নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ সেপ্ঢেম্বর৷৷ রাজ্যে যে পরিস্থিতির জন্য ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের শূণ্য আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সেই

পরিস্থিতি রাজ্য সরকার সৃষ্টি করেছে৷ পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে খতম করার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের মোট আসনের অর্ধেকের বেশী আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে৷ যেটা ভারতের কোথাও ইতিপূর্বে হয়েছে কিনা তাতে সন্দেহ রয়েছে৷ রবিবার আগরতলায় সিপিএম পার্টি অফিসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথাগুলি বলেন প্রাক্তন পঞ্চায়েত মন্ত্রী মানিক দে৷
তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পঞ্চায়েতের নির্বাচিত সদস্যদের চাপের মুখে পদত্যাগ করানো হয়েছে৷ গণহারে পদত্যাগ করিয়েছে শাসক দল৷ পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে তিনি উদ্বেগের সাথে জানিয়েছেন৷ তিনি জানান, ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের উপনির্বাচনে সিপিএম লড়াইয়ের ময়দানে নামবে এটা নিশ্চিত৷ তবে তিনি রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যাতে প্রতিটি প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়৷ সেই সাথে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার উপর রাজ্য সরকারকে জোর দিতে হবে৷ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোট একটি পবিত্র উদ্যোগ৷ এ রাজ্যের ঐতিহ্য রয়েছে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের৷ কিন্তু, রাজ্যের যে বর্তমান পরিস্থিতি তাতে কতটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে সেনিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে মানিক দে বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলগুলির উপর যেভাবে অত্যাচার ও দমন পীড়ন করা হচ্ছে তাতে আসন্ন ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্য সরকারকে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে৷
পাশাপাশি প্রাক্তন পঞ্চায়েত মন্ত্রী মানিক দে বলেন, সামনেই সাধারণ নির্বাচন এর আগে এত আসনে উপনির্বাচন দেশের কোন রাজ্যে কোনওদিন হয়েছে কিনা জানা নেই৷ তিনি পঞ্চায়েত অ্যাক্টের কথা উল্লেখ করে বলেন, পঞ্চায়েতের সদস্যরা পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন৷ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি জনপ্রতিনিধি৷ এখন শূণ্য আসনে উপনির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও শপথ গ্রহণের বিষয়টি মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে৷ শুধু তাই নয় পঞ্চায়েত ভেঙ্গেও দেওয়া যাবে না৷ তিনি কড়া ভাষায় অভিযোগ করেছেন রাজ্যের নতুন সরকার পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে খতম করে দিতে চাইছে৷ যেখানে গোটা দেশে পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার চিন্তাভাবানা করছে৷
এদিকে, প্রসঙ্গক্রমে মানিক দে রাজ্যের বিভিন্ন পুর পরিষদ, পুর নিগম এবং নগর পঞ্চায়েতের কাজকর্ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাজ্য সরকার এইসব নির্বাচিত সংস্থাগুলিকে না জানিয়ে রাজ্য সরকার বিভিন্ন কাজ করে চলেছে৷ যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোন ভাবেই কাম্য নয়৷