কলকাতা, ১ আগস্ট (হি. স.) : জঙ্গলমহলে পঞ্চায়েত ভোটে খারাপ ফলের ক্ষত ঢাকতে কোমর বেঁধে নামছে শাসক শিবির। পরিবেশ-বান্ধব বাস চালু করা হবে| সেই সঙ্গে সেখানকার বিভিন্ন জায়গায় কাঠের জীর্ণ সাঁকো বদলে ফেলার উদ্যোগ চলছে। এই সঙ্গে জঙ্গলমহল-সহ ওই অঞ্চলের সাতটি জেলার গ্রামবাসীদের পাইপলাইনে পানীয় জল সরবরাহ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।
বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই বিশদ আলোচনা হবে নবান্নে | সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে কয়েক মাস বাদেই লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হতে পারে। সরকারের এই অতি সক্রিয়তায় আসন্ন নির্বাচনের যোগসূত্রই দেখছেন রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় সরকারি বাস বাড়ানো হয়েছে। আবার জঙ্গলমহলকে ডিভিশন করে পরিবেশ-বান্ধব বাস চালু করছে পরিবহণ দফতর। সম্প্রতি নবান্ন থেকে বারটি কিছু বাস চালুর সরকারী অনুষ্ঠানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, জঙ্গলমহলের পরিবহনের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে| বিধানসভায় পরিবহণমন্ত্রীও জানিয়েছেন এই কথা| কিন্তু সমস্যা হচ্ছে গিয়ে, কিছু প্রশস্ত কংক্রিটের সেতু এ কারণে তৈরী করতে হবে|
জঙ্গলমহলের বিভিন্ন প্রান্তে কাঠের নড়বড়ে সাঁকো রয়েছে। কোথাও কোথাও কংক্রিট থাকলেও সেটি এত সঙ্কীর্ণ যে, ছোট গাড়ি চলাচল করতে পারে না। এই অবস্থায় পর্যাপ্ত পরিসরের কংক্রিটের সেতু তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্যের সেচ দফতর। আর এ ক্ষেত্রে অন্য জেলা নয়, জঙ্গলমহলের সাঁকোকেই চিহ্নিত করেছে তারা। জঙ্গলমহলের সঙ্গে আরও দু’-একটি জেলা মিলিয়ে ৯৩৫টি কাঠের সাঁকো চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৫৩৪টি কাঠের সাঁকোকে কংক্রিটে পরিণত করবে সেচ দফতর। ১০০টি সেতুর জন্য মাটি পরীক্ষার কাজ শেষ। বাকি সেতুগুলির ক্ষেত্রে সেই কাজ শুরু হবে বর্ষার পরেই। মাটি পরীক্ষা, দরপত্র ইত্যাদি শেষ করে সেতু তৈরির মূল কাজ শুরু করতে ডিসেম্বর গড়িয়ে যাবে বলে কর্তাদের ধারণা।
সম্প্রতি বিধানসভায় সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র জানিয়েছেন, জঙ্গলমহল এবং সংলগ্ন অঞ্চলে কংক্রিটের সেতু প্রয়োজন। কোনও এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা দরকার। তাই রাজ্যের নিজের টাকায় পর্যায়ক্রমে কংক্রিটের সেতু তৈরী হবে| আগামী ডিসেম্বরে শুরু হবে সেতু নির্মাণের কাজ।
সেচ দফতর সূত্রের খবর, একটি বিশেষ খাত থেকে এই সেতু তৈরির অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের সাঁকো বদলের মধ্য দিয়ে এই কাজ শুরু হবে। কয়েকটি সাঁকো বদলানো হবে বর্ধমান, বীরভূমেও। আগামী তিন বছরের মধ্যে কংক্রিটের সেতু তৈরির প্রকল্পটি শেষ করার কথা।
রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে জলসঙ্কট চলে সারা বছরই। সরকার ওই এলাকার উন্নয়নের জন্য আলাদা ভাবে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ তৈরি করেছে। রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো বলেন, ‘‘জঙ্গলমহল-সহ পশ্চিমাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকাই উঁচু-নিচু। সেখানকার মাটি লাল। জলের সমস্যা সারা বছরের। নলকূপ বসানো সত্ত্বেও গরমের সময়ে পানীয় জলের ভীষণ সমস্যা দেখা দেয়। তাই জল প্রকল্প তৈরির জন্য আলোচনা চলছে।’’ দফতরের এক কর্তা জানান, গত বছরের বাজেটে ৪০০ কোটি টাকা পেয়েছিল পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতর। সেই টাকায় ৭৪টি ব্লকে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ হচ্ছে।
নলকূপ বসিয়েও জঙ্গলমহলের সমস্যার বিশেষ সুরাহা করা যায়নি। ১৩ হাজার কোটি টাকার পশ্চিমাঞ্চলের জল প্রকল্পের প্রাথমিক দরপত্র ডাকছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। রাজ্যের অন্যতম পিছিয়ে পড়া এলাকা পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দাদের একটা বড় অংশ তফসিলি, আদিবাসী এবং ওবিসি বা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত। জঙ্গলমহল-সহ ওই অঞ্চলের সাতটি জেলার ৬৪৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরের অধীনে। জল সরবরাহ প্রকল্প রূপায়ণের কাজে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ওই দফতর ইতিমধ্যেই জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জল প্রকল্প তৈরির খুঁটিনাটি তথ্য ছাড়াও প্রাথমিক হিসেব নিয়েছে। সেই হিসেবে দেখা যাচ্ছে, পাঁচ বছরে এই প্রকল্প শেষ করার জন্য প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে।