এই উপমহাদেশে বিভেদ ও বিভাজন সৃষ্টির প্রচেষ্টা চলছে ঃ মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ মার্চ৷৷ ত্রিপুরায় সফররত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস এর আধিকারীকরা শুক্রবার সন্ধ্যায় মহাকরণের ২ নং কনফারেন্স হলে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন৷ সাক্ষাৎকারের সময় মুখ্যমন্ত্রী আধিকারীকদের শুভেচ্চা জানাবার পাশাপাশি তাঁদের মাধ্যমে ত্রিপুরা ও দেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনসাধারণকে আন্তরিক প্রীতি, শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানিয়েছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী ভালো না থাকলে আমরাও ভালো থাকবো না৷ এই উপমহাদেশে মানুষে বিভেদ ও বিভাজন সৃষ্টি  করার একটি নেতিবাচক প্রচেষ্টা চলছে৷ আমরা চাই বাংলাদেশের সঙ্গে ত্রিপুরা ও ভারতবর্ষের যে ঐতিহাসিক ও আত্মিক সম্পর্কের বন্ধন রয়েছে তাকে আরো নিবিড় ও শক্তিশালী করতে৷ তিনি বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিস আধিকারীকদের বলেন, দেশের মানুষকে ভালোবাসতে হবে৷ মানুষকে ভালো না বাসলে দেশকে ভালবাসা যায় না৷ লক্ষ্য রাখতে হবে সমস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেবার৷ বিশেষ করে দুঃস্থ ও পিছিয়ে পড়া অংশের মানুষের কাছে পাশে দাঁড়াতে হবে৷ আলোচনায় বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস এর আধিকারীকদের পক্ষ থেকেও তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়৷ আধিকারীকদের পক্ষ থেকে ত্রিপুরায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও অগ্রগতি এবং প্রশাসন পরিচালনায় সুস্থ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করা হয়৷ তাঁরা জানান প্রশাসনিক ব্যবস্থা পরিচালনায় ত্রিপুরায় যে স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করা হচ্ছে তা তাঁরা নিজেদের কর্মক্ষেত্রেও প্রয়োগ করবেন৷ এই সফরে তাঁরা অনেক কিছু শিখলেন যা বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে তাঁদের প্রশাসনিক কাজকর্মে সহায়ক হবে৷ ভবিষ্যতে ত্রিপুরায় আবার আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তাঁরা৷ এই সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের প্রশাসনিক আধিকারিক দলের নেতৃত্ব হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের অর্থ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব জালাল আহমেদ৷ প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশের ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক ফিনান্সের ২৫ জন আধিকারীক৷ সৌজন্য সাক্ষাতের সময় ত্রিপুরা সরকারের তরফে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব সঞ্জিব রঞ্জন, অর্থ দপ্তরের প্রধান সচিব এম নাগারাজু এবং অর্থ দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকগন৷ বাংলাদেশের আধিকারীক দলটি আগামীকাল দেশে ফিরে যাবেন৷ উল্লেখ্য, এই আধিকারীক দলটি রাজ্যের অর্থ দপ্তরের পরিচালনা সংক্রান্ত কাজকর্ম সম্পর্কে প্রশাসনিক ভাবে অবগত হতে গত ৮ মার্চ রাজ্যে আসেন৷ ইতিমধ্যেই আধিকারিক দলটি রাজ্যের বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন৷