শিশুদের মধ্যে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা৷
এছাড়া কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আজ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নাচ, গানের মধ্যে সাংসৃকতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়৷ উদয়পুর ভুবনেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে তিনদিন ব্যাপী ১৭-তম রাজর্ষি উৎসব৷ উৎসব শেষ হবে আগামী শনিবার৷ জানা গেছে, আজ সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেছেন গোমতির জেলাশাসক ড় চন্দ্রিকা বসু মজুমদার৷ তাছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার এআর রেড্ডি, নেতাজি সুভাষ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা দীপান্বিতা চক্রবর্তী প্রমুখ৷
এদিকে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে শান্তিরবাজারে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৮-তম জন্মজয়ন্তী পালিত হয়েছে৷ জানা গেছে, এদিন সকালে শান্তিরবাজার সুগারমিল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় প্রভাতফেরী৷ প্রভাতফেরী শেষে শান্তিরবাজার সুগারমিল প্রাঙ্গণে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তিতে মাল্য ও পুষ্প দান করা হয়৷ পরবর্তী সময়ে খুদে শিল্পীরা রবীন্দ্রসঙ্গীত, আবৃত্তি এবং নৃত্য পরিবেশন করে৷ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শান্তিরবাজার পৌর পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সত্যব্রত সাহা, মিঠন দত্ত, স্বপ্ণা বৈদ্য ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ৷ অনুরূপ অনুষ্ঠান হয়েছে কৈলাসহর, ধর্মনগর প্রভৃতি স্থানে৷