৩ গ্রামবাসীর মৃত্যুর পর ক্ষোভ প্রশমনে এলেন বিএসএফ-এর এডিজি, মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ প্রধানের সাথে বৈঠক

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২০ মার্চ৷৷ সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী অতিরিক্ত মহা-নির্দেশক আরপিসিং সোমবার রাজ্য সফরে এসেছেন৷ এসেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের সাথে বৈঠক করেছেন৷
সম্প্রতি বিএসএফ এর গুলিতে সাব্রুম সীমান্তের তিনজন সাধারণ গ্রামবাসীর মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সফর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে৷ বিএসএফ এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎতে মিলিত হয়েছেন৷ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন৷ জানাগেছে বিএসএফ এর গুলিতে ৩ জন গ্রামবাসীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অতিরিক্ত মহা-নির্দেশক৷ পাশাপাশি বিএসএফ এর এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক দিয়ে কোর্ট অফ ইনকুয়ারী করার আশ্বাস দিয়েছেন অতিরিক্ত মহা-নির্দেশক আরপিসিং৷ উল্লেখ করা যেতে পারে, শুক্রবার সাব্রুমের চিত্তাবাড়ি সীমান্তের বিএসএফ এবং গ্রামবাসীর মধ্যে খন্ডযুদ্ধে বিএসএপ এর গুলিতে ৩১ গ্রামবাসীর প্রাণ গেছে এবং দুইজন আহত হয়েছে৷ একটি মহল থেকে অভিযোগ করেছে সীমান্তে গরু পাচার নিয়ে বিএসএফ এবং গ্রামবাসীদের মধ্যে ঝগড়া বিবার শুরু হয়৷ কিন্তু অপর একটি মহল অভিযোগ করেছে এক যুবতিকে ধর্ষণের চেষ্টা কে ঘিরে বিএসএফ এবং গ্রামবাসীদের মধ্যে এই ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়৷ তবে বিবাদ কে কেন্দ্র করে তিনজন নিহত এবং দুইজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে৷ দীর্ঘদিন ধরেই সাব্রুমের চিত্তাবাড়ি সীমান্তে বিএসএফ এবং পাচারকারীদের মধ্যে নানান রকমের ঝামেলা চলছিলো বলে জানিয়েছে পুলিশ৷ সূত্রের খবর গতকাল সন্ধ্যায় এলাকাবাসীরা সবাই মিলিত ভাবে ভাঙ্গামুড়া ৩১নং ব্যাটেলিয়ান ক্যাম্পের সামনে মিলিত হয়৷ তারপর বিএসএফ বাহিনী জনতাকে সরিয়ে দিতে গেলে তখন পরিস্থিতি আরও গরম হয়ে উঠে৷ সাথে সাথে কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানরা বন্দুক থেকে গুলি ছুঁড়তে থাকে৷ সূত্রের খবর, বিএসএফ ৬ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ায় তিনজন গ্রামবাসী মারা যায় এবং দুইজন আহত হয়৷ এর পরিপ্রক্ষিতে জনতা আরও উত্তেজিত হয়ে পরে৷ এইদিকে গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, লক্ষ্মী ত্রিপুরা(৩০) নামে এক উপজাতি গৃহবধূকে তিন জওয়ান ধর্ষণ করতে গেলে তখন সে আত্মরক্ষার্থে চিৎকার করেন৷ সাথে সাথে বেশ কিছু গ্রামবাসী ছুটে আসেন৷ তখন বিএসএফ গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে গুলি ছঁুড়লে ৩ জন মারা যান এবং ২ জন আহত হয়৷ এদিকে, ঐ ঘটনার ফলে সিপিএম দলের পক্ষ থেকে সাব্রুম মহকুমায় শনিবার ১২ ঘন্টা বন্ধ পালন করা হয়েছে৷ পাশাপাশি সিপিআইএম সম্পাদক মন্ডলীর এর পক্ষ থেকে এই বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ধিক্কার জানাতে রাজ্যের সকল স্তরের গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে৷