নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ জুন৷৷ রাজ্যে শান্তির পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে৷ এই অভিযোগ এনে, শান্তি ফিরিয়ে আনতে আলোচনার দরজা খুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ মঙ্গলবার আগরতলায় দ্বিতল শিশু উদ্যান বিপনী বিতানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, দাবি নিয়ে শান্তির পরিবেশ নষ্ট করার বদলে আলোচনায় আসুন৷
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শান্তি হচ্ছে উন্নয়নের প্রাক শর্ত৷ উন্নয়ন এবং শান্তি হাত ধরাধরি করে চলে৷ ইদানীং রাজ্যে শান্তির পরিবেশ নষ্ট করার একটা প্রয়াস চলেছে৷ শান্তি বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যে কারোর যে কোন দাবী থাকতেই পারে৷ দাবী সমূহ নিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কথাও বলা যেতে পারে৷ কিন্তু একটা লন্ডভন্ড পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা হচ্ছে৷ সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করুন৷ এমন কোন পন্থার আশ্রয় নেয়া ঠিক নয়, যাতে শান্তি বিঘ্নিত হয়৷ তিনি বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে কোন জায়গায় বিদ্যালয়, হাসপাতাল নির্মাণ করার চেষ্টা হলেও সেখানে বাধা আসছে৷ এম জি এম রেগা প্রকল্পে পুকুর তৈরী করে সেখানে মাছের পোনা ছাড়া হবে এতেও বাধা আসছে৷
তিনি বলেন, গ্রাম এবং শহরের মধ্যে ফারাক দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ এই লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে৷ ত্রিপুরায় যখন সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের দরুণ স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছিল সে সময় এই সমস্ত পরিকল্পনা তৈরী করার সুযোগই ছিলনা৷ রাজ্যে শান্তির পরিবেশ ফিরে আসার পর সব কিছু ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে৷
শিশু উদ্যানের পশ্চিম এবং দক্ষিণ পাশে ড্রেনের উপর যে সমস্ত দোকান অস্থায়ী ভাবে গড়ে উঠেছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছিল তাদের এই বিপনী বিতানে স্থায়ীভাবে স্থান করে দেয়া হয়েছে৷ ১৩৫৭৮ স্কোয়ার মিটার জায়গায় উপর দ্বিতল এই ভবনে ১৩৯ টি রুম রয়েছে৷ এর মধ্যে গ্রাউন্ড ফ্লোরে ৬৩টি এবং ফাস্ট ফ্লোরে ৭৬ টি রুম রয়েছে৷ এই বাড়িটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১০৯৭ কোটি টাকা এবং এটি নির্মাণ করতে সময় নিয়েছে দুই বছর৷ ১৭৫ মিটার ড্রেনের উপর আর সি সি কভার দেয়া হয়েছে৷ সম্পূর্ণ প্রজেক্টটির নির্মাণের দায়িত্বে ছিল রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তর৷ ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর মধ্যে বিপনী বিতানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে উৎসাহ ছিলো চোখে পড়ার মত৷ ওই এলাকার অনেক প্রবীণ নাগরিককেই দেখা গেছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকতে৷ মুখ্যমন্ত্রীও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উজ্জয়ন্ত প্রাসাদকে ঘিরে যে পরিকল্পনা নিয়ে রাজ্য সরকার এগিয়ে যাচ্ছে তা বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেন৷
মুখ্যমন্ত্রী শ্রী সরকার বলেন, আগরতলা শহরের জন্য আজ একটি আনন্দের দিন৷ এই এলাকাটি উজ্জয়ন্ত চক হিসাবে কিভাবে গড়ে তোলা যায় তা নিয়ে রাজ্য সরকারের চিন্তাভাবনা ছিল৷ এই বিপনী বিতানটি এই চিন্তাভাবনারই ফসল৷ শিশু উদ্যানটিকেও রাজ্য সরকার খুলে দিতে চাইছে৷ ওই মাঠের সবুজের চোহারাকেও ফিরিয়ে আনতে চাইছে সরকার৷ শিশু উদ্যানের জন্য সব মিলিয়ে তিনটি গেইট নির্মাণ করা হবে৷ এর মধ্যে ২টি গেইট ইতোমধ্যেই নির্মাণ হয়ে গেছে৷ সব মিলিয়ে উজ্জয়ন্ত চক তৈরীর কাজ প্রায় শেষের পথে৷ রবীন্দ্রভবনের সামনে থেকে যে রাস্তাটি মহিলা মহাবিদ্যালয় পর্যন্ত চলে গেছে সেই রাস্তাটি উন্নত করতে হবে৷ এর আসপাশের যে সমস্ত ব্যবসায়ীরা রয়েছেন তারা সবাই মিলে সাহায্য করলে এই এলাকাটি আরও সুন্দর হবে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যান চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য আগরতলা শহরে কিছু পার্কিং জোন স্থাপন করা যায় কিনা তার চেষ্টা চলেছে৷ আগরতলা শহর থেকে দক্ষিণ দিকে যে সমস্ত যানবাহন চলাচল করে সেখানকার মূল কেন্দ্রে বটতলায় একটি নতুন বাড়ী তৈরীর চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে প্রচুর সংখ্যক গাড়ী সেখানে পার্কিং করা যায়৷ এ জন্য এন বি সি সির সঙ্গে কথাবার্তা চলেছে৷ আগরতলায় পুরনো মোটরস্ট্যান্ডটিতেও পার্কিং জোন করা যায় কিনা তার চিন্তাভাবনা চলেছে৷
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে নগরোন্নয়নমন্ত্রী মানিক দে বলেন, আগরতলা শহরের চেহারা ক্রমেই পাল্টাচ্ছে৷ শহরের বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের আরও মার্কেট হয়েছে৷ আড়ালিয়ায় আরেকটি গড়ে তোলা হচেছ৷ ক্রেতা পথচারীদের যাতে এই মার্কেটগুলিতে আসতে অসুবিধা না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে৷ যতটুকু সুবিধা আছে এজে কাজে লাগিয়েই আগরতলা শহরকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে৷ তিনি বলেন, আগরতলাকে স্মার্ট সিটি হিসাবে গড়ে তোলার ঘোষণা করা হলেও অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে৷ নামের সঙ্গে কাজের কোন মিল নেই৷ নগরোন্নয়নমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের কাজে সাফল্য আসার পাশাপাশি দেখা গেছে অনেকেরই উন্নয়নের কাজ পছন্দ হচ্ছেনা৷ যারা শান্তি প্রগতির বিরোধী তারা অতীতেও চেষ্টা করেছে কি ভাবে অশান্তি জিইয়ে রাখা যায়৷ তিনি রাজ্যে শান্তির পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সব অংশের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন৷
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুর নিগমের সেন্ট্রাল জোন এডভাইজরী কমিটির চেয়ারম্যান ফুলন ভট্টাচার্য্য, বলেন, আগরতলার গর্বের পালকে একটি নতুন সংযোজন হচ্ছে এই বিপনী বিতান৷ পুর পারিষদ রত্না দত্ত বলেন, মার্কেটের পাশের রাস্তা প্রশস্ত হওয়ার সবার চলাচলের অনেক সুবিধা হয়েছে৷ অনুষ্ঠানে এছাড়া বক্তব্য রাখেন লেনিন সরণি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শ্যামল ভট্টাচার্য্য৷ স্বাগত ভাষণ দেন পুর কমিশনার দেবপ্রিয় বর্দ্ধন৷ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র ড. প্রফুল্লজিৎ সিনহা৷
2017-06-28

