নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ মে৷৷ সাতদিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের সমস্ত কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন সংস্থার অধীনস্থ ঠিকাদাররা৷ তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের ঠিকাদারি কাজের বকেয়া মিটিয়ে দিচ্ছে না বিদ্যুৎ নিগম কর্তৃপক্ষ৷ এর পেছনে ২৫ জন আধিকারিককে দায়ী করেছেন তাঁরা৷ প্রায় দুই শতাধিক ঠিকাদার বিদ্যুৎ নিগমের অধীনে বিভিন্ন কাজ করছেন৷ কিন্তু, তাঁদের বকেয়া প্রচুর টাকা মিটিয়ে দিচ্ছে না বিদ্যুৎ নিগম৷

সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে বিদ্যুৎ নিগম ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুখলাল দেবনাথ বলেন, দুই বছর ধরে বিদ্যুৎ নিগম ঠিকাদারদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে না৷ দুই শতাধিক নিগমের অধীনে কাজ করছেন৷ প্রতি ঠিকাদারের অন্তত ১০ লক্ষ টাকা করে পাওনা৷ সুখলালের বক্তব্য, দীর্ঘ দিন ধরে নিগমের অধীনে কাজ করছি, কিন্তু এ-ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি কখনও৷ তাঁর অভিযোগ, ২০০৪ সাল থেকে টানা একই চেয়ারে যে আধিকারিকরা রয়েছেন, তাঁরাই নানা অনিয়মের সাথে যুক্ত৷ তাঁর দাবি, ওই সব আধিকারিকরা দুর্নীতির সাথেও যুক্ত এবং তাঁদের জন্যই ঠিকাদারদের বিল মিটিয়ে দিচ্ছে না নিগম৷
তিনি বলেন, পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য একাধিকার বিদ্যুৎ নিগমে ডেপুটেশন দিয়েছি৷ কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি৷ তাই, আজ ফের আগাম সময় চেয়ে নিয়ে নিগমের সিএমডি-র সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম৷ কিন্তু তিনি অফিসে ছিলেন না৷ তাঁর বদলে টেকনিক্যাল শাখার ডিরেক্টরকে দায়িত্ব দিয়ে এসেছেন৷ তাঁর কথায়, নিগমের অ্যাকাউন্টস বিষরক সমস্যা নিয়ে ওই আধিকারিক কোনও সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে পারেননি৷ সুখলালের কথায়, যে-কোনও দুযর্োগ মোকাবিলায় কিংবা হঠাৎ বিদ্যুৎ পরিবাহী ব্যবস্থায় ত্রুটি হলে ঠিকাদাররাই দায়িত্ব নিয়ে সমস্যার সমাধান করে থাকেন৷
তখন বকেয়া বিল মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়টি চিন্তার মধ্যে রাখা হয় না৷ কারণ, বিদ্যুৎ পরিষেবার সাথে সাধারণ জনগণের সুযোগ সুবিধা জড়িত৷ তাই, যে-কোনও সমস্যা হলে কিংবা নতুন কাজ করার ক্ষেত্রে ঠিকাদাররা কখনওই আপত্তি করেন না৷ তা সত্ত্বেও দীর্ঘ দিনের পাওনা মিটিয়ে দিচ্ছে না বিদ্যুৎ নিগম, আক্ষেপ করে বলেন সুখলাল দেবনাথ৷ আজ তিনি সংগঠনের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ নিগমকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী সাতদিনের মধ্যে ঠিকাদারদের সমস্ত পাওনা মিটিয়ে দেওয়া না হলে কাজ বন্ধ রাখা হবে৷ শুধু তা-ই নয়, এখন থেকে কাজ শেষ হওয়ার ২০ দিনের মধ্যে বিল মিটিয়ে দিতে হবে, এই শর্তও নিগমকে মানতে হবে৷