নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৩ সেপ্ঢেম্বর৷৷ আজ আগরতলার শিশু উদ্যানে রাজ্য ভিত্তিক আয়ুস্মান ভ ারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার উদ্বোধন হয়৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে রাজ্যপাল প্রফেসর কাপ্তান সিং সোলাঙ্কি বলেন, আজ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই ব হৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হচ্ছে৷ দেশর গরিব মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন যোজনা চালু করেছন প্রধানমন্ত্রী৷ এই সব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সবকা সাথ সব কা বিকারে যে শ্লেগান দিয়েছিলেন তার ব াস্তবায়ন হ চ্ছে৷ প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার মাধ্যমে দেশের প্রায় ১০ কোটি পরিবারের প রায় ৫০ কোটি মানুষ উপকৃত হবেন৷ এই ধরনের প্রকল্প দেশে এই প্রথম চালু হচ্ছে৷ রাজ্যপাল শ্রী সোলাঙ্কি বলেন, ২০১৪ সালে দেশের শাসনভার গ্রহণ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্ল্যানিং কমিশনের পরিবর্তে নীতি আয়োগ গঠন করে নতুন ভারত গড়ার ডাক দিয়েছিলেন৷ এই নীতি আয়োগের মাধ্যমেই ি বভিন্ন যোজনা চালু করার উদোগ নিয়েছন প্রধানমন্ত্রী৷ এরমধ্যে আজকের এই প্রকল্পটি অন্যতম৷ রাজ্যপাল মহাত্মা গান্ধির প্রসঙ্গ উত্থাপন করে ব লেন, মহাত্মা গান্ধিও দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন ভারত গড়ার প্রয়াস নিয়েছিলেন৷ মহাত্মা গান্ধি বলেছিলন, যতদিন না মানুষ এই দেশকে নিজের দেশ, দেশর সরকারকে নিজের সরকার বলে অনুভব না করবে ততদিন নতুন ভারত গড়ার স্বপ্ণ অধরা থেকে যাবে৷ পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ও সরকারি সমস্ত পরিষেবা সমাজের অন্তিম ব্যক্তির নিকট পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন৷ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছ ভারত, সুস্থ ভারত, সুরক্ষিত ভ ারত গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন যোজনা চালু করেছেন৷ প্রধানমন্ত্রী নতুন ভারত গড়ার যে স্বপ্ণ দেখেছেন তা পূরণ করার জন্য আমাদের সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে৷
আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের গরিবদের কল্যাণে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেেেছন৷ সেইসব প্রকল্পগুলি সমাজের অন্তিম ব্যক্তির কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে কাজ করছে৷ আজ আগরতলার শিশু উদ্যানে রাজ্য ভিত্তিক আয়ুস্মান ভ ারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ তিনি বলেন, এই প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন আমাদের রাজ্যের জনগণ৷ রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পে র মাধ্যমে উপকৃত হবেন৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ ঝাড়খন্ডের রাঁচিতে দেশব্যাপী এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন৷ এই প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের নামে উৎসর্গ করেছেন, যিনি সমাজের অন্তিম ব্যক্তির কাছে পৌঁছানোর জন্য সারা জীব ন কাজ করে গেছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীও গ্রাম সরাজের লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন৷ তিনি প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামে সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করে গেছেন৷ আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে দেশের গরিব দের জন্য পাকা ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা নিয়েছেন৷ শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী শৌচালয় যোজনার মাধ্যমে পাকা লেট্রিনের ব্যবস্থা করা, সৌভাগ্য যোজনার মাধ্যমে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া প্রভৃতি চালু করেছেন৷ আমাদের রাজ্যেওই ইতিমধ্যে ১ লক্ষ ৭০ হাজার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্য বিনমূল্যে গ্যাসকানেকশন দেওয়া হয়েছে৷ আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা চালু করেছেন যার মাধ্যমে গরিব পরিবাবরে সদস্যদের চিকিৎসার জন্য প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে৷ এর আগে দেশের কোনও প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের প্রকল্পের উদ্যোগ নেননি৷ এজন্য রাজ্যবাসীর পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন৷
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির ভাষণে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মন বলেন, দেশের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে আমাদের রাজ্যেও এই ঐতিহাসিক প্রকল্পটি আজ থেকে চালু হচ্ছে৷ দেশের গরিব জনগণ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ, সম্পদ বি ক্রি করে চিকিৎসার ব য় মেটাতে গিয়ে সর্বশান্ত হয়ে যাচ্ছেন৷ এর থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ২০১৭ সালে ন্যাশনাল হেলথ পলিসির মাধ্যমে স বার জন্য স্বাস্থ্য প রদানের উদোগ নিয়েছিলেন৷ আমাদের রাজ্যে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৭১টি হে লথ এন্ড ওয়েরনেস সেন্টার চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হে লথ এন্ড ওয়েরনেস সেন্টার চালু করার প রিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ আয়ুষ্মান ব ারতের অপর উপাদানটি হলো প্রধানমন্ত্রী জনআরোগ্য যোজনা৷ এই যোজনার মাধ্যমে গরিব পরিবারগুলিকে চিকিৎসা বাবদ প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাহায্য প্রদান করা হবে৷ এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের রাজ্যের প্রায় ৫ লক্ষ প রিব া র উপকৃত হ বে৷ রাজ্যের ৬২টি সরকারি হাসপাতালে সুবিধাভোগীরা প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার ই-কার্ড পাবেন৷
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ রাখেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব সমরজিৎ ভৌমিক৷ অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক আশিস কুমার সাহা ও বিধায়ক রামপ্রসাদ পাল, মুখ্যসচিব সঞ্জীব রঞ্জন এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিসনের অধিকর্তা ডা শৈলেশ যাদব৷