নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ জুন৷৷ রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক৷ গতকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত না
হওয়ায় বন্যা কবলিত অধিকাংশ এলাকায় জলনেমে গেছে৷ সরকারী তথ্য অনুসারে এই বন্যায় ৭৬৬২ পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷ এখনো ১২টি ত্রাণ শিবিরে বন্যা দূর্গতরা রয়েছেন৷ তাতে মোট ১৯৩ পরিবার আশ্রিত৷
সরকারী তথ্য অনুসারে, খোয়াই এবং পশ্চিম জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে৷ খোয়াই জেলায় খোয়াইতে মোট ৩৭টি গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷ তাতে মোট ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সংখ্যা ৭৮৯৷ খোয়াইতে ৮টি বাড়ি পুরো ভেঙ্গে গেছে৷ ১৮টি মারাত্মকভাবে এবং ৬০টি বাড়ি আংশিক ভেঙ্গেছে৷ ইতিমধ্যে তাদেরকে প্রশাসনের তরফে ৫ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে৷ তেলিয়ামুড়ায় মোট ৮টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷ তাতে মোট ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সংখ্যা ৮৫০৷ ৯টি বাড়ি পুরোপুরি ভেঙ্গে গেছে৷ ১১১টি বাড়ি আংশিক ভেঙ্গেছে৷
এদিকে, পশ্চিম জেলায় সদর মহকুমায় পুর নিগম এলাকায় সবচেয়ে বেশি পরিবার বন্যায় কবলিত হয়েছে৷ বন্যায় মোট ২৪টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷ তাতে মোট ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সংখ্যা ৪৮৩৩৷ ৯টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷ পুর নিগম এলাকায় মোট ২৯টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছিল৷ এর মধ্যে ৪টি ত্রাণ শিবিরে এখনো ১৪৬টি পরিবার আশ্রিত৷ এদিকে, জিরানীয়ায় মোট ১১টি গ্রামে ৭৬৫ পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷ জিরানীয়া মহকুমায় বন্যায় ১৩টি বাড়ি পুরোপুরি ভেঙ্গে গেছে৷ তাছাড়া ১৩টি বাড়ি মরাত্মকভাবে এবং ১০৭টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷ এই মহকুমায় মোট ১০টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছিল৷ এর মধ্যে ৩টি ত্রাণ শিবিরে এখনো ১৬ পরিবার আশ্রিত৷
মোহনপুর মহকুমায় হেজামারা এবং মোহনপুরে ৯টি গ্রামে ৪২৫ পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷ এই দুটি স্থানে মোট ২০টি বাড়ি পুরোপুরি এবং ১৮০টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে গেছে৷ মোহনপুর মহকুমায় মোট ২০টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছিল৷ এর মধ্যে ৩টি ত্রাণ শিবিরে এখনো ২০ পরিবার আশ্রিত৷ এদিকে, কৈলাসহর পুর পরিষদ এলাকায় বন্যায় গত ১৯ জুন ১৯ পরিবার ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল৷ তাদের প্রশাসনের তরফে ৭৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে৷ এছাড়া কোন আর্থিক সহায়তা এখনো কাউকে দেওয়া হয়নি৷
বন্যায় রাস্তা এবং কৃষির কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তার হিসেব এখনো বের করতে পারেনি পূর্ত এবং কৃষি দপ্তর৷ তবে, দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে জেলা শাসকদের সহায়তায় হিসেব তৈরি করা হচ্ছে৷ কৃষি দপ্তরের জনৈক আধিকারীক জানিয়েছেন, বন্যায় ফসলের ভিষণ ক্ষতি হয়েছে৷ পুরো রিপোর্ট তৈরি করতে আরো ৫/৬ দিন সময় লাগবে৷ একইভাবে রাস্তাঘাটের ক্ষতির পরিমান পুরো বের করতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে বলে সূত্র অনুসারে জানা গেছে৷
নদীগুলির জল স্তর অনেকটাই নেমেছে৷ তবে, আগামী ২/৩ দিন ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া বিভাগ সূত্রে জানা গেছে৷ ফের ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি বিগরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷
2017-06-22

