নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১ মার্চ৷৷ অরাজকতা চলছে নরসিংগড়স্থিত টিআইটিতে৷ ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পঠনপাঠন লাটে

উঠেছে৷ অভিযোগ, ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনীয় লাইব্রেরি, হোস্টেল ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হচ্ছে না৷ এরই সাথে নিয়মিত অধ্যক্ষের দাবিতেও সরব হয় পড়ুয়ারা৷ এদিন, বিক্ষোভরত ছাত্রদের অধ্যাপকরা পিটিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে৷ আন্দোলন ছত্রখান করে দিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের রক্তচক্ষুর মুখে পিছিয়ে যেতে হয়েছে পড়ুয়াদের৷ কিন্তু, পড়ুয়াদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ জমে রয়েছে৷ তাতে ফের কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্র বিক্ষোভ আছড়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷
এদিন সকালে কলেজের গেইটে তালা ঝুলিয়ে পড়ুয়ারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে৷ তাদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো সত্ত্বেও কোন কিছুতেই পাত্তা দিচ্ছে না কলেজ কর্তৃপক্ষ৷ এমনকি দাবিগুলি উচ্চশিক্ষা দপ্তরের কাছেও জানানো হয়েছিল৷ কিন্তু কোন ফল মিলেনি৷ জনৈক পড়ুয়া জানিয়েছে, কলেজে প্রায় একবছরের ওপর সময় ধরে অস্থায়ী অধ্যক্ষ দায়িত্ব পালন করছেন৷ নিয়ম অনুযায়ী ১২ মাসের মধ্যেই স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ করতে হয়৷ এদিকে, এই কলেজে ক্যাম্পাসিংয়ের কোন সুব্যবস্থা নেই৷ স্টুডেন্ট প্লেসমেন্ট সেল না থাকার কারণে ডিগ্রি নেওয়ার পর চাকুরি ক্ষেত্রে সমস্যা হয় অধিকাংশ ডিগ্রিধারীদের৷ কলেজে ছাত্রছাত্রীদের দাবি দাওয়া নিয়ে কোন কমিটি গঠন হয়নি৷ যার কারণে পড়ুয়াদের বিভিন্ন সমস্যা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্ব পায় না৷ তাদের অভিযোগ, কলেজে লাইব্রেরি নেই৷ হোস্টেল থাকার কথা থাকলেও নতুন বিল্ডিং হয়েছে অনেকে দিন আগেই৷ কিন্তু ব্যবহারের জন্য ঐ বিল্ডিংগুলি উন্মুক্ত করা হচ্ছে না৷ এই সমস্ত ইস্যুতে কলেজের পড়ুয়ারা সিদ্ধান্ত নেয় খুব শীঘ্রই কলেজে ধর্মঘট পালন করা হবে৷ এরই অঙ্গ হিসেবে আজ সকালে কলেজ গেইটের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন পড়ুয়ারা৷ তাদের আরো অভিযোগ, প্রফেসরদের রক্তচক্ষুর মুখোমুখি হতে হচ্ছে৷ জনৈক পড়ুয়া জানিয়েছে, তাদের শাসানো হয়েছে যদি এই ধরনের আন্দোলন কর্মসূচী বন্ধ না করা হয় তাহলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়া হবে৷ তাদের আরো অভিযোগ, কোন ছাত্র ইউনিয়ন নেই৷ অথচ ছাত্র ইউনিয়নের নাম করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬০ টাকা করে নেওয়া হয়৷ কলেজে মোট দেড় হাজার ছাত্রছাত্রী রয়েছে৷ ঐ টাকা কোথায় যাচ্ছে প্রশ্ণ তুলেন পড়ুয়ারা৷
ছাত্র বিক্ষোভের বিষয়ে কোন কথা বলতে চাননি কলেজ কর্তৃপক্ষ৷ বার বার পড়ুয়াদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কলেজের অস্থায়ী অধ্যক্ষ সহ প্রফেসররা এড়িয়ে গেছেন৷ তাতে অনেকটাই স্পষ্ট যে পড়ুয়াদের অভিযোগ মিথ্যে নয়৷

