নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৩ মার্চ৷৷ কৃষি দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অর্থ সঠিক ভাবে ব্যয় করা এবং ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট নিয়ে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী রাধামোহন সিং রাজ্য সফরে এসে যে তথ্য দিয়ে গিয়েছেন সেনিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে কাগুজে লড়াই চলছে৷ মন্ত্রীর অভিযোগকে খন্ডন করে রাজ্য কৃষি দপ্তরের তরফ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের যে হিসাব ও বাস্তাবায়ন সম্পর্কিত তথ্য প্রেস বিবৃতিতে দেওয়া হয়েছিল তার পাল্টা জবাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক৷ কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রচারিত প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, ২০১৭-র ১৯ মার্চ কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী ত্রিপুরা সফর অব্যবহিত পরে কৃষি, সহযোগিতা ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিপুরা সরকারের কৃষি দপ্তরের তরফে ২০১৭-র ২০ মার্চ তারিখে জারি করা একটি সাংবাদ বিবৃতিতে রাজ্য সরকারের দ্বারা ভুলভাবে বর্ণনা করা হয়েছে৷ মৃত্তিকা স্বাস্থ্য প্রকল্প (সয়েল হেলথ স্কিম), মৃত্তিকা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা(সয়েল হেলথ ম্যানেজমেন্ট), পরম্পরাগত কৃষি বিকাশ যোজনা (পি কে ভি ওয়াই, জৈব চাষ, কে ভি কে সমূহ এবং আর কে ভি ওয়াই বিষয়ক প্রকল্প সমূহের সঠিক বাস্তবতার বিষয়ে নিম্নে স্পষ্টীকরণ দেওয়া হল-
১) মৃত্তিকা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (সয়েল হেলথ ম্যানেজমেন্ট স্কীম) ঃ মৃত্তিকা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিপ্রেক্ষিতে এটা স্পষ্ট করা হয় যে কৃষি মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত একটি মোবাইল ল্যাব, একটি স্ট্যাটিক ল্যাব ও পাঁচটি পোর্টেবেল কিটের জন্য ৭৮.৮০ লক্ষ টাকার তহবিল দেওয়া হয়েছিল যা ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু ভারত সরকারের কাছে এর বাস্তব অগ্রগতি দাখিল করা হয় নি৷ রাজ্য সরকার সংবাদ বিবৃতিটিতে বাস্তব অগ্রগতির বিষয়টি উল্লেক করেননি৷
২) সয়েল হেলথ কার্ড ঃ কৃষিমন্ত্রী বিলম্ব না করে রাজ্য সরকারকে অব্যায়িত ৫৯.২১ লক্ষ টাকা ব্যবহার করতে অনুরোধ করেছিল যাতে করে বাদবাকি সয়েল হেলথ কার্ড গুলি কৃষকদের মধ্যে বন্টন করা যায়৷ রাজ্য সরকার সংবাদ বিবৃতিটিতে অব্যায়িত ৫৯.২১ লক্ষ টাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন নি৷ উপরক্ত, রাজ্য সরকার ২০১৭ -র এপ্রিলের মধ্যে অবশিষ্ট সয়েল হেলথ কার্ড গুলি বন্টন করার বিষয়টি গ্রহণ করেছে যা এটাই স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে রাজ্যে প্রকল্পটি ধীর গতিতে চলছে৷
৩) পরম্পরাগত কৃষি বিকাশ যোজনা (পি কে ভি ওয়াই) ঃ পরম্পরাগত কৃষি বিকাশ যোজনা (পি কে ভি ওয়াই) এর আওতার ত্রিপুরাকে ২০১৫-১৬ -র জন্য ১৩৩৮৪ লকষ টাকা এবং ২০১৬-১৭ -র জন্য ৩০৮.৮৩ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে৷ রাজ্য সরকার ১৩৩.৮৪ লক্ষ টাকা (২০১৫-১৬) এবং ২০৫.৮৯ লক্ষ টাকা (২০১৬-১৭) ব্যবহার করেছে৷ তাই, সামগ্রিক তহবিল ব্যবহার করা হয় নি৷ প্রকল্পটির অগ্রগতি শ্লথ এবং একই বক্তব্য রাজ্যসরকার তাদের সংবাদ বিবৃতিতে স্বীকার করে নিয়েছে৷ ৪) জৈব চাষ ঃ মিশন অর্গানিক ভ্যালু চেইন ডেভেলেপমেন্ট -এর আওতায় ২০১৫-১৬ -এ জন্য ৩৭০.১৩ লক্ষ টাকা এবং ২০১৬-১৭-য় ২০৮.৪৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে৷ এর পরিবার্তে সরকার মাত্র ৩৬১.৩৮ লক্ষ টাকা ব্যবহার করতে পেরেছে যা প্রদর্ত্ত অর্থের মাত্র ৬২.৪৮ শতাংশ৷ তাই রাজ্য সরকার যে অগ্রগতি করেছে তা কম৷ ৫) নতুন কেভিকেএস খোলা ঃ সংবাদ বিবৃতি সম্পর্কে এটা স্পষ্ট করা হয় যে, দ্বাদশ পরিকল্পনার জন্য কেভিকে প্রকল্প ভারত সরকার ২০১৫ সালের জুন মাসে অনুমোদন দেয়, যেখানে চারটি জেলা ঊনকোটি, গোমতী, পশ্চিম ত্রিপুরা ও সিপাহীজলা জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷ এর পরবর্তী পর্যায়ে জোনের জন্য স্থান নির্বাচন কমিটি গঠিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট এটিএআরআই, উমিয়াম(জোন-৩) পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করে৷ এটা উল্লেক করা প্রয়োজন যে, এর আগে ত্রিপুরায় মাত্র ৪টি কেভিকে ছিল এবং বর্তমান কেন্দরীয় সরকারের অধীনেই নতুন তিনটি কেভিকে এর অনুমোদন দেওয়া হয় এবং স্থান নির্বাচন কমিটি ২৫-২৬, মার্চ ২০১৭ পরবর্তী কেভিকে এর জন্য পরিদর্শনে যাবে৷ উদাহরণ হিসেবেঃ গোমতী ও ঊনকোটি জেলার কেভিকে, গোমতী ও ঊনকোটি জেলার জন্য বিজ্ঞাপনের ওপর ভিত্তি করে ০২ টি(দুটি) প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, প্রাথমিক নথিপত্র পাওয়ার পর ইজাতনগরে আইভিআরআইএর প্রাক্তন অধিকর্তা ডক্টর এমপি যাদবের পৌরহিত্যে স্থান নির্বাচন কমিটি (এসএসসি) ২৬-০৬-২০১৬ ঊনকোটি ও গোমতীর দুটি জায়গা পরিদর্শন করে৷ ঊনকোটি ও গোমতীতে কেভিকে স্থাপনের জন্য জমির বিস্তারিত নথিপত্র, কৃষি অধিকর্তার কাছ থেকে চূড়ান্ত স্পষ্টীকরণ পাওয়া গেছে ১৬.০১.২০১৭ তারিখে ৷ সব ধরনের নথিপত্র সম্পূর্ণরূপে পাওয়ার পর পরিষদ দুটি কেভিকে এর জন্য অনুমোদনের নির্দেশ ইস্যু করে ২২.০২.২০১৭ তারিখে৷ তাই এটা সম্পূর্ণ পরিস্কার কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং যা কিছু দেরী হয়েছে তা শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের জমি দেওয়ার জন্য হয়েছে৷ ৬) মৎস্যচাষ (নীল বিপ্লব) কর্মসূচির অধীনে তহবিল প্রদান ঃ কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক ত্রিপুরা সরকারকে মৎস্যচাষ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রকল্পে ২০১৩-১৪ সালে ২৪১.২৪ লক্ষ টাকা, ২০১৪-১৫ সালে ৫৪.৮৯ লক্ষ টাকা এবং ২০১৫-১৬ সালে ৩৬১.৯৬ লক্ষ টাকা প্রদান করেচে৷ নীল বিপ্লব প্রকল্পে ত্রিপুরা সরকারকে ২০১৬-১৭ -র ৮৬৭.৮৮ লক্ষ টাকার কেন্দ্রীয় অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে৷ এড পাশাপাশি কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনস্ত হায়দ্রাবাদের জাতীয় মৎস্যচাষ উন্নয়ন পর্ষদও (এনএফডিবি) ত্রিপুরা সরকারকে ২০১৬-১৭ -র ১৭৯৬১ লক্ষ টাকা প্রদান করেছে৷ কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের মাননীয় মন্ত্রী তাঁর ১৯ মার্চ ২০১৭-এর আলোচনায় শুধুমাত্র এটাই উল্লেখ করেছেন, যে, ২০১৬-১৭ সালে নীল বিল্পব প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অর্থ সহায়তা দ্বিগুণ করা হয়েছে এবং তা প্রদান করা হয়েছে, এই প্রকল্প বিশেষ করে মৎস্যচাষের উন্নয়নের জন্যই৷ ত্রিপুরা সরকারের কৃষি দফতর ২০ মার্চ ২০১৭ যে সংবাদ বিবৃতি দিয়েছে, তাতে মৎস্যচাষের জন্য যে আর্থিক পরিসংখ্যানের উল্লেক হয়েছে, এতে মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনা (আরকিভিওয়াই) সহ সম্পূর্ণ তহবিল ত্রিপুরা সরকার দিয়েছে৷ এক্ষেত্রে তাই এটা স্পষ্টীকরণ করা হচ্ছে, যে ভারত সরকার আরকেভিওয়াই, এর অধীনে বিভাগ ভিত্তিক অর্থ বরাদ্দ করে না৷ বিভাগ ভিত্তিক বরাদ্দ, প্রকল্পের অগ্রাধিকার, রূপায়ণ, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন এগুলো রাজ্য সরকারের বিষয় এবং রাজ্য সরকার মৎস্যচাষের ক্ষেত্রে আসন্ন দিনগুলোতে আরও তহবিল বরাদ্দ করার ক্ষেত্রে স্বাধীন৷ সুতরাং এটা পরিস্কার যে, ত্রিপুরার সরকারের ২০ মার্চ ২০১৭ তারিখের সংবাদ বিবৃতি মনে হচ্ছে বাস্তব সত্য যাচাই না করেই এবং সরকারের নীতি ও কর্মসূচি ধারণা না নিয়েই করা হয়েছে৷ তাই ত্রিপুরা সরকারের কৃষি দফতরের যুক্তি যে, কেন্দ্রীয় কৃষি মন্তী তথ্যের মিথ্যা বর্ণনা করেছেন, তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হচ্ছে, তাই তা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত৷
2017-03-24
