৷৷ সুবোধ ঘোষ৷৷
বই মেলায় কবি সম্মেলন প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল নাগা সন্ন্যাসীদের কথা৷ পূর্ণ কুম্ভী মেলায় শুধু একবার নাগা সন্ন্যাসীদের এক পলক দেখার সুযোগ পায়
দেশবাসী৷ পূর্ণ কুম্ভমেলা বার বছর পর অনুষ্ঠিত হয়৷ কুম্ভমেলার মাহেন্দ্র ক্ষণে পাহাড়ের গুহা থেকে দলবদ্ধভাবে নাগা সন্ন্যাসীরা জনসমক্ষে আসবে৷ জটাধারী উলঙ্গ নাগা সন্ন্যাসী৷ হর হর ব্যোম ব্যোম বলে পবিত্র গঙ্গার জলে কুম্ভ স্নান করে ফের গহীন পাহাড়ে চলে যান৷ বলছিলাম কবি সম্মেলনের কথা৷ এসে গেলাম নাগা সন্ন্যাসীদের কুম্ভ স্নান৷ নাগা সন্ন্যাসীদের কথা বলার অর্থ হল কবি সম্মেলনের প্রসঙ্গ টানা৷ বারো বছর পর নাগা সন্ন্যাসীদের যেমন একবার দেখা যায় তেমনি রাজ্যের কবিদেরও রাজ্যবাসী একবারই মঞ্চে দেখেন৷ পার্থক্য শুধু একটাই৷ তাহল সন্ন্যাসীদের বারো বছর পর একবার দেখা মেলে৷ অথচ কবিদের দেখা মিলে প্রতি বছর একটা নির্দিষ্ট সময়ে৷ সেই সময়টি হল বইমেলার মরসুম৷ রাজধানীর শিশু পার্কে দুই এপ্রিল থেকে শুরু হলো বইমেলা৷ প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম বইমেলা৷ বইমেলা ঘিরে বই প্রেমীদের উচ্ছ্বাস রয়েছে৷ রয়েছে আবেগ৷ কিন্তু এই উচ্ছ্বাস আবেগ প্রবীণদের মাঝে যতটুকু নবীনদের মাঝে ততটুকু নেই৷ তবুও বইমেলা মননের মেলা বলে কথা৷ সেই মননের মেলায় মেধা এবং পন্ডিত্যের বিকাশতো থাকতেই হবে৷ প্রতিদিনই বইমেলায় রয়েছে নানা কর্মসূচি৷ সাত এপ্রিল বইমেলায় দেখা যাবে এক ঝাঁক কবিকে৷ এ কবিদের সংখ্যা শুনে ভিরমি খাবার দশা৷ প্রায় তিনশতাধিক কবি৷ দুটি পর্বে সাজানো অনুষ্ঠান৷ দুটি পর্ব সঞ্চালন করবেন নকুল রায়৷ প্রশ্ণ হল, প্রায় তিনশ কবি সারা বছর কোথায় থাকেন? বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় রবিবাসরীয় পাতায় কবিদের তো তেমন দেখা যায় না৷ সাত এপ্রিল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কবিরা আসছেন৷ মঞ্চ আলো করে কবিতা পাঠ করবেন৷ মঞ্চ থেকে নামার সময় ছোট্ট একটা মিষ্টির প্যাকেট হাতে নিয়ে কবিরা বেশ৷ ভারিক্কিক মেজাজ নামবেন৷ তারপর সেই কবি যেন (সবাই নয়) নাগা সন্ন্যাসীদের মত নিজেকে গুটিয়ে নেন৷ উল্লেখ্য, বেশির ভাগ কবি পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে খবর পেয়ে থাকেন৷ তথ্য দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নিমন্ত্রণ পত্র পান না৷ তবুও তাদের কোন ক্ষোভ নেই৷ বইমেলার মঞ্চে কবিতা পাঠ করবেন এতেই তারা আনন্দে আত্মহারা৷ রাহা খরচ পাবেন একশত টাকা৷ তাই বা মন্দ কি? এরপরেও কিছু কথা এসে যায়৷
বইমেলার বাইরে কবিদের কতটুকু কদর থাকে? কয়জন কবির কবিতার বই রাজ্যের প্রকাশকরা ছেপেছেন? হাতে গোনা কয়জন ছাড়া আর সব কবি যেন অনেকটা ব্রাত্য হয়ে থাকেন৷ এবং সবচেয়ে অবাক ব্যাপার মনে হল যে, কয়জন কবির নাম নতুন প্রজন্ম জানে? জানার কথা নয়৷ কেন না, সিংহভাগ কবি গুরুত্বহীন হয়ে পড়েন কবি সম্মেলনরে পর থেকে৷ তবুও এই ধরনের কবিদের আহ্লাদের শেষ নেই৷ তবে এটাও সত্য যে, বইমেলায় কবি সম্মেলন হলেও রাজ্য জুড়ে কবিতার উৎকর্ষও খুঁজে পাওয়া যায়৷ পশ্চিম বাংলা এবং বাংলাদেশের কবিদের যেমন একটা স্বকীয়তা রয়েছে তেমন স্বকীয়তায় ঋগ্দ কয়জন কবি এ রাজ্যে রয়েছেন? কথায় বলে বাঙালি মাত্রেই ভাবুক৷ এ ভাবনা থেকে কবিতার বুদবুদ ছড়ায়৷ রাজ্যর অধিকাংশ কবিদের ক্ষেত্রে এমন ভাবনার অবকাশ রয়েছে বটে৷ সেই হিসাবে ভাবুক মাত্রেই কবি৷ আর সেই ভাবনায় পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটলে কবি সত্ত্বায় জেগে উঠে হাজারো কবিতার ফানুস৷ এদিক থেকে রাজ্যের অধিকাংশ কবি যেন পিছিয়ে আছেন৷ তাইতো তাদেরকে তুুষ্ট থাকতে হয় বইমেলার কবি সম্মেলনে৷ রাজ্যর বেশির ভাগ কবিদের এইটুকু যেন প্রাপ্য৷ তাইতো বলতে ইচ্ছে হয় জয়তু রাজ্যের কবি সমাজ৷

