বিশেষ প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ নভেম্বর৷৷ মৃত্যু, জীবনের অন্তিম পরিণতি৷ কিন্তু, অনেক মৃত্যু আমাদের কঠিন প্রশ্ণের মুখে এনে দাঁড় করায়৷

বৃহস্পতিবার আগরতলায় এক শিক্ষকের মৃত্যুও একইভাবে আমাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ণ ছুড়ে দিয়েছে৷
কারণ, ঐ শিক্ষক ছিলেন আদালতের রায়ে চাকুরীচ্যুত ১০৩২৩ জন শিক্ষকের মধ্যে একজন৷ তাঁর মৃত্যুতে প্রশ্ণ কেন উঠেছে, এর জবাব মিলল শুক্রবার সন্ধ্যায় আগরতলায় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গনে শ্রদ্ধাঞ্জলি কর্মসূচীতে৷ এই শ্রদ্ধাঞ্জলি কর্মসূচীতে প্রয়াত ১১ জন শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সহকর্মীরা৷ হঠাৎ ১১ জন প্রয়াত শিক্ষকের স্মরণে এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন আয়োজনের প্রেক্ষাপট নিয়ে খোঁজ খবর করে জানা গেছে, তাঁরা সকলেই চাকুরীচ্যুত ১০৩২৩ জন শিক্ষকের তালিকায় রয়েছেন৷ হাড়হিম করা বিষয় হল, আদালতের রায়ে চাকুরী বাতিল হওয়ার পর তাঁদের মৃত্যু হয়েছে৷
এদিন রবীন্দ্র ভবন প্রাঙ্গনে চাকুরীচ্যুত বেশ কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষিকা তাঁদের প্রয়াত সহকর্মীদের প্রতি মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন৷ চাকুরীচ্যুত শিক্ষকদের মধ্যে এক জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের অনুমান আদালতের রায়ের পর মোট ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ তবে, শিক্ষাদপ্তরের কাছ থেকে কেবল মাত্র ১১ জনের মৃত্যুর তালিকা মিলেছে৷
তিনি জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের পর থেকে সকলেই মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন৷ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের পর থেকে তাঁদের পরিণতি কি হবে সেই চিন্তায় সকলেরই রাতের ঘুম উবে গেছে৷ তাঁদের মধ্যে অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি৷ ফলে, পরিবার প্রতিপালনের চিন্তা তাঁদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে৷ তিনি বলেন, ১১ জন প্রয়াত সহকর্মী আদালতের রায়ের চাপ নিতে পারেননি৷ ২০১৪ সালে ত্রিপুরা হাইকোর্টের ১০৩২৩ জন শিক্ষকের চাকুরী বাতিলের রায়ের পর থেকে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁদের মধ্যে ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে৷ তিনি জানান, মাছমারার বাসিন্দা সন্তোষ শীল, উদয়পুরের সুদীপ রায় সরকার এবং বিশ্বজীৎ পাল, জিরানিয়ার অমিত দেববর্মা, বিলোনিয়ার কেশব বসু ও আগরতলার রঞ্জন কুমার সুত্রধর, সুজিৎ রায়, রাকেশ দেববর্মা, পার্থপ্রতিম পাল, সুজিৎ ধর এবং চন্দ্রপুরের অনুপ শর্মা শিক্ষকতার চাকুরী হারানোর চিন্তায় অকালে প্রয়াত হয়েছেন৷
এই ১১ জন শিক্ষকের অকাল মৃত্যুর জন্য কে দায়ি, সেই প্রশ্ণের উত্তর পাওয়া বড় কঠিন বলেই মনে হচ্ছে৷ তাঁদের করুণ পরিণতি বিধাতার নিষ্ঠুর পরিহাস, নাকি রাজনীতির ফায়দা নেওয়ার খেসারত, তা নিয়ে বিতর্ক হওয়াই স্বাভাবিক৷ এই ১১ জন শিক্ষকের মধ্যে অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি ছিলেন৷ ফলে, তাঁদের পরিবার নিয়ে আদৌ কেউ চিন্তিত কিনা সেই প্রশ্ণও উঠেছে৷
এদিন এই শ্রদ্ধাঞ্জলি কর্মসূচীতে চাকুরীচ্যুত জনৈক শিক্ষক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলেন, আরো কত সহকর্মীকে এভাবে হারাতে হবে তা ভাবলে মন শিউরে উঠে৷ এই জায়গায় দাঁড়িয়ে শোকাহত চাকুরীচ্যুত শিক্ষকরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন৷



















