নগদ নোটের আকালে মজুরী পাচ্ছেন না রেগা শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ এপ্রিল৷৷ নগদ নোটের আকালে রেগার মজুরী প্রদানে বিরাট সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে৷ শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলেও পর্যাপ্ত নগদ নোট ব্যাঙ্কের কাছে না থাকায় শ্রমিকরা টাকা তুলতে পারছেন না৷ শিলাছড়ি, সাতচান্দ, গন্ডাছড়া, কাঞ্চনপুর, দশদা প্রভৃতি এলাকায় রেগা শ্রমিকরা ব্যাঙ্ক থেকে মজুরীর টাকা তুলতে পারছেন৷ ফলে, রেগা শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করেছে৷
এই উদ্ভূত সমস্যার কারণে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী নরেশ জমাতিয়া বিভিন্ন ব্যাঙ্ক আধিকারীক এবং প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে তড়িঘড়ি বৈঠক করেছেন৷ এদিনের বৈঠকে রাজ্যের তিনটি প্রধান ব্যাঙ্ক সহ গ্রামীণ ব্যাঙ্ক ও স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক এবং আরবিআই আগরতলা শাখার আধিকারীকরা উপস্থিত ছিলেন৷
মূলত, এদিনের বৈঠকে নগদ নোটের সমস্যা নিয়ে ব্যাঙ্ক আধিকারীকরা চিন্তা ব্যক্ত করেছেন৷ রাজ্যের অধিকাংশ রেগা শ্রমিকদের অ্যাকাউন্ট রয়েছে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং ত্রিপুরা স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে৷ রেগা শ্রমিকদের মজুরী বাবদ ১ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১৭৫ কোটি টাকা পাঠিয়েছে কেন্দ্র৷ পুরো টাকাই রেগা শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকে গেছে৷ কিন্তু, গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত রেগা শ্রমিকদের মজুরী বাংলা নববর্ষ এবং গড়িয়া পূজার আগে মিটিয়ে দিতে গেলে তাদের যথাক্রমে ৭৫ কোটি এবং ২৫ কোটি প্রয়োজন৷ গ্রামীণ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ১০ এপ্রিল ইউকো ব্যাঙ্কের মাধ্যমে আরবিআই গুয়াহাটি ২৫ কোটি পাঠিয়েছে৷ সেই টাকা আজকের মধ্যে তারা পেয়ে যাবে৷ কিন্তু, তা সত্বেও তাদের ব্যাঙ্কে রেগা শ্রমিকদের যে পরিমান অ্যাকাউন্ট রয়েছে তার পুরোটা দেওয়া সম্ভব হবে না৷ রেগা শ্রমিকদের পুরোটা মিটিয়ে দিতে গেলে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের আরো ৫০ কোটি এবং স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ২৫ কোটি টাকা নগদ নোটের প্রয়োজন৷
এদিন বৈঠকে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী নরেশ জমাতিয়া বাংলা নববর্ষের প্রাক্ মুহুর্তে এই সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় জানতে চান৷ তাতে, রাজ্যের তিনটি প্রধান ব্যাঙ্ক এসবিআই, ইউবিআই এবং সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ককে নগদ নোট দিয়ে সহায়তা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে৷ দুটি ব্যাঙ্ককে এসবিআই ১০ কোটি করে, ইউবিআই ১৫ কোটি করে এবং সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া ৫ কোটি টাকা করে নগদ নোট দিয়ে সহায়তা করবে৷ কিন্তু, তাতেও আরো ২০ কোটি টাকার নগদ নোটের প্রয়োজনীয়তা থেকে যাচ্ছে৷ তিনটি প্রধান ব্যাঙ্কের বক্তব্য, রাজ্যের বিভিন্ন এটিএমগুলিতে পর্যাপ্ত নগদ নোটের যোগান দিতে গিয়ে ঐ অর্থের বেশি দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়৷
এদিকে, আরবিআই আগরতলা জানিয়েছে, ১৫ দিনের মধ্যে আরো নগদ নোট আসবে৷ কিন্তু, সাম্প্রতিক সমস্যার সমাধান হচ্ছে না৷ এদিন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাজ্য সরকার আরবিআই মুম্বাইকে এই সমস্যা থেকে শীঘ্রই উত্তরণের জন্য হস্তক্ষেপ করতে অনুরোধ জানাবে৷ এদিকে, এদিনের বৈঠকে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং স্টেট কো-অপারেটিভ আগামী ১৪ এপ্রিল ব্যাঙ্ক ছুটির দিন হওয়া সত্বেও তারা সারা রাজ্যে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলি খোলা রাখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে৷