নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ মার্চ৷৷ দূর্নীতি নিয়ে রাজ্য সরকারের পাশাপাশি এবার কৃষি দপ্তরের প্রধান সচিবকেও নিশানা করল বিজেপি৷ সম্প্রতি কৃষি নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য কাগুজে লড়াইকে নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতির বক্তব্য, কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যের খন্ডন করতে গিয়ে রাজ্যের কৃষি দপ্তর যেভাবে প্রতিবাদ করেছে তা অসাংবিধানিক৷ অবশ্য এর পেছনে কৃষি দপ্তরের প্রধান সচিব জি এস জি আয়েঙ্গারের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি৷ তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার কৃষি ক্ষেত্রে যে সমস্ত দূর্নীতি করছে তাতে দপ্তরের প্রধান সচিব সরাসরিভাবে জড়িত৷ তাই, রাজ্য সরকারের সমস্ত কাজকর্মের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হউক, চাইছে বিজেপি৷ শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বিপ্লব দেব এইভাবেই রাজ্য সরকারের কাজকর্মের তীব্র সমালোচনা করেন৷
এদিন বিপ্লববাবু বলেন, কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী রাধামোহন সিং সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে রাজ্য সরকারের ঘাটতিগুলি দেখিয়ে দিয়েছেন৷ পাশাপাশি সেই ঘাটতি যেন পূরণ করে নেয় রাজ্য সরকার, সেই নির্দেশও দিয়ে গেছেন৷ অথচ রাজ্য সরকারের কৃষি দপ্তর কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রীর বক্তব্যের খন্ডন যে বিবৃতি দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক, মন্তব্য করেন তিনি৷ তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের কৃষি দপ্তরের নিজেদের বিবৃতিতেই স্বীকার করে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় বরাদ্দ অর্থের হিসেব সময়মতো দিতে পারেনি৷ বিপ্লববাবুর দাবি, কৃষি দপ্তর দূর্নীতিতে ছেয়ে গেছে৷ কেন্দ্রীয় বরাদ্দ অর্থের লুট চলছে৷ আর তাতে প্রত্যক্ষভাবে হাত রয়েছে কৃষি দপ্তরের প্রধান সচিব জি এস জি আয়াঙ্গারের৷ বিপ্লববাবুর আরও দাবি, কৃষি দপ্তরের প্রধান সচিব সরাসরি সিপিএম পার্টির হয়ে কাজ করছেন৷ আমলাতন্ত্র ভুলে গিয়ে তিনি এখন দলদাসে পরিণত হয়েছেন৷ তাই, কৃষি দপ্তর ও দপ্তরের প্রধান সচিবের সমস্ত কাজকর্মের তদন্ত করা হউক, কেন্দ্রের কাছে দাবি জানানো হবে৷
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে আইপিএফটি’র বিষয়েও স্পষ্টিকরণ দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি৷ তিনি বলেন, আইপিএফটি সভাপতি এন সি দেববর্মাকে অপসারণের বিষয়ে বিজেপিকে যেভাবে জড়ানো হয়েছে, তার পেছনে চক্রান্ত রয়েছে৷ আইপিএফটি সভাপতিতে টাকার দেওয়ার বিষয়টি তিনি খারিজ করে দিয়েছেন৷ পাশাপাশি তাঁর দাবি, আইপিএফটি বুঝে গেছে তারা ক্রমশ দূর্বল হয়ে পড়ছে, তাই আষাঢ়ে গল্প সাজাচ্ছে৷ তিনি জানিয়েছেন, বিজেপি আগামী দিনে আইপিএফটি থেকে দূরত্ব আরো বাড়াবে৷
2017-03-25

