নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ মার্চ৷৷ একইদিনে রাজধানী আগরতলায় গার্হস্থ্য হিংসার বলি হলেন দুই গৃহবধূ৷ তাঁদের মধ্যে একজন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের করণিক ছিলেন৷ উভয় ঘটনায় ঐ দুই মহিলার স্বামীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা৷ ভূবনবন এলাকায় পাপিয়া পাল এবং রামনগরে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের করণিক অর্পিতা চক্রবর্তীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ দুটি ঘটনাই আত্মহত্যা বলা হলেও, তাদের খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷
বুধবার সকালে রামনগর চার নম্বরে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের করণিক অর্পিতা চক্রবর্তীর(৩২) ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়৷ মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে এলাকাবাসী ছুটে এসে পুলিশে খবর দেন৷ এরই সাথে খবর দেওয়া হয় মৃতার মামাকে৷ পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়৷ জনৈক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, তাদের এগার মাসের একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তান রয়েছে৷ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হত৷ ঐ গৃহবধূর স্বামী কৃষ্ণপদ চক্রবর্তী স্ত্রীর বেতন নিয়ে বাড়িতে ঝামেলা করতেন৷ মৃতার পরিবারের সদস্য এবং এলাকাবাসীর বক্তব্য, তার স্বামী তাকে খুন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখেছেন৷ মৃতার স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে৷
এদিকে, ভুবনবন এলাকায় পাপিয়া ধর (২৩) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মৃতদেহ বুধবার সকালে উদ্ধার হয়েছে৷ জানা গেছে, মিলন চক্র এলাকার বাসিন্দা নারায়ণ ধরের মেয়ে পাপিয়া ধরের ভুবনবন এলাকার বাসিন্দা প্রাণতোষ পালের সাথে ভালবেসে তিনবছর আগে বিয়ে হয়েছিল৷ তাদের একটি দেড় বছরের পুত্র সন্তান রয়েছে৷ অভিযোগ বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য পাপিয়ার উপর নির্যাতন চালাত তার স্বামী প্রাণতোষ পাল৷ মৃতার কাকা জানিয়েছেন, পণের জন্যই পাপিয়াকে খুন করা হয়েছে৷ খুন করে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে৷ এই ঘটনায় মৃতার স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে৷
একের পর এক নারী সংক্রান্ত অপরাধের ঘটনা ঘটে চলেছে এরাজ্যে৷ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে গার্হস্থ্য হিংসার দরুন এইসব অপরাধ ঘটছে৷ থানায় যেসব মামলা রুজু করা হচেছে তাতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে পণ সংক্রান্ত বিষয়টি প্রকাশে আসছে৷ বিয়ের দীর্ঘ এক দশক পরও পণের জন্য নির্যাতন চলে এমন ঘটনার সত্যতা নিয়েও প্রশ্ণ উঠছে৷ শুধুমাত্র পণের জন্যই এই ধরনের অপরাধগুলি সংগঠিত হচ্ছে সেটা তথ্যাভিজ্ঞ মহল মানতে নারাজ৷ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়গুলিও রয়েছে৷
অন্যদিকে, বিয়ে করতে অস্বীকার করায় প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করল প্রেমিকার৷ ঘটনা ধলাই জেলার গন্ডাছড়ায়৷ পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে অভিযুক্ত যুবককে৷
সংবাদে প্রকশ গন্ডাছড়ার দশরথ পাড়ার সুকান্ত রিয়াং (২২) প্রায় এক বছর আগে এলাকারই এক যুবতীকে প্রেম প্রস্তাব দেয়৷ ঐ যুবতী প্রস্তাবে রাজি হয়৷ দুইজনের মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে উঠে৷ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঐ যুবক আগরতলায় বিভিন্ন হোটেলে ও তার আত্মীয়ের বাড়িতে যুবতীর সাথে সহবাস করে বলে অভিযোগ৷ এদিকে, সহবাসের পর থেকে ঐ যুবকের আর কোন হদিশ পায়নি যুবতী৷ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও ঐ যুবতী প্রেমিকের কোন হদিশ না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়৷ কয়েকদিন আগে ঐ যুবককে গন্ডাছড়া বাজারে ঘুরাফেরা করতে দেখে ঐ যুবতী৷ ঘটনাস্থলেই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়৷ কিন্তু, ঐ যুবক কোনওভাবেই ঐ যুবতীকে বিয়ে করতে সম্মতি জানায়নি৷ যুবকের বক্তব্য তাদের এই ভালবাসাকে বিয়েতে রূপ দেওয়া সম্ভব নয়৷ প্রেমিকের কাছ থেকে এই কথা শোনে ঐ যুবতী কাল বিলম্ব না করে গোটা বিষয় জানিয়ে গন্ডাছড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন সুকান্ত রিয়াংয়ের বিরুদ্ধে৷ পুলিশ অভিযোগ মূলে গ্রেপ্তার করেছে সুকান্ত রিয়াংকে৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷
