নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ এপ্রিল৷৷ পৃথক স্থানে দুই কিশোরী ধর্ষিতা হয়েছে৷ একটি ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারলেও অন্য ঘটনায় অভিযুক্ত পালিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে৷ ঘটনাগুলি ঘটেছে মনুবাজারে এবং সোনামুড়ায়৷
সংবাদে প্রকাশ, মনুবাজার থানার অধীন পোয়াংবাড়ি এলাকার বাসিন্দা অমিত ত্রিপুরা (১৮) এর বিরুদ্ধে এক কিশোরী ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছে৷ সেই মোতাবেক মনুবাজার থানার পুলিশ অমিত ত্রিপুরাকে গ্রেপ্তার করেছে৷ জানা গিয়েছে, মোবাইলের মাধ্যমে অমিত ও ঐ কিশোরীর মধ্যে পরিচয় হয়৷ দুজনের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠে৷ সম্প্রতি দুইজনের দেখা হয় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে৷ তাদের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হয়৷ ঐ বিয়ের অনুষ্ঠানের পর বেশ কয়েকবার ঐ কিশোরীর সাথে অমিতের দেখা সাক্ষাৎ হয়৷ কয়েকবার তারা শারীরিক সম্পর্কও গড়ে তুলে বিয়ের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে৷ কয়েকদিন ধরে অমিত ঐ কিশোরীকে আর আগের মতো ভালোবাসেনা৷ এই ব্যাপারে কিশোরী অমিতের কাছে কারণ জানতে চাইলে অমিত জানায় তাকে বিয়ে করতে পারবে না৷ বিষয়টি ঐ কিশোরী তার পরিবারের লোকজনকে জানায়৷ পরে কিশোরীর পরিবার অমিতের অভিভাবকদের সাথেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে৷ কিন্তু, কোন সদুত্তর না পেয়ে অমিতের বিরুদ্ধে কিশোরীর পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন৷ মনুবাজার থানায় অমিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করা হয়৷ মামলা হয় ভারতীয় দন্ডবিধির ৩৭৬ ও ৫১৭ ধারা মোতাবেক৷ পুলিশ মামলা নিয়ে অভিযুক্ত অমিত ত্রিপুরাকে গ্রেপ্তার করেছে৷
এদিকে, সোনামাড়য় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এলাকারই এক যুবকের বিরুদ্ধে৷ অভিযুক্ত যুবকের নাম সুরজ মিয়া৷ জানা গিয়েছে, এলাকারই এক কিশোরী গরু চড়ানোর জন্য পাশের নির্জন মাঠে যায়৷ সেখানে গেলে সুরজ মিয়া নাকি ঐ কিশোরীকে মুখে চাপা দিয়ে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে৷ শুধু তাই নয়, ঐ কিশোরীকে মুখ খুলতে বারণ করেছে, যদি কাউকে কিছু বলে তাহলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দিয়েছিল সুরজ মিয়া৷ পরে কিশোরী বাড়িতে গিয়ে নির্ভয়ে তার অভিভাবকদের গোটা বিষয়টি জানায়৷ তারপর পরিবারের লোকজন শুক্রবার সোনামুড়া থানায় একটি লিখিত এফআইআর করেন৷ পুলিশ ঐ এফআইআর মূলে একটি মামলা নিয়েছে৷ মামলার নম্বর ২৫/১৭৷ পুলিশ ধর্ষণের মামলা নিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য তার বাড়ি সহ অন্যান্য স্থানে তল্লাসী চালিয়েছে৷ কিন্তু, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সুরজ মিয়া পালিয়ে আত্মগোপন করে রয়েছে বলে পুলিশের বক্তব্য৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে৷ অবিলম্বে সুরজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করার জন্য এলাকাবাসীর তরফ থেকে দাবি জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে৷
2017-04-22

