নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ মার্চ৷৷ কাজের দিন কমিয়ে আনার প্রস্তাব দিলেন কংগ্রেস বিধায়ক রতনলাল নাথ৷ সপ্তাহে

ছয়দিনের বদলে পাঁচদিন সরকারি অফিস খোলা রাখার জন্য রাজ্য সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি৷ মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এই প্রস্তাব আগামীদিনে কার্যকর করা যায় কিনা চিন্তাভাবনা করে দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন৷
বুধবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের অন্তিম দিনে প্রশ্ণোত্তর পর্বে বিধায়ক রতনলাল নাথ এক প্রশ্ণের উত্তরে জানতে চান রাজ্যের সরকারি কার্যালয়গুলিতে সপ্তাহে ছয়দিনের পরিবর্তে পাঁচদিন খোলা রাখার ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কোন চিন্তাভাবনা রয়েছে কিনা৷ জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের এই ধরনের কোন পরিকল্পনা আপাতত নেই৷ তাতে, অতিরিক্ত প্রশ্ণ উত্থাপন করে রতনবাবু বলেন, এখন কর্মচারী দিনে সাত ঘন্টা করে কাজ করে থাকেন৷ সে মোতাবেক প্রতিমাসে ছুটির দিন বাদ দিলে সরকারি কর্মচারীরা মোট ১৭৫ ঘন্টা কাজ করেন৷ রতনবাবু প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে বিকেল পাঁচটার বদলে কাজের সময় সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত করা হোক প্রস্তাব দেন৷ এই বিষয়ে তাঁর যুক্তি, প্রতিদিন নয় ঘন্টা করে কাজ করলে ছুটির দিন বাদ দিলে মাসে ২২৫ ঘন্টা কাজ করবেন সরকারি কর্মচারীরা৷ সে অনুযায়ী বছরের হিসেব মিলে দেখা যাচ্ছে ১২ মাসের বেতন দিয়ে ১৩ মাসের কাজ পাওয়া যাবে৷ রতনবাবুর বক্তব্য, এই হিসেব অনুযায়ী কর্মচারীদের কাছ থেকে নূ্যনতম ৩৯ দিন বেশি কাজ পাওয়া যাবে৷ এরই সাথে বিদ্যুৎ, ডিজেল এবং গাড়ির খরচ কমবে৷ তাতে, অর্থের সাশ্রয় হবে৷ তিনি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, বিষয়টি আবারও চিন্তাভাবনা করে দেখুন৷ কারণ, দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা সপ্তাহে পাঁচদিন অফিসে কাজ করে থাকেন৷
রতনবাবুর প্রস্তাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের প্রস্তাব আগেও এসেছে৷ তার ভিত্তিতে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে৷ কিন্তু দেখা গেছে, কর্মচারীদের একটা অংশ যারা দূরবর্তী স্থানে কাজ করেন তাদের পক্ষে সকাল নয়টায় অফিসে হাজিরা দেওয়া সম্ভব হয়ে উঠবে না৷ কারণ, এতদিন রাজ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুর্বলতা ছিল৷ বিশেষ করে রেল যোগাযোগ ছিল না৷ এখন অবশ্য রেল যোগাযোগ শুরু হয়েছে৷ সাব্রুম পর্যন্ত রেল সম্প্রসারণ খুব শীঘ্রই হয়ে যাবে৷ তখন অন্যান্য রাজ্যের ন্যায় লোকাল ট্রেন পরিষেবা শুরু হলে সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত অফিস খোলা রাখা সম্ভব হবে৷ তাতে, দূরবর্তী স্থানে যে কর্মচারীরা কাজে যাবেন তাদের পক্ষে যাতায়াত সহজ হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী জানান, কাজের ক্ষেত্রে আমাদের রাজ্য অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে৷ ফলে এখনই সপ্তাহে একদিন অফিস বন্ধ রাখা বাড়ানো সম্ভব নয়৷ এরই পাশাপাশি তিনি জানান, বেশ কয়েকটি ছোট ও মাঝারি রাজ্যগুলির কাছ থেকে এবিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল৷ তাদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিলেছে৷ মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখনো দেশের ১৪-১৫টি ছোট মাঝারি রাজ্য সপ্তাহে পাঁচদিন অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি৷ তবে, এরাজ্যের তা সম্ভব নয়, এমনটা বলছি না৷ কিন্তু, সপ্তাহে পাঁচদিন অফিস খোলা রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরো একটু সময় প্রয়োজন রয়েছে৷

