নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ জুন৷৷ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে সিপিএম৷ বিজনবাবুরা তা ভালই উপলব্ধি করতে পেরেছেন৷ কারণ, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক অতীতের ত্রুটি বিচ্যুতি ভুলতে চাইছেন৷ পাশাপাশি সমগ্র রাজ্যে উপদ্রুত আইন জারি করার দাবীরও তীব্র বিরোধিতা করেছে সিপিএম৷ সিপিএমের মতে, এটি অগণতান্ত্রিক এবং অবাস্তব দাবী৷
সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বিজন ধর বলেন, বিজেপি অস্থির বাতাবরণ সৃষ্টি করতে চাইছে৷ আর এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে রাজ্যের মানুষের গণতান্ত্রিক আধিকারও কেড়ে নিতে চাইছে৷ বিজন ধর বলেন, উপদ্রুত আইন জারির দাবী কোন ভাবেই যুক্তি সঙ্গত নয়৷ শুধু তাই নয় কি পরিস্থিতিতে উপদ্রুত আইন জারি করতে হয় সে সম্পর্কেও রাজ্য বিজেপির নেতাদের কোন ধারনাই নেই৷
অবশ্য ১৯৮৮ সালের পুনরাবৃত্তির শঙ্কা যে বিজনবাবুদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে তা এদিন আরো স্পষ্ট হয়ে গেছে৷ কারণ, তিনি অতীতের সমস্ত ত্রুটি বিচ্যুতি ভুলতে চাইছেন৷ এবিষয়ে তাঁর ব্যাখ্যা, পার্টির মূল্যায়ণে ত্রিপুরাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা হয়েছিল৷ সামগ্রিক ক্যানভাসে নির্বাচনকে দেখা হয়নি৷ যার জন্য যে ষড়যন্ত্র হচ্ছিল, সেদিকে পার্টির নজর কম ছিল৷ তিনি বলেন, সরকার নানা প্রকল্প রূপায়ন করেছে৷ নৃপেনবাবু-দশরথবাবুরা বিরোধী দলে থাকাকালীন যে সমস্ত বিষয় নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন, সরকারে এসে তা বাস্তবায়ন করেছেন৷ তাই রাজ্যের মানুষই বামফ্রন্টকে ক্ষমতায় এনেছে৷ কিন্তু, মানুষের লড়াকু মেজাজ সংগঠনের চিন্তা চেতনায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি ছিল৷ তিনি স্বীকার করেন, মানুষের সাথে বোঝাপড়ার ঘাটতি আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে৷ তাই ধারণা করা হচ্ছে, তাদের জন্যই রাজ্যের এখন এই পরিস্থিতি সেটা সিপিএম উপলব্ধি করতে পেরেছে৷ আর এজন্যই বিজনবাবু, সকলকে চারিদিকে নজর রাখার আর্জি জানিয়েছেন৷
পাশাপাশি সিপিএম রাজ্য সম্পাদক শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিজেপি সাড়া দেশেই যা খুশি করে চলেছে৷ সামান্য বিষয়কেও বড় করে দেখিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে৷ কখনো গরু, কখনো মাংস৷ এই নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করা হচ্ছে৷ তবে ত্রিপুরায় কোন ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না৷ তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজ্যে ইতিপূর্বে যে সমস্ত কংগ্রেস নেতা নানা ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ এবং অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারাই এখন বিজেপিতে সামিল হয়েছেন৷ ইতিমধ্যে এই বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে৷ বিভিন্ন ইস্যুতে জনগণকে খেপিয়ে দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার চেষ্টা চলছে৷
এদিন তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি আমরা আক্রান্ত হই, তাহলে আত্মরক্ষায় যে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হবে৷ কারণ, আত্মরক্ষার অধিকার সকলের রয়েছে৷ আইনও সেটাই বলছে৷
2017-06-27

