রেল দিয়ে রাজ্যের ভবিষ্যতকে উজ্জ্বল করতে গুচ্ছ প্রকল্পের আশ্বাস রাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৩ মার্চ৷৷ রেল দিয়ে রাজ্যের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল করার জন্য কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া

বৃহস্পতিবার আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রেল মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী রাজেন গোহেন৷ ছবি নিজস্ব৷

হয়েছে৷ রেলপথে বাংলাদেশকে নানা দিক দিয়ে যুক্ত করে বাণিজ্য প্রসারে ত্রিপুরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন রেল রাষ্ট্রমন্ত্রী রাজেন গোহেন৷ বৃহস্পতিবার রাজ্য অতিথিশালায় সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, কেবল আগরতলা-আখাউড়া রেল যোগাযোগ করেই থেমে থাকবে না রেল মন্ত্রক৷ বিলোনীয়া এবং সাব্রুম দিয়ে বাংলাদেশের সাথে রেল পথে ত্রিপুরাকে যুক্ত করা হবে৷ তবে, প্রস্তাব এসেছে খোয়াই থেকে বাংলাদেশের শায়েস্তাগঞ্জ রেল স্টেশনের সাথে পুণরায় রেল সংযোগের জন্য সার্ভের কাজ শুরু করার৷ বিষয়টি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হবে বলে রেল রাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন৷ তবে, রেলের চালু পরিষেবায় আরও উন্নতির জন্য কয়েকমাস অপেক্ষা করতে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন৷
বৃহস্পতিবার রেল রাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যপাল তথাগত রায়ের সাথে দেখা করেছেন৷ রাজ্য সচিবালয়ে মুখ্যমন্ত্রী, পরিবহণ মন্ত্রী এবং রাজ্য প্রশাসনের আধিকারীকদের সাথে রেলওয়ে আধিকারীকদের নিয়ে তিনি বৈঠক করেছেন৷ ঐ বৈঠকে ১১ দফা দাবী সম্বলিত স্মারক পত্র রেল রাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার৷ তাতে দাবী জানানো হয়েছে, পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলওয়ের তরফে জানানো হয় ধর্মনগর থেকে কৈলাসহর, কমলপুর, খোয়াই, আগরতলা হয়ে বিলোনীয়া পর্যন্ত এবং ধর্মনগর থেকে কাঞ্চনপুর পর্যন্ত নতুন রেল পথ চালু করতে রেল মন্ত্রক সার্ভের কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার বদলে ধর্মনগর থেকে বিলোনীয়া পর্যন্ত নতুন রেলপথটি হোক ধর্মনগর- কৈলাসহর- কমলপুর- খোয়াই- মোহনপুর- আগরতলা- কমলাসাগর- সোনামুড়া- কাঁঠালিয়া- রাজনগর- বিলোনীয়া রুটে৷ ১৯৪৭ সালের আগে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী আগরতলা সহ ত্রিপুরার প্রায় সবগুলি শহর বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে বাংলাদেশের সাথে যুক্ত ছিল৷ স্বাধীনতার পর দেশভাগের কারণে এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়৷ আগরতলা- আখাউড়া রেলপথের মাধ্যমে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে রেল যোগাযোগের কাজ শুরু হয়েছে৷ আগামী এপ্রিলের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি রাজ্যের পক্ষ থেকে রেলের কাছে হস্তান্তর করা হবে৷ রেলের নির্মাণ সংস্থা ইরকন রেললাইন বসানোর দায়িত্ব পেয়েছে৷ এই কাজটি দ্রুত করার জন্য রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবী জানানো হয়েছে৷ স্বাধীনতার আগে চালু ছিল বিলোনীয়া-ফেনী রেলপথ৷ স্বাধীনতার পর বিলোনীয়া স্টেশনটি বাংলাদেশের অন্তর্ভূক্ত হয়৷ এই লাইন ১৯৯৬ সালে বন্ধ হয়ে যায়৷ লাইনটি পুনরায় চালু করতে সার্ভের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য রাজ্য দাবী জানায়৷ একই ভাবে খোয়াই ও পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশের শায়েস্তাগঞ্জ রেল স্টেশনের মধ্যে পুণরায় রেল সংযোগের জন্য সার্ভের কাজ শুরু করতে রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবী জানানো হয়৷ এদিকে, আমবাসার জওহরনগর থেকে মিজোরামের ডারলন পর্যন্ত ১০৯ কিলোমিটার রেলপথ বসালেই প্রস্তাবিত ট্রান্স এশিয়ান রেল নেটওয়ার্কে একেবারে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মায়ানমার থেকে মিজোরাম, ত্রিপুরা হয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথে যুক্ত হয়ে যাবে৷ এক্ষেত্রে জওহরনগর থেকে মিজোরামের ডারলন পর্যন্ত ১০৯ কিলোমিটার রেলপথ যুক্ত করলে ত্রিপুরা হয়ে সমগ্র দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া রেলপথে যেমন যুক্ত হবে তেমনি যোগাযোগ ও বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও উন্নতি ঘটবে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার৷ রেল রাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিষয়ে বলেন, ত্রিপুরায় রেলের সম্প্রসারণ এবং দাবীগুলি পূরণে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে৷ এছাড়াও আগরতলা থেকে সাব্রুম পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করা, রেল পরিষেবার মানোন্নয়ন, রেলের সংখ্যা বাড়ানো, আগরতলা এবং অন্যান্য স্টেশনে এপ্রোচ রোড, রেলওয়ে সুরক্ষা, ত্রিপুরায় রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড এবং পৃথক রেল ডিভিশন চালু করার দাবী জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে৷
বৈঠক শেষে পরিবহণ মন্ত্রী মানিক দে জানিয়েছেন, রাজ্যের দাবীগুলি রেলমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে৷ বেশ কয়েকটি সমস্যা রয়েছে, তার দ্রুত নিষ্পত্তির দাবী জানানো হয়েছে৷ রেল রাষ্ট্রমন্ত্রী সব রকমের সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন৷ এদিকে, সাংবাদিক সম্মেলনে রেল রাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যে রেল পরিষেবায় সমস্যা রয়েছে তা মেনে নিয়েছেন৷ পাশাপশি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন৷ এরই সাথে সারা রাজ্যে রেল পথের সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের সাথে নানা দিক দিয়ে যোগাযোগের কাজ দ্রুততার সাথে করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷