বৈঠক এড়িয়ে দিল্লি গেলেন মুকুল, হতাশ সুদীপ বর্মনরা ফিরলেন রাজ্যে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২২ এপ্রিল৷৷ ত্রিপুরার তৃণমূল নেতাদের সাথে বৈঠক এড়িয়ে দিল্লি ছুটে গেলেন দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায়৷ ফলে, এক প্রকার নিরাশ হয়েই রাজ্যে ফিরে এসেছেন সুদীপ বর্মণরা৷ তবে, প্রদেশ তৃণমূল সভাপতি তথা বিধায়ক আশীষ কুমার সাহা কলকাতায় রয়ে গেছেন৷ সূত্রের খবর, তিনি মমতার সাথে দেখা করার চেষ্টা করছেন৷ কিন্তু, বৈঠকের নির্ধারিত সূচী থাকা সত্বেও মুকুল রায়ের ত্রিপুরার নেতাদের এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টিতে ভিষণ ক্ষেপেছেন বিধায়ক সুদীপ বর্মণ৷ তাই দলনেত্রীর সাথে পরবর্তী কোন আলোচনার সুযোগ খোঁজার বদলে বিধায়ক দীবাচন্দ্র এবং বিধায়ক প্রণজিৎ সিংহ রায় ও দীপক মজুমদারকে নিয়ে তিনি আজ রাজ্যে ফিরে এসেছেন৷
শুক্রবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের সাংগঠনিক নির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত বৈঠকে রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে দলনেত্রীকে বিস্তারিত জানান রাজ্যের নেতৃত্বরা৷ ২০১৮ বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের কিভাবে হটানো যাবে তার দীশা খুঁজে দিতে বলেন তাঁরা৷ সে মোতাবেক শনিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল এবং সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বক্সির সাথে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল আশীষবাবুদের৷
সূত্রের খবর, শনিবার সকালেই জরুরী কাজের অজুহাত দেখিয়ে দিল্লি চলে যান মুকুল রায়৷ আজকের বৈঠকে ২০১৮ বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল নির্ধারণ হওয়ার কথা ছিল৷ বাম বিরোধী শক্তিকে সংহত কিভাবে করা যায় তা নিয়েও আলোচনা হওয়ার ছিল৷ কিন্তু, আশীষবাবুদের সাথে রাজ্যের বিষয়ে বৈঠক না করেই মুকুল রায় দিল্লি চলে যান৷ শুধু জানিয়ে যান, কয়েকদিন বাদে বৈঠকের দিনক্ষণ তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হবে৷ তাতে, মুকুল রায় আশীষ সাহা-সুদীপ বর্মণদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে ধারণা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের৷ ফলে, এও অনুমান করা হচ্ছে, তৃণমূল হাইকমান্ড প্রদেশ নেতৃত্বদের উপর ভিষণ অসন্তুষ্ট৷ আর এই অবস্থা সুদীপ বর্মণদের রাজনৈতিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে৷ কারণ, কাংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে গিয়ে এখন যে রাজনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে তাতে সুদীপ বর্মণদের ভবিষ্যৎ এক অনিশ্চিয়তার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে৷ এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণ তাঁদের পক্ষে আদৌ সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে৷