নিজস্ব প্রতিনিধি, চড়িলাম, ১১ মার্চ৷৷ ফের চড়িলাম ছেচরীমাই এলাকায় জাতীয় সড়ক মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে৷ অল্প

বৃষ্টিতেই রাস্তা দিয়ে ছোট বড় গাড়ি চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ে৷ এদিকে জাতীয় সড়ক নির্মাণের কাজ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে করলেও কর্তৃপক্ষের গাফিলতির ফলেই প্রতিনিয়ত যান চলাচলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে চালক ও যাত্রী সাধারণকে৷ এদিকে শনিবার সকাল থেকেই সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়৷ তাতে ছেচরীমাই এলাকা থেকে চড়িলাম পরিমল চৌমুহনী পর্যন্ত জাতীয় সড়কে গাড়িল লাইন পড়ে যায়৷ কারণ, একটি নয়, তিন তিনটি গাড়ি জাতীয় সড়কের মাঝপথে আটকে যায়৷ তাতে উভয়দিনেক প্রচুর সংখ্যায় যানবাহন আটকে পড়ে৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসি মণিন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ ও জেলার পুলিশ আধিকীরক প্রবীর পাল৷ পুলিশ আধিকারীকদের সামনে পেয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন যান চালক ও স্থানীয় জনগণ৷ অভিযোগ, নির্মাণ সংস্থার গাফিলতির দরুন এদিন সকলকে এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে৷ নির্মাণ সংস্থাকে বহুবার বলা হয়েছে যে বর্ষার মরশুম শুরুর আগে রাস্তার কাজ একটা সন্তোষজনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হোক৷ এদিকে, গত ২২ ফেব্রুয়ারী ছেচরীমাই এলাকায় টানা দুই ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছিল৷ কেন কর্তৃপক্ষ উদাসীন, এই প্রশ্ণও তুলেছেন এলাকাবাসী৷ শনিবামর মাধ্যমিক পরীক্ষা ছিল, তাতে বহু ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক শিক্ষিকা চরম দুর্ভোগের শিকার হন৷
রাস্তায় খানাখন্দের কারণে ছেচরীমাই এলাকায় বিভিন্ন স্থানে করুণ অবস্থ হয়ে পড়েছে৷ শেষ পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাস থেকে যাত্রীরা নেমে পায়ে হেটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছিল৷ এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ কোথাও কোথাও নির্মাণের অল্প দিনের মধ্যেই পিচ উঠে যাচ্ছে৷ সৃষ্টি হয়েছে গর্তের৷ কিন্তু জাতীয় সড়কের এমন বেহাল অবস্থা আগে কখনও দেখা যায়নি৷ ভিনরাজ্য থেকে আসা বহু ট্রাক চালক বেহাল রাস্তার জন্য আগামীদিনে আর পণ্য পরিবহণ করতে রাজি হচ্ছেন না৷ এদিন, শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও এলাকার লোকজনের কথায় নির্মাণ সংস্থা রাস্তায় পাথর ফেলে কিছুটা স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসে৷ অন্যদিকে পরিমল চৌমুহনী থেকে বিশ্রামগঞ্জ যাওয়ার জন্য একটি গ্রামীণ সড়কের উপর দিয়ে ছোট গাড়িগুলিকে যাতায়াতের জন্য ব্যবস্থা করলেও বড় গাড়িগুলি মাঝ রাস্তায় আটকে পড়েছে৷ জাতীয় সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে বহু রোগীকে এদিন মারাত্মক সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে৷ এক পশলা বৃষ্টিতেই বিশালগড়ের নিম্নঞ্চলে হাটু সমান জল জমে গিয়েছে৷ রাস্তা পার হতে পারছে না ছাত্রছাত্রীরা৷ বিশালগড় থেকে লক্ষ্মীবিলের গ্রামীণ সড়কটির বেহাল দশা দীর্ঘদিনের৷ মেরামতের কোন হেলদোল নেই কর্তৃপক্ষের৷ তবে এদিন বিজেপি কর্মীদের এই প্রয়াস দেখে দেখে গোটা বিশালগড়বাসী তাদের সাধুবাদ দিয়েছেন৷ সরকারীভাবে এলাকাবীদের তেমন কোন সাহায্য করা হয়নি৷ বিশালগড় নিউমার্কেট থেকে লক্ষ্মীবিল হয়ে চিকনছড়া, লাংমা হয়ে টাকারজলা পৌঁছেছে এই গ্রামীণ রাস্তাটি৷ প্রতিদিন অন্তত দুই-আড়াই হাজার লোক আসা যাওয়া করে এই সড়ক দিয়ে৷ রাস্তাটি পুর পরিষদের সাত নং ওয়ার্ডের অধীন৷

